খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হাবীবুল্লাহ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত দ্বিতীয়া আওলাদ তয়্যিবাহ, হুমায়রা, ছিদ্দীকাহ্, আতীকাহ্, জামীলাহ্, হাবীবাতুল্লাহ্, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস ১৯ রবিউছ ছানী শরীফ স্মরণে


আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস ১৯ রবিউছ ছানী শরীফ স্মরনে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলতের কিছু অংশ তুলে ধরা হলোঃ

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই আমার হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতী মুবারক উনার অনুরূপ। উনার মধ্যে যাঁরা আরোহণ করেছিলো উনারা নাযাত পেয়েছিলো।’ অর্থাৎ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে যারা মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীম করবে উনারাও নাযাত লাভ করবে। আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত জুযয়ে ঈমান। তাই প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও খিদমত মুবারক করে ইহকাল ও পরকালে নাযাত লাভ করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি নিয়ামত রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব। যার মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। তোমরা পবিত্র কিতাবুল্লাহ উনাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়িয়ে ধরো।” তিনি পবিত্র কিতাবুল্লাহ উনার প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, “দ্বিতীয়টি হলো, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বা (আওলাদগণ) বংশধরগণ। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি। উনাদের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছি।” অর্থাৎ আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে ঈমান। আর হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে জুযয়ে ঈমান। যাঁরা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বংশের বা উনাদের আওলাদ উনারাই আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো মুসলমান ব্যক্তির অন্তরে ঈমান দাখিল হবে না (হাক্বীক্বীভাবে ঈমানদার হবে না) যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য আমার বংশধর হওয়ার কারণে কুরাঈশদেরকে মুহব্বত না করবে।” আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই কুরাঈশ উনার অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে জুযে ঈমান। তিনি ‘পবিত্র সিররুশ শাহাদাতাইন শরীফ’ কিতাব উনার বরাত দিয়ে বলেন, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খুছুছিয়ত, মর্যাদা, মর্তবা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমার আওলাদগণ উনাদের উদাহরণ হলো- হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়। যে উনার মধ্যে প্রবেশ করেছে (অর্থাৎ যে আমার আওলাদ উনাদেরকে মুহব্বত করেছে) সেই নাজাত পেয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! সেজন্যই অতীতের সকল হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও ওলীআল্লাহ উনারা সকলেই হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে প্রাণ উজাড় করে মুহব্বত করেছেন।

এ সম্পর্কে ইমামুল আইম্মাহ, ইমামুল আ’যম, হাকিমুল হাদীছ হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী মুবারক উনার একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একবার তিনি একস্থানে বসে স্বীয় ছাত্রদেরকে দর্স দিচ্ছিলেন। দর্স প্রদানরত অবস্থায় তিনি কিছুক্ষণ পর পরই দর্স বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন। যখন দর্স শেষ হলো, তখন ছাত্ররা প্রশ্ন করলো, “হে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! বেয়াদবী ক্ষমা করবেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আপনি বারবার দর্স বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন, এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?” উত্তরে তিনি বললেন যে, “তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছো যে, আমাদের দরসগাহের পাশেই কিছু ছোট ছেলেরা দৌড়াদৌড়ি করছিলো। তন্মধ্যে অমুক ছেলেটি বার বার আমার নিকটবর্তী হলেই আমি দাঁড়িয়ে যেতাম।” ছাত্ররা জানতে চাইলো, সেই ছোট ছেলেটি আপনার নিকটবর্তী হলে কেনো দাঁড়িয়ে যেতেন? তখন ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন যে, “দেখ, সেই ছেলে তিনি আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর। উনার সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রক্ত মুবারক উনার সম্পর্ক রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সেজন্য যখনই তিনি আমাদের দর্সগাহের নিকটবর্তী হয়েছেন তখনই আমি উনার সম্মানার্থে দাঁড়িয়েছি। কেননা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন করা জুযে ঈমান তথা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত জুযয়ে ঈমান।

তাই প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম ও খিদমত করে ইহকাল ও পরকালে নাযাত লাভ করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।

* স্মরণে ১৯ শে রবিউছ ছানী শরীফ। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কিছু মুবারক কারামত..

* নিবরাসাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যমণি

* ১৯শে রবীউছ ছানী শরীফ উপলক্ষে ঈদ পালন করার বেমেছাল ফযীলত..

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. chader alo says:

    মোবারক হো ঈদে বিলাদতে নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম,মোবারক হো ১৯ শে রবীুউছ ছানী শরীফ। Moon Star Moon

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে