কয়েকটি খাদ্য উপাদানের হালাল-হারাম পরিচিতি


কোনো মুসলিম দেশ থেকে কোনো খাবার ইম্পোর্ট হয়ে আসলেই তা হালাল নয়। কারণ বিভিন্ন কাফিরের দেশ থেকে বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান যাচ্ছে, যেগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। ফলে খাবারের উপাদানগুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও তথ্য থাকা প্রয়োজন যদিও সকলের জন্য এ বিষয়ে অবগত হওয়া খুব কঠিন।
নিচে কয়েকটি উপাদানের নাম ও তথ্য প্রদান করা হলো- যেগুলো নিয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বেকন (Bacon): শূকরের গোশতের একটি অংশ। যা হারাম।
কোলেস্টেরল: এক ধরনের ফ্যাট এবং সবসময় প্রাণীজ উৎস থেকেই হয়। কেবল হালালভাবে যবেহকৃত হালাল প্রাণীর হলে খাওয়ার উপযুক্ত হবে। সাধারণভাবে হারাম।
ডাই-গ্লিসারাইড (Di-glyceride): এক ধরনের ইমালসিফায়ার। প্রাণীজ উৎস হলে নিশ্চিত হওয়া দরকার। সাধারণভাবে হারাম।
জিলাটিন (Gelatin, Jello Gelatin): অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাণীজ উৎস এবং শূকর। কোলাজেন থেকে তৈরি হলেও জিলাটিনের মধ্যে মূল বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকে না বলে হালাল, তবে নিশ্চিত শূকরের উৎস হলে গ্রহণ করা তাকওয়ার খিলাফ। যবেহকৃত হালাল প্রাণীর উৎস হলে নিশ্চিতভাবে হালাল।
গ্লিসারল (Glycerol, Glycerine): এটি প্রাণীর থেকেও হয় ভেষজ থেকেও হয়। প্রাণীর উৎসগুলো যথেষ্ট সন্দেহজনক এবং ব্যবহার করা তাকওয়ার খিলাফ। তবে ভেষজ উৎসের গ্লিসারিন বাজারে পাওয়া যায়।
হরমোন (Hormones): সাধারণত যে হরমোনগুলো মানুষ ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করে তা সংগ্রহিত হয় প্রাণী থেকে। হরমোন সয়া (Soya) এবং মেটে আলু বা গাছ আলু (Yam) থেকেও সংগ্রহ করা হয়। তবে প্রাকৃতিক উৎস হলেই তা সবসময় নিরাপদ নয়। আবার সিনথেটিক হরমোনও তৈরি করা হয়। হালাল আর নিরাপদের বিবেচনায় এখন পর্যন্ত সিনথেটিক হরমোনে ভালো ফল পাওয়া গেছে। তবে এটি চেনা খুব দুরূহ কোন্টি হালাল উৎসের আর কোন্টি হারাম উৎসের। এ নিয়ে বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
লারড (Lard): লারড এক ধরনের ফ্যাট, যা শূকরের পাকস্থলীতে পাওয়া যায়। মুসলমানদের জন্য হারাম।
ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট (Magnesium Stearate, stearic acid): ওষুধ শিল্পে বিশেষভাবে ট্যাবলেট তৈরি তে প্রয়োজন হয়। হারাম প্রাণী থেকে হলে হারাম হবে বলে বলা হচ্ছে, তবে মলিকুলার মডিফিকেশন হলে হারাম হবে না।
Mono Glyceride (মনো গ্লিসারাইড): যখন প্রাণীর উৎস থেকে নেয়া হবে, তখন হারাম আর উদ্ভিজ উৎস হলে হালাল।
পেপসিন (Pepsin): এক ধরনের ডাইজেস্টিভ এনজাইম, যা শূকরের পাকস্থলীতে পাওয়া যায়। বাজারের অধিকাংশ পেপসিন শূকর থেকে সংগ্রহীত। যা হারাম।
রেনিন (Rennin/Rennet): এক ধরনের প্রোটিন এনজাইম, যা সাধারণত বিদেশী পনিরে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শূকরের উৎস থেকে সংগ্রহীত হয়। খাওয়া হারাম।
শরটেনিং (Shortening): প্রাণীর উৎস থেকে নেয়া ফ্যাট ও তেল। সাধারণত শূকরের উৎস থেকে নেয়া।
ভ্যানিলা (Vanilla): সাধারণত বাজারে পাওয়া যায় ভ্যানিলিন, যা কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুতের সময় অ্যালকোহলের ব্যবহার হলেও পরে তা মূল উপাদানে থাকে না। কিন্তু ভ্যানিলা ফল থেকে সংগ্রহ করা ফ্লেভারে অ্যালকোহল থাকে এবং সেগুলির দামও অনেক বেশি কারণ অ্যালকোহল দ্বারা এক্সট্রাকশন করা হয়। ভ্যানিলিন পাউডার হালাল আবার এর দ্বারা তৈরি তরল ফ্লেভারেও “অ্যালকোহল মুক্ত” লেখা থাকে। বাজারে হালাল ভ্যানিলিন বেশী পাওয়া যায় কারণ সেটি সস্তা।
ভিটামিন (Vitamins): প্রাণীজ উৎস হলে হারাম হবে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয় সিনথেটিক অথবা ভেষজ উৎস, যা হালাল। তবে কিছু ভিটামিন ব্যাক্টেরিয়া কালচার থেকে হয়; সেগুলো হারাম হবে, যেমন- রিবোফ্লেভিন।
ছানার পানি (Whey): ক্রীম ও দইতে ব্যবহার করা হয়। প্রাণীর উৎস হলে হারাম হবে।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে