খাবার গ্রহণের পূর্বে ও পরের সুন্নত সমূহ


খাবার গ্রহণের পূর্বে ,পরে এবং মাঝে অনেক সুন্নত রয়েছে, অনেকগুলো থেকে কিছু সংখ্যক সুন্নত তরীকার নিচে দেয়া হলো…
 
১) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাবার গ্রহণের পূর্বে দুই হাত মুবারক ধৌত করতেন বর্তমানে আমরা এক হাত ধৌত করি। এটা সুন্নতের পরিপন্থী।
খাবার গ্রহণের পরেও উভয় হাত মুবারক ধৌত করতেন এবং কুলি করতেন।
 
২) তিন আঙ্গুলে খানা খাওয়া
(মুসলিম শরীফ )।প্রয়োজনে তিন আঙ্গুলের বেশিও লাগানো যেতে পারে।তবে দুই আঙ্গুল দ্বারা আহার করাকে শয়তানের আহারের পদ্ধতি বলে আক্ষা দিয়েছেন।
(দারে কুতনী)
 
৩) সাধারনত হেলান দিয়ে না খাওয়া ।
(বুখারী শরীফ )
 
৪)জুতা পরিহিত ব্যক্তিকে জুতা খুলে আহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(ইবনে মাজাহ শরীফ)
 
৫)খুদা থাকা সত্ত্বেও এ কথা না বলা যে, আমার ক্ষুধা নেই।
(ইবনে মাজাহ শরীফ)
 
৬)খানা খাওয়া শেষ হলে আঙ্গুল চেটে খাওয়া।
(ইবনে মাজাহ শরীফ)
ইরশাদ মুবারক করতেন আঙ্গুল চেটে খাও কেননা জানা নেই খাবারের কোন অংশে বরকত থাকে আর আঙ্গুল চেটে খাওয়ার তরিকা হচ্ছে প্রথমে মধ্যমা অতঃপর শাহাদাত ,বৃদ্ধা ,অনামিকা ও কনিষ্ঠা ।
 
৭)হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা আহার করতেন না ।
 
৮)তিনি আহারের পর পরেই পানি পান করতেন না বরং কিছুক্ষণ পরে পান করতেন।
(মাদারেজ)
 
৯)হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অপরের খানা শেষ না হওয়া পর্যন্ত (বেশি প্রয়োজন না হলে) উঠতেন না।
(ইবনে মাজাহ শরীফ, বায়হাক্বী)
 
১০)হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খানার মধ্যে ফুঁক দিতেন না বা ঘ্রাণ নিতেন না।
(মিশকাত শরীফ)
 
১১)তিনি ইরশাদ মুবারক করতেন. দস্তরখানা তুলে নেওয়ার পূর্বে আহারকারীরা উঠবে না।
(ইবনে মাজাহ শরীফ)
 
১২)উনার হাত মুবারক মুছার জন্য কোন তোয়ালে থাকতো না , হাত মুবারকে বা মুখ মুবারকে বেশি তৈলাক্ত হলে পা মুবারকে ঘষে শুকিয়ে নিতেন।
 
উপরের সুন্নত মুবারকগুলো আমলের জন্য অত্যন্ত সহজ।কেউ সুন্নত আদায়ের নিয়তে আমল করলেই সুন্নত পালন হয়ে গেল।
বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ফিতনা-ফাসাদের যুগে কোন একটা সুন্নতকে আঁকড়িয়ে ধরে রাখবে, তাকে একশত শহীদের ছাওয়াব প্রদান করা হবে।
শহীদের ফযীলত কতটুকু (?) তা আমরা ফিকির করে এবং হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জীবনি মুবারক পড়লে কিছুটা হলেও বুঝতে পারি। আবার বলা হয়েছে, যারা সুন্নত পালন করবেনা, সুন্নত উনাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করবে তারা হিদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়ে গুমরাহিতে নিয়েজিত হবে।
(নাউযুবিল্লাহ)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে