খলীফাতু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অসাধারণ সমরনীতি প্রসঙ্গে


হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, ‘খিলাফতের সময় সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সিরিয়ায় যে অভিযান প্রেরণ করেন তাতে হযরত আমর ইবনুল আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত শুরাহবীল ইবনে হাসানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আমীর নিযুক্ত করেন। মুজাহিদ বাহিনীকে রওয়ানা করার পূর্বে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যে নছীহত মুবারক করেন তা বিশ্বের সমর ইতিহাসে একেবারেই বিরল। তিনি সেই অবিস্মরণীয় নছীহত মুবারক-এ বলেন, “হে মুসলিম মুজাহিদ বাহিনী! আমি আপনাদেরকে নছীহত করছি- সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবেন। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই হবে আপনাদের এই পবিত্র জিহাদ। অতএব, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকার করবে, আপনাদের জিহাদ হবে কেবল তাদেরই বিরুদ্ধে। মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই এই দ্বীনের সাহায্যকারী। কোনোরূপ প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করবেন না, আমানতের খিয়ানত করবেন না। ভীরুতা, কাপুরুষতার পরিচয় দিবেন না। যমীনের বুকে ফিতনা-ফাসাদ তথা অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবেন না। যেভাবে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে তার হুবহু অনুসরণ করবেন।
খোদাদ্রোহী মুশরিকদের সম্মুখীন হলে প্রথমেই তাদেরকে তিনটি বিষয়ের প্রতি আহবান জানাবেন। যদি তারা প্রথম দুইটা মেনে নেয় তবে আপনারাও তা মেনে নিবেন এবং তাদের সাথে জিহাদ করা হতে বিরত থাকবেন। সর্বপ্রথম তাদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুলের দাওয়াত দিবেন। তারা তা মেনে নিলে আপনারাও সেটা মেনে নিয়ে তাদের সাথে পবিত্র জিহাদ করা হতে বিরত থাকবেন। এবং তাদেরকে হিজরত করার প্রতি উৎসাহিত করবেন এতে যদি তারা রাজি হয় তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবেন- মুহাজিরীনদের সুখে দুঃখে তারাও সমভাগী। আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে কিন্তু দেশত্যাগ তথা হিজরত করতে রাজি না হয়, তবে তারা অন্যান্য দেশে অবস্থানকারী মুসলমানদের ন্যায় গণ্য হবে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিন-মুসলমানদের প্রতি যে ফরয হুকুম-আহকাম নাযিল করেছেন সেগুলো তাদের জন্যও মানা অবধারিত। তবে জিহাদে অংশগ্রহণ করা ব্যতীত তারা গণীমতের মালে ভাগ পাবে না। আর যদি তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করতে অস্বীকার করে তবে দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ তাদের প্রতি জিজিয়ার মাধ্যমে ফায়ছালা করুন। জিজিয়া দিতে সম্মত হলে আপনারা তা মেনে নিবেন এবং তাদের সাথে জিহাদ করা হতে বিরত থাকবেন। যদি তারা জিজিয়া দিতেও অস্বীকার করে, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য প্রার্থনা করে তাদের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিষয় অর্থাৎ জিহাদ চালিয়ে যাবেন। তবে এক্ষেত্রেও খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন; হে মুজাহিদগণ! আক্রমণের সময় কোনো গাছপালার উপর চড়াও হবেন না- সেগুলো কাটবেন না, সেগুলো জ্বালাবেন না। কোনো পশু হত্যা করবেন না। ফলবান বৃক্ষ নষ্ট করবেন না। বিধর্মী বিজাতীয়দের উপাসনালয়গুলো বিধ্বস্ত করবেন না।
কোনো নারী-শিশু বৃদ্ধকে হত্যা করবেন না। তাদের মাঝে এমন কিছু লোকও দেখতে পাবেন, যারা উপাসনালয় বা আশ্রমগুলোতে নির্জনবাস অবলম্বন করে রয়েছে, তাদেরকে ওই অবস্থার উপর ছেড়ে দিবেন, উত্ত্যক্ত করবেন না। অবশ্য এমন অনেক লোকও থাকবে যারা সর্বদা শয়তানী কাজে লিপ্ত থাকে এবং মানুষকে গুমরাহ করার ফন্দি-ফিকির আঁটতে থাকে, এদেরকে পেলে অবশ্যই ছাড়বেন না, বরং গর্দান উড়িয়ে দিবেন।”
সত্যিই সমরনীতির ক্ষেত্রে এ এক অনন্য বেমেছাল নছীহত মুবারক। যতদিন মুসলমান বীরগণ হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার এমন নছীহত মুবারক উনার আলোকে পবিত্র জিহাদ পরিচালনা করেছেন ততদিন একের পর এক ইসলামী খিলাফত বিস্তার লাভ করেছে। এখনও যদি মুসলিম বিশ্বের শাসক-সেনাপতিরা সেই নছীহত মুবারক সামনে রেখে বিধর্মী-বিজাতীয়দের আগ্রাসনকে প্রতিরোধ করতে আগুয়ান হয়, তবে মুসলমানদের হারানো ঐতিহ্যম-িত গৌরব অবশ্যই ফিরে আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।indexswhip
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে