খলীফা ভাইয়ের নারীটিজিং লেখার প্রেক্ষিতে কিছু কথা


লেখার যে অংশগুলো নিয়ে লেখা তা কোটেশন আকারে দিয়ে আমার বক্তব্য প্রদান করলাম

“….সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে মূল্যবোধের অবক্ষয়ই এর প্রধান কারণ…..”

ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, পরকীয়া এসব সামাজিক ব্যাধি প্রচলিত পাশ্চাত্য ঔষধে নিরাময়যোগ্য নয়, বরং এ ব্যধি রোধে বিষবৃক্ষের মূলোচ্ছেদ করা জরুরী। আর ইসলামী অনুশাসন এক্ষেত্রে সর্বোত্তম বিবেচিত। ইসলামী অনুশাসন সমাজে এখনো প্রচলিত আছে বলেই আমরা শুকরের গোশত মুখে তুলি না, খাবারের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম বেছে চলি, তবে যারা ইসলামী অনুশাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তাদের অনেকেই হারাম বস্তুকে হালাল করে নিয়েছেন, তাদের কাছে খাদ্য খাদ্যই, শুকর আর ছাগল উভয়েই গোশত যোগান দেয়, তাই এদের মাঝে ভেদাভেদ করার যৌক্তিকতা নেই;

ঠিক তেমনি আমরা সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু অনুশাসন মেনে চলি। ইসলাম মা, খালা, বোনসহ ১৪ জন আত্মীয়-স্বজনের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে কোন সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ নেই, বরং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অধিকাংশ যদি ইসলাম কর্তৃক নিষিদ্ধ নারীদের বিয়ে করা  বৈধ বলে ভোট দেয় তো তাও চালু হয়ে যাবে। ইসলাম যেখানে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, ধর্মীয় অনুশাসন, হালাল-হারাম কে যদি তোয়াক্কাই না করি তবে কারো সাথে যৌনাচারই অবৈধ হওয়ার কথা নয়, যেহেতু বিষয়টি শুধুই শারীরবৃত্তীয়, তাই কার সাথে তা সম্পাদিত হচ্ছে, তা মূখ্য নয়, ধর্মহীন মতবাদে উভয়ের সম্মতিই চুড়ান্ত বিবেচ্য বিষয়। A profile of Canada’s shelters for abused women শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে ১৮ বছরের নীচের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার সন্তানদের প্রতি ১০ জনের ৩ জন নিজ পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই নির্যাতিত হয় যাদের আবার ১০ জনের ৬ জনই বাবার হাতে নিগৃহীত।

“..নারীটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সংবাদপত্র বা সামাজিক সংগঠনগুলো বেশ সোচ্চার..”
যে পৃষ্ঠায় নারীটিজিং এর বিরুদ্ধে লিখা তার উল্টা পৃষ্ঠায় বক্ষ উন্মোচিত ৭৫% উলঙ্গ নারীর ছবি!!! আর ঐ সমস্ত সামাজিক সংগঠন? যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ-গান আর বেলেল্লাপনায় একাকার হয় ছেলে ও মেয়েরা!!!
“….ড. জিনাত হুদা অহিদ মনে করেন,নারীটিজিং আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়……”
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার ব্যাখ্যা কি? কে বলেছে মহিলাদেরকে টিভি-সিনেমা-আর বিলবোর্ডগুলোতে ৭৫% উন্মোচন করে বেলেল্লা হতে? নারীবাদীরা তখন সোচ্চার হয় না কেন?
“….মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিনা গোস্বামী বলেন, নারীটিজিংমূলত আমাদের দেশে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির একটি অশুভ প্রভাব।…..”
এ কথা ‍শুধু মুখে বলেই ক্ষ্যান্ত!!! নিজের মাথা-পা পর্যন্ত ও সামাজিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখলেই বুঝা যাবে।

Views All Time
3
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. এএইচ খানএএইচ খান says:

    ভাল লিখেছেন। একটু খোলা মনে চিন্তা করলেই বিষয়গুলো ভালভাবে বোঝা যায়।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে