খলীফাতুল উমাম আল মানছূর আলাইহি সালাম উনার মুবারক আলোচনা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে!


মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيْبًا
অর্থ: “আর আমি তাদের মাঝে ১২ জন নক্বীব তথা খলীফা প্রেরণ করেছি।” (সম্মানিত সূরা মায়িদা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ- ১২)
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত মুফাসসির, হাফিয আবুল ফিদা আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর শরীফ’ উনার ২য় জিলদের ৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
عَنْ حَضْرَتْ مَسْرُوْقٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا عِنْدَ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ وَهُوَ يُقْرِئُنَا الْقُرْاٰنَ فَقَالَ لَهٗ رَجُلٌ يَا حَضْرَتْ اَبَا عَبْدِ الرَّحْمٰنِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ هَلْ سَأَلْتُمْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمْ يَـمْلِكُ هٰذِهِ الْأُمَّةَ مِنْ خَلِيْفَةٍ ؟ فَقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ مَا سَاَلَنِىْ عَنْهَا اَحَدٌ مُنْذُ قَدِمْتُ الْعِرَاقَ قَبْلَكَ، ثُـمَّ قَالَ نَعَمْ وَلَقَدْ سَأَلْنَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اثْنَا عَشَرَ كَعِدَّةِ نُقَبَاءِ بَنِيْ اِسْرَائِيْلَ.
অর্থ: “বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত মাসরূক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার তা’লীমী মজলিস মুবারক-এ বসা ছিলাম। আর তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছিলেন, আমাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শিক্ষা দিচ্ছিলেন। (যখন তিনি উপরোক্ত সম্মানিত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন) তখন এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনারা কি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই বিষয়ে সুওয়াল করেছিলেন যে, এই উম্মতের মাঝে কতজন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন? জবাবে ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি ইরাকে তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর আপনার আগে ইতোপূর্বে আমাকে আর কেউ এই বিষয়ে সুওয়াল করেনি। অতঃপর তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরা এই বিষয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করেছিলাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, বনী ইসরাইলের ১২ জন নাক্বীব উনাদের ন্যায় এই উম্মতের মাঝে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত খিলাফত আল মিনাহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” (সুবহানাল্লাহ) (মুসনাদে আহমদ ৬/৩২১, মুসনাদে বাযযার, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫৪৬, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৮/৪৪৪, মাজমাউঝ ঝাওয়াইদ ৫/২২৮, জামিউল আহাদীছ ২৪/২৪৮, জাম‘উল জাওয়ামি’, গয়াতুল মাক্বছাদ, আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ লিলহাইতামী ১/৫৪, ফাতহুল বারী ১৩/২১২, তোহফাতুল আহওয়ায ৫/৬, তারীখুল খুলাফা ৮ নং পৃষ্ঠা, ইবনে কাছীর ২/৫৩, মুখতাছারে তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/৪৯৫ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَـمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَا يَزَالُ الْاِسْلَامُ عَزِيْزًا اِلَى اثْنَىْ عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مّـِنْ قُرَيْشٍ وَفِىْ رِوَايَةٍ لَا تَزَالُ أُمَّتِىْ عَلَى الْحَقِﹼ ظَاهِرِيْنَ ولَا يَزَالُ اَمْرُ أُمَّتِىْ صَالِـحًا لَا يَضُرُّهُمْ عَدَاوَةُ مَنْ عَادَاهُمْ حَتّٰى يَلِيَهُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مّـِنْ قُرَيْشٍ وَفِىْ رِوَايَةٍ لَا يَزَالُ الدِﹼيْنُ قَائِمًا حَتّٰى تَقُوْمَ السَّاعَةُ أَوْ يَكُوْنُ عَلَيْهِمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مّـِنْ قُرَيْشٍ .
“হযরত জাবির ইবনে সমুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, দ্বীন ইসলাম ততদিন পর্যন্ত পরাক্রমশালী থাকবে, কুওওয়াতশালী থাকবে যতদিন পর্যন্ত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আর্বিভাব ঘটবে। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় হবেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমার সম্মানিত উম্মত উনারা ততদিন পর্যন্ত সম্মানিত হক্ব উনার উপর অবিচল থাকবেন, উনাদের সম্মানিত শাসন ব্যবস্থা তথা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবরক ততদিন পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং উনাদের শত্রুরা উনাদের বিরোধিতা করে কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, যতদিন পর্যন্ত উনাদের মাঝে ১২জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় হবেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ক্বিয়ামত অবধি সময়ের মধ্যে দ্বীন ইসলাম শক্তিশালী থাকবে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় হবেন।” (সুবহানাল্লাহ) { দলীল সমূহ : (১) বুখারী, (২) মুসলিম, (৩) আবূ দাউদ, (৪) তিরমিযী, (৫-১০) মুসনাদে আহমদ ৫/৮৭, ৮৮, ৮৯, ৯২, ১০৬, ১০৭, (১১-১৪) মুসনাদে বাযযার ৫/৩২০, ১০/১৫৮, ১৯৪, ১৯৭, (১৫) মুসনাদে আবূ ইয়া’লা ১৩/৩৭৯, (১৬Ñ১৭) মু’জামুছ ছাহাবাহ ১/১৪৪, ৩/২৩৪, (১৮-২২) মুসতাখরাজে আবী আওয়ানা ৮/১৪০, ১৪২, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, (২৩-২৪) মুস্তাদরকে হাকিম ৩/৭১৫, ৭১৬, (২৫) মুসনাদে ইবনে জা’দ ১/৩৯০, (২৬-২৭) মুসনাদে ত্বয়ালসী ১/১০৫, ১৮০, (২৮) দায়লামী ৫/১০২, (২৯) আবী শায়বাহ ৬/৩৬৩, (৩০) দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৬/৫২০, (৩১-৩৯) আল মু’জামুল কাবীর ২/২৭৪, ২৭৫, ২৭৮, ২৭৯, ২৯৩, ৩০৩, ৩৬৩, ৩৬৭, ১৫/৪৯৫, (৪০) আল মু’জামুল আওসাত্ব ৬/২৬৮, (৪১) মু’জামুশ শুয়ূখ ১/৩২৭, (৪২) আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৩/১৫৩, (৪৩) শরহুস সুন্নাহ ১৫/৩০, (৪৪) সুন্নাহ ২/৫৩২, (৪৫) মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী নাঈম ১/৭৭, (৪৬) তাসমিয়াতু মা রওয়াহু সাঈদ ইবনে মানছূর লিআবী নাঈম ১/১৫, (৪৭) হাদীছুল আনছারী ১/৭১, (৪৮) ফাদ্বাইলুল খুলাফাইর রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম লি আবী নাঈম ১/৩২৩, (৪৯) কিতাবুল ফাওয়াইদ ১/৪১১, (৫০-৫১) সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান ২/৪৯২, ৫/৯৫৫, (৫২-৫৩) ইবনে হাব্বান ১৫/ ৪৩-৪৪, (৫৪) ইবনে জা’দ, (৫৫-৬০) জামিউল আহাদীছ ১৬/১২৯, ১৭/১২৯, ১৩৩, ১৪৭, ১৫১, ১৯০, (৬১-৬৮) জামউল জাওয়ামি’ ১/১৮০৪৪, ১৯৩৮৮, ১৯৩৮৯, ১৯৩৯৮, ১৯৩৯৯, ১৯৪৪১, ১৯৪৪৮, ১৯৫৫৬, (৬৯-৭০) ইস্তিয়াব ১/১৯৮, ২/৬৫৬, (৭১) জামি’উল উছূল ৪/২০২২, (৭২) খছাইছুল কুবরা ২/১৭৫, (৭৩) তারীখুল খুলাফা ৮ পৃষ্ঠা, (৭৪-৭৬) মুখতাছারু তারীখি দিমাশক্ব ১/৩৯২, ৩/৩২১, ৮/১৪৮, (৭৭) তারীখে বাগদাদ, (৭৮) ফাতহুল কাবীর ৩/৩৪৮, (৭৯) মাজমাউঝ ঝাওয়াইদ ৫/২২৮, (৮০) মাত্বালিবুল আলিয়া, (৮১) দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিআবী নাঈম ২/৭৯, (৮২-৮৩) সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৮৩, ১২৩, (৮৪) ক্বছাছুল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম লি ইবনে কাছীর ১/২০১, (৮৫) আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ১/৫৪, (৮৬) ইযালাতুল খফা ১/৩২৩, (৮৭-৯১) বিদায়া-নিহায়া ১/১৭৭, ৬/২১৫, ২২১, ২৭৮, ২৭৯, (৯২-৯৩) আন নিহায়া ফিল ফিতান ১/৫, ১৫, (৯৪) তারীখ লিআবী নাঈম ১/২৭৩, (৯৫) তারীখে ইবনে খালদুন ১/৩২৫, (৯৬) মিশকাত শরীফ ৫৫০ পৃষ্ঠা, (৯৭) মিরকাত, (৯৮) আশয়াতুল লুমাত, (৯৯) শরহুত ত্বিবী, (১০০-১০১) আত তারীখুল কাবীর লিল বুখারী ১/৪৪৬, ৮/৪১১, (১০২) আছ ছিক্বাত ৭/২৪২, (১০৩) তাহযীবুল কামাল ৩/২২৪, (১০৪) সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৯/৩৯৮, (১০৫) আল হাওই ২/৮০, (১০৬-১০৭) ফাতহুল বারী ১৩/২১১, ২১২, (১০৮) উমদাতুল ক্বারী ৩৫/৩২৭, (১০৯) ইকমাল ৬/১১১, (১১০) আল মুফহিম ১২/৬৮, (১১১) শরহুন নববী ৬/২৮৫, (১১২) আদ দীবাজ ৪/৪৪০, (১১৩) কাশফুল মুশকিল ১/২৮৯, (১১৪-১১৫) তুহফাতুল আহওয়ায ৬/৫, ৮, (১১৬) ফখরিল আরব ১/৩, (১১৭) আওনুল মা’বূদ ৯ম খ-, (১১৮) আল ‘উরফ ১/১৫১, (১১৯) ফী কিতাবিল আহকাম ২/৫৩৮, (১২০-১২২) তুহফাতুল আশরাফ ২/১৪৮, ১৫১, ১৬১, (১২৩-১২৬) কানযুল উম্মাল ১১/১৩৫, ১৫২, ১২/৩২, ১২/৩৩, তারীখুল খুলাফা ৪৬ পৃষ্ঠা ইত্যাদি। এছাড়াও পৃথিবীর আরো অন্যান্য বিশ্বখ্যাত কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা রয়েছে। (সুবহানাল্লাহ)}
সুতরাং সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আওলাদে রসূল, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সায়্যিদুনা ইমাম হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল উমাম হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম দুইজন সম্মানিত বিশেষ খলীফা আলাইহিমাছ ছলাতু ওয়াস সালাম। উনাদের মুবারক আলোচনা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে তো অবশ্যই; এমনকি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যেও রয়েছে। (সুবহানাল্লাহ)
এই প্রসঙ্গে হাফিয আবুল ফিদা হযরত আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহতে’ সম্মানিত তাওরাত শরীফ উনার উদ্ধৃতি মুবারক তুলে ধরেন,
اِنَّ اللهَ تَعَالـٰی بَشَّرَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـحَضْرَتْ اِسْـمَاعِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأَنَّهٗ يُنَمّـِيْهِ وَيُكَثّـِرُهٗ وَيَـجْعَلُ مِنْ ذُرِﹼيَّتِهِ اثْنَىْ عَشَرَ عَظِيْمًا.
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেন এবং বলেন যে, নিশ্চয়ই তিনি হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম উনার মুবারক বংশধর উনাদের উন্নতি হাদিয়া করবেন এবং উনাদের মধ্য থেকে ১২ জন মহান খলীফা আলইহিমুস সালাম উনাদের আবির্ভাব মুবারক ঘটাবেন।” (সুবহানাল্লাহ) (বিদয়া-নিহায়া-৭/৪৮)
এছাড়াও হাফিয আবুল ফিদা হযরত আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সর্বজনমান্য ও বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন-
وَفِى التَّوْرَاةِ الْبِشَارَةُ بِـحَضْرَتْ اِسْـمَاعِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَأَنَّ اللهَ يُقِيْمُ مِنْ صُلْبِهِ اثْنَىْ عَشَرَ عَظِيْمًا، وَهُمْ هٰؤُلَاءِ الْـخُلَفَاءُ الْاِثْنَا عَشَرَ الْمَذْكُوْرُوْنَ فِىْ حَدِيْثِ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ وَ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَـمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ.
অর্থ: “সম্মানিত তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সুসংবাদ প্রদানের বিষয়টি বর্ণনার পর এই কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বংশধর উনাদের মধ্য থেকে ১২ জন মহান ব্যক্তিত্ব তথা মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আবির্ভাব ঘটাবেন। আর উনারা হচ্ছেন ওই ১২ জন সম্মানিত মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম যাঁদের মুবারক আলোচনা ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এবং বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের থেকে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে রয়েছে। (যেগুলো আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। যেমন-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَـمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَا يَزَالُ الْاِسْلَامُ عَزِيْزًا اِلَى اثْنَىْ عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مّـِنْ قُرَيْشٍ.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, দ্বীন ইসলাম ততদিন যাবৎ পরাক্রমশালী থাকবে, কুওওয়াতশালী থাকবে যতদিন পর্যন্ত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আর্বিভাব ঘটবে। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয় হবেন।) (তাফসীরে ইবনে কাছীর ২য় জিলদ ৫৩ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল-আদিল্লাহ ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি অত্যান্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত উম্মত উনাদের মাঝে ক্বিয়ামত অবধি সময়ের মধ্যে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আবির্ভাব ঘটবে এবং উনাদের মুবারক আলোচনা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে রয়েছে। আর আমাদের প্রাণের আক্বা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এবং খলীফাতুল উমাম হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনারা হচ্ছেন এই ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম দুইজন বিশেষ সম্মানিত খলীফা আলাইহিমাছ ছলাতু ওয়াস সালাম। (সুবহানাল্লাহ) সুতরাং উনাদের মুবারক আলোচনা যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে রয়েছে সেই বিষয়টিও সুস্পষ্ট হয়ে গেল। (সুবহানাল্লাহ)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে