খলীফাতুল উমাম হযরত আল মানছূর আলাইহি সালাম!


মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيْبًا
অর্থ: “আর আমি তাদের মাঝে ১২ জন নক্বীব তথা খলীফা প্রেরণ করেছি।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ- ১২)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত মুফাসসির, হাফিয আবুল ফিদা আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর শরীফ’ উনার ২য় জিলদের ৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
عَنْ حَضْرَتْ مَسْرُوْقٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا عِنْدَ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ وَهُوَ يُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا حَضْرَتْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ هَلْ سَأَلْتُمْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمْ يَمْلِكُ هَذِهِ الْأُمَّةَ مِنْ خَلِيْفَةٍ ؟ فَقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ مَا سَأَلَنِيْ عَنْهَا أَحَدٌ مُنْذُ قَدِمْتُ الْعِرَاقَ قَبْلَكَ، ثُـمَّ قَالَ نَعَمْ وَلَقَدْ سَأَلْنَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اثْنَا عَشَرَ كَعِدَّةِ نُقَبَاءِ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ.
“বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মাসরূক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার তা’লীমী মজলিস মুবারক-এ বসা ছিলাম। আর তিনি আমাদেরকে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছিলেন, আমাদেরকে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শিক্ষা দিচ্ছিলেন। (যখন তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন) তখন এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনারা কি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই বিষয়ে সুওয়াল করেছিলেন যে, এই উম্মতের মাঝে কতজন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন? জবাবে ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি ইরাকে তাশরীফ নেয়ার পর তোমার আগে ইতঃপূর্বে আমাকে আর কেউ এই বিষয়ে সুওয়াল করেনি। অতঃপর তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরা এই বিষয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করেছিলাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, বনী ইসরাইলের ১২ জন নাক্বীবগণ উনাদের ন্যায় এই উম্মতের মাঝে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত খিলাফত আল মিনাহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।”(মুসনাদে আহমদ ৬ষ্ঠ খ- ৩২১ পৃষ্ঠা, মুসনাদে বাযযার, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫৪৬, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৮/৪৪৪, মাজমাউঝ ঝাওয়াইদ ৫ম খ- ২২৮ পৃষ্ঠা, জামিউল আহাদীছ ২৪/২৪৮, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১ম খ-, গয়াতুল মাক্বছাদ ১ম, আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ১/৫৪, ফাতহুল বারী ১৩/২১২, তোহফাতুল আহওয়ায ৫/৬, তারীখুল খুলাফা ৮ নং পৃষ্ঠা, ইবনে কাছীর ২য় জিলদ ৫৩ পৃষ্ঠা, মুখতাছারে তাফসীরে ইবনে কাছীর ১ম জিলদ ৪৯৫ পৃষ্ঠা)
‘শরহুস সুন্নাহ শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ يَكُوْنُ خَلْفِيْ اِثْنَا عَشَرَ خَلِيْفَةً أَبُو بَكْر الصّدّيقُ لا يَلْبَثُ بَعْدِيْ إِلَّا قَلِيْلًا.
“বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দূল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,“আমরা পরে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম হবেন তথা আমার উম্মাতের মাঝে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আবির্ভাব ঘটবে। হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি অল্প সময় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” (তারীখুল খুলাফা লিস সুয়ূত্বী ৪৬ পৃষ্ঠা, শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَا يَزَالُ الْإِسْلَامُ عَزِيْزًا إِلَى اثْنَيْ عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ وَفِيْ رِوَايَةٍ لا تَزَالُ أُمَّتِيْ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ ولاَ يَزَالُ أَمْرُ أُمَّتِىْ صَالِحًا لَا يَضُرُّهُمْ عَدَاوَةُ مَنْ عَادَاهُمْ حَتَّى يَلِيَهُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ وَفِي رِوَايَةٍ لَا يَزَالُ الدِّيْنُ قَائِمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَة أَوْ يَكُوْنُ عَلَيْهِمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيْفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ .
“হযরত জাবির ইবনে সমুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, দ্বীন ইসলাম ততদিন পর্যন্ত পরাক্রমশালী থাকবে, কুওওয়াতশালী থাকবে যতদিন পর্যন্ত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আর্বিভাব ঘটবে। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয় হবেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমার সম্মানিত উম্মত উনারা ততদিন পর্যন্ত পবিত্র হক্ব উনার উপর অবিচল থাকবেন, উনাদের সম্মানিত শাসন ব্যবস্থা তথা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবরক ততদিন পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং উনাদের শত্রুরা উনাদের বিরোধীতা করে কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না যতদিন পর্যন্ত উনাদের মাঝে ১২জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয় হবেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ক্বিয়ামত অবধি সময়ের মধ্যে দ্বীন ইসলাম শক্তিশালী থাকবে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে। উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয় হবেন।” সুবহানাল্লাহ! { দলীল সমূহ : (১) বুখারী শরীফ, (২) মুসলিম শরীফ, (৩) আবূ দাউদ শরীফ, (৪) তিরমিযী শরীফ, (৫-১০) মুসনাদে আহমদ শরীফ ৫/৮৭, ৮৮, ৮৯, ৯২, ১০৬, ১০৭, (১১-১৪) মুসনাদে বাযযার শরীফ ৫/৩২০, ১০/১৫৮, ১৯৪, ১৯৭, (১৫) মুসনাদে আবূ ইয়া’লা শরীফ ১৩/৩৭৯, (১৬Ñ১৭) মু’জামুছ ছাহাবাহ ১/১৪৪, ৩/২৩৪, (১৮) মুসতাখরাজে (১৯-২৩) আবূ আওয়ানা শরীফ ৮/১৪০, ১৪২, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, (২৪-২৫) মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফ ৩/৭১৫, ৭১৬, (২৬) মুসনাদে ইবনে জা’দ ১/৩৯০, (২৭-২৮) মুসনাদে ত্বয়ালসী ১/১০৫, ১৮০, (২৯) দায়লামী শরীফ ৫/১০২, (৩০) মুছান্নাফে আবী শায়বাহ শরীফ ৬/৩৬৩, (৩১) দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৬/৫২০, (৩২-৪০) আল মু’জামুল কাবীর ২/২৭৪, ২৭৫, ২৭৮, ২৭৯, ২৯৩, ৩০৩, ৩৬৩, ৩৬৭, ১৫/৪৯৫, (৪১) আল মু’জামুল আওসাত্ব ৬/২৬৮, (৪২) মু’জামুশ শুয়ূখ ১/৩২৭, (৪৩) আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৩/১৫৩, (৪৪) শরহুস সুন্নাহ শরীফ ১৫/৩০, (৪৫) আস সুন্নাহ ২/৫৩২, (৪৬) মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লি আবী নাঈম ১/৭৭, (৪৭) তাসমিয়াতু মা রওয়াহু সাঈদ ইবনে মানছূর লি আবী নাঈম ১/১৫, (৪৮) হাদীছুল আনছারী ১/৭১, (৪৯) ফাদ্বাইলুল খুলাফাইর রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম লি আবী নাঈম ১/৩২৩, (৫০) কিতাবুল ফাওয়াইদ ১/৪১১, (৫১-৫২) সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান শরীফ ২/৪৯২, ৫/৯৫৫, (৫৩-৫৪) ইবনে হাব্বান শরীফ ১৫/ ৪৩-৪৪, (৫৫) ইবনে জা’দ শরীফ, (৫৬-৬১) জামিউল আহাদীছ শরীফ ১৬/১২৯, ১৭/১২৯, ১৩৩, ১৪৭, ১৫১, ১৯০, (৬২-৬৯) জামউল জাওয়ামী’ শরীফ ১/১৮০৪৪, ১৯৩৮৮, ১৯৩৮৯, ১৯৩৯৮, ১৯৩৯৯, ১৯৪৪১, ১৯৪৪৮, ১৯৫৫৬, (৭০-৭১) ইস্তিয়াব ১/১৯৮, ২/৬৫৬, (৭২) জামি’উল উছূল ৪/২০২২, (৭৩) খছাইছুল কুবরা শরীফ ২/১৭৫, (৭৪) তারীখুল খুলাফা ৮ পৃ, (৭৫-৭৭) মুখতাছারু তারীখি দিমাশক্ব ১/৩৯২, ৩/৩২১, ৮/১৪৮, (৭৮) তারীখে বাগদাদ, (৭৯) আল ফাতহুল কাবীর শরীফ ৩/৩৪৮, (৮০) মাজমাউঝ ঝাওয়াইদ শরীফ ৫/২২৮, (৮১) আল মাত্বালিবুল আলিয়া শরীফ, (৮২) দালাইলুন নুবুওওয়াহ লি আবী নাঈম ২/৭৯, (৮৩-৮৪) সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৮৩, ১২৩, (৮৫) ক্বছাছুল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম লি ইবনে কাছীর ১/২০১, (৮৬) আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ১/৫৪, (৮৭) ইযালাতুল খফা ১/৩২৩, (৮৮-৯২) বিদায়া-নিহায়া ১/১৭৭, ৬/২১৫, ২২১, ২৭৮, ২৭৯, (৯৩-৯৪) আন নিহায়া ফিল ফিতান ১/৫, ১৫, (৯৫) তারীখ লি আবী নাঈম ১/২৭৩, (৯৬) তারীখে ইবনে খালদুন ১/৩২৫, (৯৮) মিশকাত শরীফ ৫৫০ পৃষ্ঠা, (৯৯) মিরকাত, (১০০) আশয়াতুল লুমাত, শরহুত ত্বিবী, (১০১-১০২) আত তারীখুল কাবীর লিল বুখারী ১/৪৪৬, ৮/৪১১, (১০৩) আছ ছিক্বাত ৭/২৪২, (১০৪) তাহযীবুল কামাল ৩/২২৪, (১০৫) সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৯/৩৯৮, (১০৬) আল হাওই ২/৮০, (১০৭-১০৮) আল ফাতহুল বারী ১৩/২১১, ২১২, (১০৯) উমদাতুল ক্বারী ৩৫/৩২৭, (১১০) ইকমাল ৬/১১১, (১১১) আল মুফহিম ১২/৬৮, (১১২) শরহুন নববী ৬/২৮৫, (১১৩) আদ দীবাজ ৪/৪৪০, (১১৪) কাশফুল মুশকিল ১/২৮৯, (১১৫-১১৬) তুহফাতুল আহওয়ায ৬/৫, ৮, (১১৭) ফী ফখরিল আরব ১/৩, (১১৮) আওনুল মা’বূদ ৯ম খ-, (১১৯) আল ‘উরফ ১/১৫১, (১২০) ফী কিতাবিল আহকাম ২/৫৩৮, (১২১-১২৩) তুহফাতুল আশরাফ ২/১৪৮, ১৫১, ১৬১, ইত্যাদি। এছাড়াও পৃথিবীর আরো অন্যান্য বিশ্বখ্যাত কিতাব মুবারক উনার মধ্যে আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!}
‘আবূ দাউদ শরীফ’ উনার মধ্যে অপর এক বর্ণনায় এসেছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لاَ يَزَالُ هذَا الدّيْنُ عَزِيْزًا إِلَى اثْنَىْ عَشَرَ خَلِيْفَةً قَالَ فَكَبَّرَ النَّاسُ وَضَجُّوْا.
“দ্বীন ইসলাম ততদিন যাবত পরাক্রমশালী থাকবে, কুওওয়াতশালী থাকবে যতদিন পর্যন্ত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আর্বিভাব ঘটবে। (উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয় হবেন।)” বর্ণনাকারী তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই মুবারক ভবিষৎবাণী শুনে সমবেত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকেই উচ্চ আওয়ায মুবারক-এ তাকবীর দিলেন তথা খুশি প্রকাশ করলেন, ঈদ পালন করলেন।” সুবহানাল্লাহ। (আবূ দাঊদ শরীফ)
সুতরাং উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হলো যে, ক্বিয়ামত অবধি সময়ের মধ্যে এই উম্মতের মাঝে ১২ জন মহান বিশেষ খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আবির্ভাব ঘটবে। এখানে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ-এ স্পষ্টভাবে ১২ জন খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের কথা বলা হয়েছে। আর এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো ছহীহ হওয়ার ব্যাপারে সমস্ত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত এই ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন বিশেষ খলীফা তথা ১১তম খলীফা, খলীফাতুল উমাম আল মানছুর আলাইহিস সালাম। উনার মুবারক আলোচনা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব মুবারক-এ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে সম্মানিত তাওরাত শরীফ উনার উদ্ধৃত টেনে বলেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَشَّرَ حَضْرَتْ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِحَضْرَتْ إِسْمَاعِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأَنَّهُ يُنَمِّيْهِ وَيُكَثِّرُه وَيَجْعَلُ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ اثْنَىْ عَشَرَ عَظِيْمًا.
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেন এবং বলেন যে, নিশ্চয়ই তিনি হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম উনার মুবারক বংশধর উনাদের উন্নতি হাদিয়া করবেন এবং উনাদের মধ্য থেকে ১২ জন মহান খলীফা আলইহিমুস সালাম উনাদেরকে পয়দা বা সৃষ্টি করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (বিদয়া-নিহায়া-৭/৪৮)
এছাড়াও হযরত আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সর্বজনমান্য ও বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন-
وَفِي التَّوْرَاةِ الْبِشَارَةُ بِحَضْرَتْ إِسْمَاعِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَأَنَّ اللَّهَ يُقِيْمُ مِنْ صُلْبِهِ اثْنَيْ عَشَرَ عَظِيْمًا، وَهُمْ هَؤُلَاءِ الْـخُلَفَاءُ الْاِثْنَا عَشَرَ الْمَذْكُوْرُوْنَ فِيْ حَدِيْثِ حَضْرَتْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ وَحَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ.
“পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সুসংবাদ প্রদানের বিষয়টি বর্ণনার পর এই কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বংশধর উনাদের মধ্য থেকে ১২ জন মহান ব্যক্তিত্ব তথা মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পয়দা বা সৃষ্টি করবেন। আর উনারা হচ্ছেন ওই ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম যাঁদের মুবারক আলোচনা ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এবং বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে সামুরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের থেকে বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে রয়েছে। (যেগুলো আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।) (তাফসীরে ইবনে কাছীর ২য় জিলদ ৫৩ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝাগেল যে, ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আলোচনা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে রয়েছে। আর খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন এই ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন বিশেষ খলীফা তথা ১১তম খলীফা, খলীফাতুল উমাম আল মানছুর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং উনার মুবারক আলোচনা যে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে রয়েছে সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
এই ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে বিশেষ তিন জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে আলাদাভাবে হাদীছ শরীফ রয়েছে। যেমন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَّا السَّفَّاحُ وَمِنَّا الْـمَنْصُوْرُ وَمِنَّا الْـمَهْدِىُّ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের মধ্য থেকে আখাছুল খাছ তিনজন বিশেষ খলীফা আলাইহিমুস সালাম হবেন। উনারা হচ্ছেন- এক. হযরত আস সাফ্ফাহ আলাইহিস্ সালাম, দুই. হযরত আল মানছুর আলাইহিস্ সালাম এবং তিন. হযরত মাহদী আলাইহিস সালাম।” (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী-৬/৫১৪, খছাইছুল কুবরা লিস সুয়ুত্বী-২/২০৩, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ুত্বী-৭/৪১৯ এবং ২০/১৯৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৯২ ইত্যাদি)
আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত এই তিনজন আখাচ্ছুল খাছ মহান খলীফা আলাইহিমুস্ সালাম উনারা হচ্ছেন- এক. হযরত আস সাফ্ফাহ আলাইহিস্ সালাম তথা সর্বকালের সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ, মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন আওলাদে রসূল, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস্ সাফ্ফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম, দুই. হযরত আল মানছুর আলাইহিস্ সালাম তথা মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল উমাম আল মানছুর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস্ সালাম এবং তিন. হযরত মাহদী আলাইহিস্ সালাম তথা হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস্ সালাম।
সুতরাং খলীফাতুল উমাম, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম। উনার মুবারক শানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاَمَّا الْـمَنْصُوْرُ فَلَا تُرَدُّ لَه رَايَةٌ
“আর যিনি মহান খলীফা হযরত মানছূর আলাইহিস সালাম হবেন উনার খিলাফতী নিশানকে কেউ অবনত করতে পারবে না। অর্থাৎ উনার খিলাফতকে কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না।” সুবহানাল্লাহ।
(জামিউল আহাদীছ ৭/৪২০, ১৭/২৫৭, বাইহাক্বী ও আবূ নাঈম-এর বরাতে সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৯২)
প্রকৃতপক্ষে খলীফাতুল উমাম, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীফা হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি খলীফাতুল উমাম, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ললাট মুবারক এ উনার কুদরতী ডান হাত মুবারক বুলিয়ে দিয়ে যাহিরী এবং বাত্বিনী উভয় প্রকার খিলাফতের সর্বোচ্চ মাক্বাম খানা হাদিয়া করেছেন। তারপর উনার প্রতি বিশেষ মুহব্বতের দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আর এই বিষয়টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ِاِذَا اَرَادَ اللهُ اَن يـَّخْلُقَ خَلْقًا لِّلْخِلَافَةِ مَسَحَ ناصِيَتَه بِيَدِه.
অর্থ: “সর্বাধিক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ছাহাবী হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনার মাহবূব বান্দা তথা মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মধ্য থেকে কাউকে খলীফা হিসেবে সৃষ্টি করার ইচ্ছা মুবারক পোষণ করেছেন তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে খলীফা হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি উনার কুদরতী হাত মুবারক উক্ত মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক বা মহান ওলীউল্লাহ উনার কপাল মুবারক-এ বুলিয়ে দিয়েছেন তথা কপাল মুবারক-এ কুদরতী হাত মুবারক বুলিয়ে দিয়ে সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বিশেষ মাক্বাম মুবারকখানা হাদিয়া করেছেন ।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খুলাফা লিস সুয়ূতী পৃষ্ঠা নং ১৪, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ২য় খ- ২৪৬ পৃষ্ঠা, আল ফাতহুল কাবীর লিস সুয়ূত্বী ১ম খ- ৬৯পৃষ্ঠা, জামউল জাওয়ামি, জামিউছ ছগীর লিস সুয়ূত্বী ১ম খ- ৩০ পৃষ্ঠা, দায়লামী শরীফ ১ম ২৪৮ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)
সুতরাং খলীফাতুল উমাম, মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, আওলাদে রসূল, আল মানছুর, হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন বিশেষ খলীফা, হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম। উনার ব্যাপারে আরো হাদীছ শরীফ রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তাওফীক দিলে আমরা তা সময় মতো আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ!
খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার তরফ থেকে আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আওলাদে রসূল, আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পরে, খলীফাতুল উমাম, আল মানছুর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহি সালাম তিনি যে ৩০-৪০ বৎসর যাবত হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক আমাদের মাঝে প্রকাশ করেছেন। আর সেই বিশেষ লক্বব মুবারকখানা হচ্ছে “খলীফাতুল উমাম”-উনার অর্থ মুবারক হচ্ছে, উম্মতগণের খলীফা। অর্থাৎ খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আওলাদে রসূল, আস সাফফাহ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে সমস্ত উম্মতের জন্য, গোটা বিশ্ববাসীর জন্য, পুরো কায়িনাতবাসীর জন্য একজন বিশেষ খলীফা তথা ১১তম খলীফা আল মানছুর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত নয়, পাকিস্তান নয়, বরং মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা খলীফাতুল্লাহ হযরত ইমাম আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম হয়ে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো; অবশ্যই এমনকি সারা কায়িনাতব্যাপী সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবত সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনার খিলাফতকে কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না। কেননা তিনি হচ্ছেন মহনা খলীফা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত আল মানছুর আলাইহিস সালাম। আর উনারই মুবারক শানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاَمَّا الْـمَنْصُوْرُ فَلَا تُرَدُّ لَه رَايَةٌ
“আর যিনি মহান খলীফা হযরত মানছূর আলাইহিস সালাম হবেন উনার খিলাফতী নিশানকে কেউ অবনত করতে পারবে না। অর্থাৎ উনার খিলাফতকে কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না।” সুবহানাল্লাহ। (জামিউল আহাদীছ ৭/৪২০, ১৭/২৫৭, বাইহাক্বী ও আবূ নাঈম উনদের বরাতে সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৯২)
আর উনার এই সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার পরবর্তী বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছবে। হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি উনারই মুবারক বংশধর হবেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে এসে খিলাফত দেখতে পাবেন, উনাকে নতুন করে খিলাফত ক্বায়িম করতে হবে না। এই বিষয়টি আবূ দাউদ শরীফ, সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, জামিউল আহাদীছ, বাইহাক্বী এবং আরো অন্যান্য অনেক বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং খলীফাতুল উমাম আল মানছুর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা খলীফাতুল্লাহ হযরত ইমাম আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যতো উম্মত আসবে সমস্ত উম্মতের জন্য, গোটা বিশ্ববাসীর জন্য, পুরো কায়িনাতবাসীর জন্য একজন আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ খলীফা তথা ১১তম খলীফাতুল উমাম, আল মানছুর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মুবারক উসীলায়, উনার খিলাফত চলাকালীন সময়ে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাসী দুনিয়াতে থেকেই জান্নাতী সুখ-শান্তি উপভোগ করবে। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, আল মানছুর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বীভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে