খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মাদারযাদ ওলীআল্লাহ


‘তাযকিরাতুল আউলিয়া’ কিতাবসমূহে সাধারণত দু’শ্রেণীর ওলীআল্লাহ উনাদের সন্ধান পাওয়া যায়। এক শ্রেণীর ওলীআল্লাহ আছেন, যাঁদেরকে প্রাথমিক জীবনে ওলীআল্লাহগণ উনাদের খিলাফ বা বিপরীত কার্যকলাপে জড়িত থাকতে দেখা যায়। পরবর্তী জীবনে উনারা ওলীআল্লাহগণ উনাদের কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যান। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত-পথের উপর ইস্তিকামত থেকেই পরম করুণাময় মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক দীদারে মিলিত হন।
অপর শ্রেণীর ওলীআল্লাহ উনারা জন্মলগ্ন থেকেই ওলীআল্লাহ। উনারা সৃষ্টিগতভাবে ওলীআল্লাহ। উনারা মাহবুব শ্রেণীর ওলীআল্লাহও বটে। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উনারদেরকে তরবিয়ত দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ খাছভাবে লালন-পালন করে থাকেন। শৈশবকাল থেকেই উনারা শরীয়তের পূর্ণ পাবন্দ। পরহেযগার বা মুত্তাক্বী। উনারা ইচ্ছা করেও মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টির খিলাফ কোন কাজ করতে পারেন না। আর উনাদেরকেই মাদারযাদ ওলীআল্লাহ বলা হয়। মাদারযাদ ওলী বলতে বুঝায়, মায়ের রেহেম শরীফ থেকেই যিনি ওলীআল্লাহ। উনারা যা দেখেন মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী চোখ মুবারক দিয়ে দেখেন। যা শুনেন তা মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী কান মুবারক দিয়েই তা শুনেন। যা বলেন তা মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী মুখ মুবারক দিয়েই বলেন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী পা মুবারক দ্বারাই হাঁটা-চলা করেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী হাত মুবারক দিয়েই সব কাজ করে থাকেন!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফখানা সে দিকেই দালালত বা নির্দেশ করে। তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা হাক্বীক্বী মু’মিন (ওলীআল্লাহ)গণ উনাদের ফিরাসাত বা অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় কর। কারণ উনারা উনাদের রব মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা সবকিছু দেখে থাকেন।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি যা যা দেখেন উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা তা দেখেন, সেভাবেই দেখেন। সুবহানাল্লাহ!
খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সেই মাদারযাদ ওলীআল্লাহ। যিনি মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলহাম-ইলকা ব্যতীত উনার মুখ মুবারক খোলেন না। কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত করেন না। তিনি যেন কোনো কিছু শুনতেই পান না ইলহাম-ইলকা ব্যতীত। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা সবকিছুই দেখেন। হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ইতায়াত বা অনুসরণ-অনুকরণকারী। তাক্বওয়া বা খোদাভীতির চূড়ান্ত স্তরে সমাসীন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফত-মুহব্বত হাছিলের কোশেশকারীগণের জন্য আদর্শ।
একবার উনাদের সাথে আমি অধমের সফর করার সৌভাগ্য হলো। সফর করে আমরা তখন যশোরে পৌঁছলাম। অবস্থান স্থল হলো একটি আবাসিক হোটেল। হোটেলের কয়েকটি রুম তিনি ঘুরে ঘুরে দেখছেন। এক পর্যায়ে আমাদের পাশের রুমে তাশরীফ নিলেন। তিনি সেখানে উনার খাদিমগণ উনাদের সাথে কথাবার্তা বলছেন। অনেক্ষণ ধরে হাঁটা-চলা করছেন। উনার পরনে ছিল স্যালোয়ার মুবারক। হঠাৎ আমার দৃষ্টি পড়লো উনার পা মুবারকের দিকে। দেখতে পেলাম উনার স্যালোয়ার মুবারক তাক্বওয়ার সীমার মধ্যে। এতো দীর্ঘ সময়ে, ব্যস্ত মুহূর্তেও উনার সেই স্যালোয়ার মুবারক তাক্বওয়ার সীমাও অতিক্রম করতে পারেনি। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, যারা স্যালোয়ার পরেন তাদের প্রায় ৯৫ ভাগ লোকের স্যালোয়ার টাখনু বা গিরার নিচে থাকে। আর অল্প বয়সের শিশুদের বেলায় তো কোনো কথাই নেই। সবারই স্যালোয়ার গিরার নিচে পড়ে যায়। অথচ টাখনু বা গিরার নিচে ঝুলিয়ে স্যালোয়ার, পায়জামা, লুঙ্গি ইত্যাদি পরিধান করা হারাম। আর খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা আমাদের শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্যালোয়ার মুবারক জায়িযের সীমায় তো রয়েছেই। এমনকি তাক্বওয়ার সীমা পর্যন্ত অতিক্রম করেনি। যে কেউ দেখলেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে বাধ্য হবে। সুবহানাল্লাহ! আর অতিক্রম করবেইবা কী করে। তিনি যে মাদারযাদ ওলীআল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক উনার সব কাজই কুদরতীভাবে করে দেন। খোদ মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই উনার প্রতিপালনকারী। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে