খলীফাতু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ করলেই যমীনের মধ্যে ইনছাফ প্রতিষ্ঠা হবে, খুন- খারাবী বন্ধ হবে, খিলাফত আলা মিনহাযিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠা হবে, সকলেই শান্তিতে থাকতে পারবে


সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সলাম তিনি অল্প বয়স থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তিনি শৈশবকাল থেকেই খুব শরীফ ভদ্র ছিলেন, পরোপকারই যেন উনার একমাত্র কাজ, কারো উপকার করতে পারলে উনার অন্তর শান্তি লাভ করতো।
আর সেটাই নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর তিনি শুধু নেক আমল বেশি করেন সেটাই নয়, উনার অন্তরের মধ্যে মাখলুকাতের প্রতি দয়া-মুহব্বত এতো বেশি ছিলো যাতে কোনো মাখলুকাতের কষ্ট তিুনি সহ্য করতে পারতেন না, মনে হতো যেনো এটা উনারই কষ্ট। তিনি পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে ছিলেন অবিচল সর্ববিষয়ে তিনি পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করতেন, সেজন্যই নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন ‘আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া’ অর্থাৎ নবী আলাইহিস সালাম উনাদের পর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি স্বয়ং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে আছি।” সুবহানাল্লাহ!
এখন আমাদেরকে ফিকির করতে হবে যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা মর্তবা কতো বেশি এবং উনাকে অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কত জরুরী।
একটি ঘটনা উল্লেখ করবো সেটা হলো: উনি যখন খিলাফতের দায়িত্বে সমাসীন হলেন, খুব সুন্দরভাবে সুচারুরূপে খিলাফতের আনজাম দিতে লাগলেন। কিন্তু একটি বিষয় তিনি সারাজীবন মানুষের উপকার করেছেন এখনো করবেন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বিষয়টা হলো উনি সারাজীবন জান-মাল দিয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খিদমত করে গেছেন এখন যে তিনি পুরা সময়টাই মুসলিম উম্মাহর জন্য ব্যয় করবেন তাহলে তিনি ব্যক্তিগত খরচ পরিবার পরিজনের খরচ কিভাবে মিটাবেন?
তাই তিনি উনার যে ব্যবসা ছিলো সেই ব্যবসার মধ্যে কিছু সময় দেয়ার ইচ্ছা করলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, হে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সলাম! আপনি যদি ব্যবসার মধ্যে সময় দেন তাহলে মুসলিম উম্মাহর কঠিন অবস্থা হবে। তাই আপনি এক কাজ করুন আপনি খিলাফতের আনজাম দিয়ে যান আমরা আপনার সংসার পরিচালনা কারার জন্য ব্যবস্থা করবো। এই বলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার জন্য বায়তুল মাল থেকে একটি ভাতা নির্ধারণ করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সলাম তিনি শুধু উনার জন্য খুবই সামান্য ভাতা গ্রহণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, যা দ্বারা জরুরী বিষয়গুলো মিটানোই কষ্ট হতো। এমনিভাবে চলতে থাকলো অনেকদিন।
একদিন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার বাসায় প্রসঙ্গক্রমে বললেন, ‘ফিরনি খাওয়াতো সুন্নত’ অনেকদিন হয়ে গেল ফিরনি খাওয়া হচ্ছে না, উনার যিনি সম্মানিতা আহলিয়া তিনি জানতেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অন্তরে নবীজী উনার পবিত্র সুন্নত উনার প্রতি মুহব্বত ছিলো অপরিসীম। উনার এই কষ্টটি তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন তাই তিনি চিন্তা করলেন যে, কি করে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মনের আকাঙ্খাকে পূরণ করবেন। তাই তিনি দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা করে অল্প অল্প করে প্রতিদিনের খাবার থেকে কিছু কিছু রাখতে লাগলেন, এমনি করে অনেক দিন পর তিনি ফিরনি রান্না করে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সামনে হাযির করলেন, কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি জানতেন উনি যে ভাতা পেতেন তা দিয়ে তো ফিরনি রান্না করা যেতো না, তাহলে এই ফিরনি কোথা থেকে আসলো? অনেক চিন্তা করে তিনি উনার সম্মানিত আহলিয়া উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই ফিরনি কোথা থেকে পেলেন? তিনি বললেন, প্রতিদিনের খাবার থেকে কিছু রেখে রেখে জমা করেছি তাই আজকে এই ফিরনি রান্না করেছি। এটা আমাদেরই খাবার থেকে ব্যবস্থা করেছি। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তাহলে তো এই পরিমাণ ভাতা আমি বেশি গ্রহণ করছি, তাহলেতো এটা কমাতে হবে পরের দিন তিনি উনার ভাতা থেকে সেই সামান্যটুকু খাদ্যও কমিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবেন তখন তিনি সারাজীবনে যত ভাতা গ্রহণ করেছেন তাও ফিরিয়ে দিলেন উনার একমাত্র একটি জমি ছিলো সেই জমিটি বিক্রি করে। সুবহানাল্লাহ! বিষয়টি খুবই ফিকিরের, তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শুরু থেকেই খিদমত মুবারক করেছেন জান দিয়েতো অবশ্যই করেছেন সমস্ত মাল দিয়েও করেছেন। তাহলে আমাদের অবস্থা কি? আমরা তো ভোগ-বিলাসিতার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি। শুধু তাই নয়, আমাদের আমীর উমরারা কোনো একটা বিষয়ে বাজেট পাস করিয়ে সেই কাজটি না করে সমস্ত টাকাই চুরি করে ফেলে। নাউযুবিল্লাহ!
তাহলে কি করে দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে? তারাতো ভোগ বিলাসিতা, চুরি বাটপারি করেইতো সব শেষ করে দিচ্ছে। তাই বিষয়টি আর লুকিয়ে রাখার কোনো অবকাশ নেই।
অতএব, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য এখন ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক আলোচনা করা, উনার আদর্শ মুবারক উনার নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে দ্বীনের ছহীহ সমঝ এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ করে নিজেদের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার তাওফীক দান করুন। আর তাহলেই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের শাসক গোষ্ঠীকে এবং আমাদের সবাইকে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সলাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে