সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত ইনছাফ মুবারক উনার কতিপয় দৃষ্টান্ত মুবারক


১ম দৃষ্টান্ত:
সম্মানিত ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক কায়িম’ হওয়ার অর্থই হলো পৃথিবীটা জান্নাতে পরিণত হয়ে যাওয়া। সুবহানাল্লাহ! এইবিষয়টি হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি করেছে জগতবাসী হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে। সুবহানাল্লাহ! খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফায়ে ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে সুদূর ফুরাতের তীরে যদি একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায়, তাহলে এজন্য আমি হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালামকে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট জবাবদিহি করতে হবে।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত মদীনা শরীফ থেকে ফুরাতের তীর অনেক দূরে অবস্থিত। এখানে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সুদূর ফুরাতের তীরেও যদি একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায়, তাহলে এজন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। এর মানে বুঝা গেলো যে, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে মানুষ এবং জিন তো পূর্ণ নিরাপত্তা, পূর্ণ শান্তি, পূর্ণ ইতমিনান পেয়েছিই; শুধু তাই নয়, এমনকি পশু, পাখীরাও পেয়েছে পূর্ণ নিরাপত্তা, পূর্ণ শান্তি, পূর্ণ ইতমিনান। উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে মানুষতো দূরের কথা কোনো পশু, পাখিও না খেয়ে মারা যায়নি। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে মানুষ কতটুকু সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, ইতমিনান ও সম্মানিত ইনসাফ উনার মধ্যে ছিলেন, তা এখান থেকেই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। সুবহানাল্লাহ!
এর নামই হচ্ছে ‘সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক’। সুতরাং সম্মানিত ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক কায়িম’ হওয়ার অর্থই হলো পৃথিবীটা জান্নাতে পরিণত হয়ে যাওয়া। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু মানবরচিত তন্ত্র-মন্ত্র, মতবাদ তথা গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মাওবাদ, লেলিনবাদ ইত্যাদি তন্ত্র-মন্ত্র, মতবাদ-এর পরিপূর্ণ বিপরীত। তাই সমস্ত মুসলমান উনাদের জন্য ফরযে আইন হচ্ছেন মানবরচিত তন্ত্র-মন্ত্র, মতবাদতথা গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মাওবাদ, লেলিনবাদ ইত্যাদি তন্ত্র-মন্ত্র, মতবাদ ছেড়ে দিয়ে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার জন্য কোশেশ করা। তবেই তারা প্রকৃত শান্তি লাভ করতে পারবে, দুনিয়াতে থেকেই জান্নাতী অমীয় সুখ-শান্তি উপভোগ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ!
২য় দৃষ্টান্ত:
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে বাঘ ও মহিষ একই ঘাটে একসাথে পানি পান করতো। তাদের মাঝে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো না। বাঘ মহিষকে আক্রমণও করতো না। সুবহানাল্লাহ!
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে যদি বনে প্রাণীদের মাঝে এরূপ সুখ-শান্তি, ইতমিনান, শৃঙ্খলা ও ইনসাফ বিরাজ করে, তাহলে মানুষের মাঝে কতটুকু সুখ-শান্তি, ইতমিনান, শৃঙ্খলা ও সম্মানিত ইনসাফ মুবারক প্রতিষ্ঠিত ছিলো, সেটা চিন্তা-ফিকিরের বিষয়। সুবহানাল্লাহ!

তৃতীয় দৃষ্টান্ত:
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া মিসরের শুষ্ক নীলনদের প্রতি ফরমান মুবারক লিখে পাঠিয়ে ছিলেনÑ
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
مِنْ عَبْدِ اللهِ عُمَرَ اَمِيْرِ الْمُؤْمِنِينَ اِلـٰى نِيْلِ اَهْلِ مِصْرَ، اَمَّا بَعْدُ، فَاِنْ كُنْتَ اِنَّـمَا تَـجْرِيْ مِنْ قِبَلِكَ وَمِنْ اَمْرِكَ فَلَا تَـجْرِ فَلَا حَاجَةَ لَنَا فِيْكَ، وَاِنْ كُنْتَ اِنَّـمَا تَـجْرِىْ بِاَمْرِ اللهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ، وَهُوَ الَّذِىْ يُـجْرِيْكَ فَنَسْأَلُ اللهَ تَعَالٰى اَنْ يُّـجْرِيَكَ.

অনুবাদ:
বিস্মিল্লাহির রহ্মানির রহীম
“এই চিঠি মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ হতে মিসরের নীলনদের প্রতি। হে নীলনদ! তুমি যদি নিজের ইচ্ছায় প্রবাহিত হয়ে থাকো, তাহলে তোমার পানি আমাদের কোনো দরকার নেই। আর যদি তুমি ওয়াহিদুল ক্বহ্হার মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ প্রবাহিত হয়ে থাকো, (তাহলে তোমার পানি আমাদের প্রয়োজন রয়েছে।) মূলত, ওয়াহিদুল ক্বহ্হার মহান আল্লাহ পাক তিনিই তোমাকে প্রবাহিত করে থাকেন। তাই আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজু করছি, তিনি যেনো তোমাকে প্রবাহিত করান।” সুবহানাল্লাহ!
চিঠিটি ছিলো চামড়ার। চিঠিটি নীলনদের উপর নিক্ষেপ করার পর এটি হেলতে দুলতে আস্তে আস্তে নীলনদের ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া শুষ্ক যমীন স্পর্শ করলো। বর্ণিত রয়েছে- ইতিহাস সাক্ষী, চিঠিখানা নীলনদের যমীন স্পর্শ করার সাথে সাথে একটি বিকট আওয়াজ হয় এবংপানি এক লাফে ১৬ হাত হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

যদি বিষয়টি এরূপই হয়, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে মানুষ কতটুকু সুখ-শান্তির মধ্যে ছিলো, তা কস্মিনকালেও ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায় যে, তখন মানুষ দুনিয়াতে থেকেই জান্নাতী অমীয় সুখ-শান্তি উপভোগ করেছিলো। সুবহানাল্লাহ! এর নামই হচ্ছেন সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওয়াহ মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

চতুর্থ দৃষ্টান্ত:
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তখন সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার মসনদে সমাসীন। ঐ সময়ের একখানা ঘটনা মুবারক-
عَنْ حَضْرَتْ اَلنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـى عَنْهُ اَنَّ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ فِـىْ مَـجْلِسٍ وَّحَوْلَهُ الْـمُهَاجِرُوْنَ وَالْاَنْصَارُ اَرَاَيْتُمْ لَوْ تَرَخَّصْتُ فِـىْ بَعْضِ الْاُمُوْرِ مَا كُنْتُمْ فَاعِلِيْنَ فَسَكَتُوْا فَقَالَ ذٰلِكَ مَرَّتَيْنِ اَوْ ثَلَاثًا فَقَالَ حَضْرَتْ بِشْرُ بْنُ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ لَوْ فَعَلْتَ ذٰلِكَ قَوَّمْنَاكَ تَقْوِيْـمَ الْقِدْحِ فَقَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنْتُمْ اِذًا اَنْتُمْ اِذًا.
অর্থ: “হযরত নু’মান ইবনে বশীর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। একবার আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলেন। উনার চারপাশে হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা এবং হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা আবস্থান মুবারক করছিলেন। আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যদি আপনারা আমাকে কোনো কাজে শৈথিল্য করতে দেখেন, তাহলে আপনারা কী করবেন? তখন সকলে চুপ থাকলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এই কথা দুইবার অথবা তিনবার বললেন। অতঃপর হযরত বিশর ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘আপনি যদি এমন করেন, তাহলে আমরা আপনাকে তীরের মতো সোজা করে দিবো’। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তবেই তো আপনারা কাজের লোক, তবেই তো আপনারা কাজের লোক।” সুবহানাল্লাহ! (জামি‘উল আহাদীছ ২৬/১৩৫, আল ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ৩/৩৮২, কানযুল উম্মাল শরীফ ৫/৬৮৭, মুখতাছরু তারীখে দিমাশক্ব ২/১৯২ ইত্যাদী )
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কোনো কাজে কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখানোর তো প্রশ্নোই উঠে না। বরং খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা তো অবশ্যই; এমনকি ১২ খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে এই পর্যন্ত যত জন আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিবেন, উনাদের দ্বারা কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখানো কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। কেননা উনারা দায়িমীভাবে সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দিক নির্দেশনা মুবারক অনুযায়ী চলে থাকেন। তবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এই সম্মানিত ওয়াকেয়া মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে সম্মানিত ইনসাফ উনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ খলীফা উনাদের দ্বারা কস্মিনকালেও সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার খিলাফ বা সম্মানিত ইনসাফ মুবারক উনার খিলাফ কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া আদৌ সম্ভব নয়, সেই বিষয়টিই তিনি এই ওয়াকেয়া মুবারক উনার দ্বারা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য কতো বড় রহমত, বরকত, সাকীনাহ ও নিয়ামত মুবারক উনার কারণ, তা এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। এই কারণেই যতদিন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত ছিলো, ততদিন মানুষ দুনিয়ার যমীনে থেকেই জান্নাতী অমীয় সুখ-শান্তি উপভোগ করেছিলো। সুবহানাল্লাহ! আবার যখন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন মানুষ দুনিয়ার যমীনে থেকেই জান্নাতী অমীয় সুখ-শান্তি উপভোগ করবে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, তখন এই দেশ ও সারা পৃথিবী হবে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার একটি অংশ। সুবহানাল্লাহ!
আর এই জন্যই উনার মুবারক শানে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيْدِ ۨ الْـخُدْرِىّرَضِىَ اللهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـخْرُجُ رَجُلٌ مّـِنْ اَهْلِ بَيْتِىْ عِنْدَ اِنْقَطَاعٍ مّـِنَالزَّمَانِ وَظُهُوْرٌ مّـِنَ الْفِتَنِ رَجُلٌ يُّقَالُ لَهُ السَّفَّاحُ فَيَكُوْنُ اِعْطَاؤُهُ الْمَالَ حَثْيًا.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যামানার ক্রান্তিলগ্নে, যামানার শেষের দিকে যখন ফিতনা-ফাসাদসমূহ চরমভাবে প্রকাশ পাবে তথা বেপর্দা-বেহায়া, অত্যাচার-অবিচার, যুুলুম-নির্যাতনে, বে-ইনসাফীতে পুরো পৃথিবী ভরে যাবে, কোথাও পবিত্র ইনসাফ উনার লেশ মাত্র অবশিষ্ট থাকবে না। তখন আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে আমার একজন খাছ আওলাদ, একজন মহান খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিবেন। তিনি এমন একজন মহান ব্যক্তিত্ব, এমন একজন মহান খলীফা উনাকে ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ বলা হবে। অর্থাৎ তিনি সমস্ত বাতিলী শক্তি তথা কাফির-মুশরিক, ইহুদী-খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, মজুসী, মুনাফিক্ব¡ ও উলামায়ে সূ’দেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে, সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ, যুুলুম-নির্যাতন, অত্যাচার-অবিচার, বে-ইনসাফীকে মিটিয়ে দিয়ে সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে পবিত্র ইনসাফ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক জারি করবেন। আর তিনি উনার দু’হাত মুবারক ভরে অঢেল, বেহিসাব ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৬ষ্ঠ জিলদ ৫১৪ পৃষ্ঠা, খাছায়িছুল কুবরা লিস সুয়ূত্বী ২য় জিলদ ২০৩ পৃষ্ঠা, আস সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান, আহমদ, জামিউল আহদীছ, আবূ নাঈম, আল ফিতান, বিদায়া-নিহায়া ৬ষ্ঠ জিলদ ২৪৮ পৃষ্ঠা ইত্যাদি)
উনার মুবারক শানে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ فِىْ اٰخِرِاُمَّتِـىْ خَلِيْـفَةٌ يَـحْثِى الْمَالَ حَثْيًا وَلَا يَعُدُّه عَدَدًا.
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখেরী যামানায় আমার উম্মতের মাঝে একজন মহান খলীফা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক আবির্ভাব ঘটবে। তিনি উনার দু’হাত মুবারক ভরে বেহিসাব, অঢেল ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন, কোনো গণনা করবেন না।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, রিয়াদুছ ছালেহীন, বাইহাক্বী শরীফ ৬/৩৩০, মুসনাদে আহমদ শরীফ ১০/১৯০, মিশকাত শরীফ ৪৬৯, বিদায়া-নিহায়া ৬/ ২৪৮ ইত্যাদি)
অপর বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالىٰ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَيَكُوْنُ فِىْاٰخِرِ الزَّمَانِ خَلِيْفَةٌ يُقَسِّمُ الْمَالَ وَلَا يَعُدُّه.
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখেরী যামানায় একজন মহান খলীফা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক আবির্ভাব ঘটবে। তিনি উনার দু’হাত মুবারক ভরে বেহিসাব, অঢেল ধন-সম্পদ বণ্টন করে দিবেন, কোনো গণনা করবেন না।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, রিয়াদুছ ছালেহীন, বাইহাক্বী শরীফ ৬/৩৩০, মুসনাদে আহমদ শরীফ ১০/১৯০, মিশকাত শরীফ ৪৬৯, বিদায়া-নিহায়া ৬/ ২৪৮ ইত্যাদি)
উল্লেখ্য যে, মুসনাদে আহমদ উনার ১০ম জিলদের ২৫০ পৃষ্ঠার প্রান্তটিকায় রয়েছে যে, এই সম্মানিতহাদীছ শরীফখানা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মুবারক শানে। আর সেটাই অন্য সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-
وَاَمَّا السَّفَّاحُ فَهُوَ يَسْفَحُ الْـمَالَ
অর্থ: “আর যিনি মহান খলীফা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম হবেন, তিনি অঢেল, বেহিসাব ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (জামিউল আহাদীছ শরীফ ৭/৪২০ ও ১৭/২৫৭, বাইহাক্বী শরীফ ও আবূ নাঈম শরীফ উনাদের বরাতে সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ ১০/৯২)
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুুর্শিদ ক্বিবলা খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যখন তিনি যাহিরীভাবে খলীফা হিসেবে প্রকাশ পেয়ে সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বছর যাবৎ সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন, তখন তিনি কতো অধিক পরিমাণে উনার দু’হাত মুবারক ভরে অঢেল, বেহিসাব ধন-সম্পদ বিলিয়ে দিবেন, তা সমস্ত জিন-ইনসান ও মাখলূকাতের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
শুধুতাই নয়, উনার মুবারক উসীলায় সমস্ত বিশ্ববাসী সীমাহীন বরকত লাভ করবেন। ধন-সম্পদের এত অধিক পরিমাণ প্রাচুর্য হবে যে, কোন ব্যক্তিকে অধিক পরিমাণ ধন-সম্পদ প্রদান করলেও সে এটাকে নগণ্য মনে করবে। এটা পবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক উনার দ্বারাই প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে এদেশবাসী ও সমগ্র বিশ্ববাসীকে সেই সম্মানিত নিয়ামত মুবারক নছীব করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে