খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা


সময় কি আছে বর্তমান মুসলিম দেশের শাসকদের জন্য, তারা চিন্তা করবে কি তাদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য কেমন ছিল, তারা শিক্ষা নেবে কী কেমন বীরত্বপূর্ণ ছিল মুসলমান উনাদের অতীত শৌর্য, কী ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন মুসলিম জাতির পূর্বপুরুষ উনারা? আমরা যদি একবার চোখ বুলাই তাহলে দেখতে পাবো অপরাজেয় সামরিক শক্তি, ইনসাফপূর্ণ হুকুমতব্যবস্থা, সর্বোচ্চ ইসলামী আদর্শ, ৬টি মৌলিক অধিকারের অপরিমেয় একচ্ছত্র ভিত্তিস্থাপন ইত্যাদি। তেমনি একজন মহান শাসক ছিলেন খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মুমিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মুমিনীন হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ২৪ হিজরী সনের ১লা মুহররম সকালে তিনি সম্মানিত খিলাফত উনার মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উনার শাসনামলের একটি অসামান্য অবদান নৌবাহিনী গঠন। নিম্নে সামান্য কিছু নমুনা দেয়া হলো:
খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মুমিনীন হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার সমুদ্রপথে বিজয় সূচনার এক বেমেছাল কৃতিত্ব রয়েছে। এই সময় মুসলমানগণ প্রায় ৫০টির মতো জিহাদে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। গ্রীসের সাইপ্রাস আক্রমণের পূর্বে কাতিবে ওহী সাইয়্যিদুনা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নৌবাহিনী গঠনের মুবারক নির্দেশ পান। সাইয়্যিদুনা খলীফায়ে ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নির্দেশ পেয়ে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সারা দেশে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইসলামী আদর্শিক নৌসেনা আহ্বান করেছিলেন। তারপর সমুদ্রযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। রাজধানীতে দলে দলে সৈনিকের খাতায় নাম লেখানোর জন্য মানুষের তোড়জোড় পড়ে গিয়েছিল। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই বিরাট শক্তিশালী নিয়মিত নৌবাহিনী গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিভিন্ন ইউনিটে ইউনিটে বিভক্ত করেছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নৌবাহিনীকে। এমনকি উনারা বরফের মধ্যেও যুদ্ধ জাহাজ চালাতে সক্ষম হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার ১২ বৎসরের খিলাফতকালে এই নৌবাহিনীর মাধ্যমে বিরাট বিরাট অভিযানসমূহ পরিচালনা ও সাফল্যজনক বিজয় এত দ্রুত সম্ভব হয়েছিল যে, এর মেছাল ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া বড়ই দুষ্কর। এসব বিজয়ের অবদানে ছিলেন তৎকালীন মুসলিম সেনাপতি হযরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মুছান্না বিন হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত ওয়ালিদ ইবনে উকবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সাঈদ ইবনে আ’ছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত অবদুল্লাহ ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত কাকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা। ফলে তখন ইসলামী খিলাফতের পরিধি বহুদূর সম্প্রসারিত হয়। মুসলমান নৌবাহিনী তখন বড় বড় জিহাদে অংশ গ্রহণ করা ছাড়াও আরব সাগর, কৃষ্ণ-সাগর ও ভূমধ্যসাগর অভিযানে অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দেন এবং ২৮ হিজরী সনে সাইপ্রাস ও রোড’স দ্বীপদ্বয় বিজয় করেন। সুবহানাল্লাহ!
খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মুমিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নৌবাহিনীকে এত উন্নতি করেছিলেন যে ৩১ হিজরী সনে রোমক সম্রাট যখন বিরাট বাহিনীর সহায়তায় সিরিয়ার উপকূল আক্রমণ করে, তখন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা তাকে এমন শোচনীয়ভাবে পরাজয় করেন যে, রোমকরা আর কখনো মাথা উঁচূ করে দাঁড়াবার সাহস পায়নি। এক রকম বলতে গেলে তাদের বাহিনী সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সমুদ্রপথে এতদূর অগ্রসর হয়েছিলেন যে, ৩২ হিজরী সনে তিনি কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেন। সুবহানাল্লাহ!
খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মুমিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনার শাসনামলে মূলত দু’ধরনের বিজয় অনুষ্ঠিত হয়। এক. যে সমস্ত এলাকা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফতকালে বিজয় হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে রোমক ও ইরানীদের উস্কানীতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল- খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় সেগুলি উদ্ধার করে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপন করেছিলেন। যেমন- আর্মেনিয়া, আলেকজান্দ্রিয়া, মিশর ইত্যাদি। দুই. যে সমস্ত এলাকায় যালিম শাসকরা নির্যাতন চালাতো, শান্তি ছিল না- সেসব এলাকা খলীফায়ে ছালিছ, আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার খিলাফতকালে বিজয় করেন এবং বেমেছাল শান্তি স্থাপন করেছিলেন; যেমন- লিবিয়া, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, জুরজান, খুরাসান, তাবারিস্তান, সোয়াত, কাবুল, সিজিস্তান, নিশাপুর, পাকিস্তান (তখনকার ভারতবর্ষ) ও ভারতের কিছু সমৃদ্ধ অঞ্চল ইত্যাদি।
এসব বিজয় মাত্র ছয় বৎসরেরও কম সময়ে অর্জিত হয়। আর এখন গণতন্ত্রের রক্তচোষা শাসনব্যবস্থা মুসলমানগণ উনাদেরকে বিজয় শব্দ থেকে গহীন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এই সে¦চ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা মুসলমানগণ উনাদেরকে গোলামিত্বের শিকল পরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন নিজেদের নাজাতের জন্যই মুসলমানগণ উনাদেরকে এই রক্তচোষা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে ধিক্কার দিয়ে সম্মানিত খিলাফতী শাসনব্যবস্থা জারি করার জন্য তৈরি হতে হবে। তবে মুসলমানরা শিঘ্রই আবার পৃথিবী শাসন করতে পরবে, যদি মুসলমানরা মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্বদম তলে জমায়েত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সে-ই তাওফীক দান করুন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে