খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য প্রায় প্রতি থানায় ১টি করে দেশে কমপক্ষে ৫০০ হিমাগার তৈরি করা উচিত।


পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় শাকসবজি, তরিতরকারি ও ফলফলাদি ইত্যাদির বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে প্রান্তিক চাষী মূল্য পায় না; অপরদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ নাগরিক চড়া মূল্যে খাদ্য কিনে।
সংরক্ষণের অভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, তরিতরকারি এবং ফলফলাদি ইত্যাদি পচে নষ্ট হয় এমনকি গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে খবর পাওয়া যায় । তবে শুধু সবজিসহ আরো খাদ্যদ্রব্যও হিমাগারের অভাবে নষ্ট হয়। এক চলনবিলেই ১০০ কোটি টাকার শুটকী মাছ হিমাগারের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি পত্রিকায় খবর হয়েছে।

আমাদের শাক-সবজি, তরিতরকারি, ফলফলাদি ইত্যাদি উদ্বৃত্ত হয় যেমন, তেমনি ঘাটতিও আছে। মৌসুমে শাক-সবজি তরিতরকারি এবং ফলফলাদি ইত্যাদি যে পরিমাণ উৎপন্ন হয় তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকে বিপুল পরিমাণ। যা সাধারণভাবে চিন্তা করা অত্যন্ত কঠিন। অন্যান্য তরিতরকারি শাক-সবজির ৮০ ভাগই উৎপাদিত হয় শীত মৌসুমে। শীতকালের অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সবজি এতো অধিক উৎপন্ন হয় যে, শেষ পর্যন্ত সেগুলো কেনার লোক থাকে না। বিপুল উদ্বৃত্ত এবং ক্রেতার অভাবে তখন সেগুলো বিক্রি হয় পানির দরে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকের পরিবহন খরচও উঠে আসে না। উৎপাদন বেশি হলে শাক-সবজি পচে নষ্ট হয়। এর কারণ আমাদের দেশে শাক-সবজি সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। হিমাগারের ভয়াবহ সঙ্কট। অথচ ফলমূল, শাক-সবজি, তরিতরকারি সংরক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হলে একদিকে যেমন চাষী লাভবান হবে তেমনি সাধারণ নাগরিকও অনেক কমদামে সবকিছু খেতে পারবে। এ শীত মৌসুমে শুধু আলুই উৎপাদন হয়েছে দেড় কোটি টনের অনেক বেশি।

দেশের প্রায় প্রতিটি থানায় যদি হিমাগার তৈরি করে তরিতরকারি, ফলফলাদি ও শাকসবজি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা যায় তবে এ সংরক্ষণের দ্বারা একদিকে যেমন দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে; আর পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। দেশে মোট হিমাগার আছে ৩৪৩টি। এগুলোয় মাত্র প্রায় সাড়ে ২০ লাখ টন পণ্য মজুদ রাখা যায়। এর মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৪৭টি হিমাগার বন্ধ রয়েছে। চালু রয়েছে ২৯৬টি হিমাগার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ১৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১৭টি হিমাগার রয়েছে। বাস্তবে আরো হিমাগার থাকা প্রয়োজন হলেও তা নির্মাণ করা হচ্ছে না।

সরকারের উচিত দেশের প্রায় প্রতিটি থানায়ই সরকারি অর্থায়নে আপাতত কমপক্ষে দুই লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগার তৈরি করা। দুই লাখ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগার তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। সে হিসেবে কমপক্ষে ৫০০টি হিমাগার তৈরি করতে সর্বোচ্চ মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। ৫০০টি হিমাগারে ১০ কোটি টন খাদ্য সংরক্ষণ সম্ভব।

বাংলাদেশে আপাতত খাদ্যের চাহিদা মাত্র ৫ কোটি টন। ১০ কোটি টন খাদ্যসামগ্রী যদি সংরক্ষণ সম্ভব হয়; তাহলে আশা করা যায় দেশে আর কোন খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হবে না এবং খাদ্যাভাবও হবে না কোনোদিন ইনশাআল্লাহ। আর ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা একটা দেশের জন্য খুব বেশি নয়। কারণ অভিযোগ উঠেছে জোট সরকারের আমলে এক ব্যক্তিই দুর্নীতি করেছে দুই লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। দেশে যদি টাকা না থাকে তাহলে তারা দুর্নীতি করে কীভাবে?  তারপরেও উল্লেখ্য, এ টাকাটা ১ বৎসরেই প্রয়োজন হবে তা নয়। কারণ, এতগুলি হিমাগার তৈরি করতে কয়েক বৎসর প্রয়োজন। হিমাগার তৈরির ক্ষেত্রে এদেশের অনেক লোকের কর্মসংস্থানও হবে ইনশাআল্লাহ।
এতদ্বপ্রেক্ষিতে সরকারের উচিত, অবিলম্বে প্রায় প্রত্যেক থানায় কমপক্ষে একটি বা সর্বমোট ৫০০টি সরকারি হিমাগার করে কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং না-খাওয়া মানুষ তথা সাধারণ মানুষের জন্য কমমূল্যে খাদ্য কেনার ব্যবস্থা করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. উদীয়মান সূর্যউদীয়মান সূর্য says:

    Sun ঠিক বলছেন,আপনাকে অনেক ধন্যবাদ Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে