গনতন্ত্র ১৬ (২৯/৮/২০১৭)


“”ঐ দেখা যায়, গনতন্ত্র।
ঐ আমাদের, ধর্মনিরপেক্ষতা।
ঐ খানেতে বাস করে,
বিশাল মানবতা।””
সত্যি, আজ এই হাস্যকর বাস্তবতার সম্মুখীন অামরা। যে গনতন্ত্র নিজেকে জনগনের শাষন হিসাবে দাবি করে, এবং আইনের শাষনের প্রতিভূ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠীত করতে চায়, সেই গনতন্ত্রের আজ একি অবস্থা।
গনতন্ত্র কি মুসলমানদের জনগনের আওতাভুক্ত মনে করে না। নাকি সে আইনের শাষনের নামে মুসলিম শোষনের পথ বেছে নিয়েছে। আর অমুসলিমদের হাতেই যখন গনতান্ত্রিক শাষনের মূল চাবিকাঠি তখন কি হবে এ গনতন্ত্রের তা সহজেই অনুমেয়।
আইন, বিচার, শাষন, বিধি, বিধান, নিয়ম, কানুন এগুলোর মর্মার্থ কি?
মানবতা রক্ষা করা! ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা! কিন্তুু মুসলমান নাম শুনলেই বৈসম্য কেন! তাহলে কি মুল্য আছে এই প্রতারনাময় গনতন্ত্রের? কি দরকার আছে এই আইনের শাষন নামক তামশার?
এ গনতন্ত্রকে আমরা কিভাবে চাইতে পারি। এ আইনের শাষনকে কিভাবে সম্মান করতে পড়ি।
বরং এ গনতন্ত্র এবং তার আইন ঐরুপ করুনা পাওয়ার যোগ্য, যেমন- করুনার পাত্র দুয়ারে দাঁড়ানো ভিক্ষুক।
এই গনতন্ত্র ও আইনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল- চড়ম উপহাস।
বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত সব জায়গায় এক অবস্থা, মুসলসানদের জন্য নেই কোন মানবতা, নেই কোন ইনসাফ। আছে শুধু গনতন্ত্রের প্রতারনা, কাজীর গরুর মত আইনের বস্তা বস্তা বই। তো চলেন, আইন ধুয়ে পানি খাই, আর লাফাই।
অত:পর-
কেউ হয়তবা সরকারকে বা শাষককে দোষারোপ করবেন। এই একটাই আমাদের দূর্বলতা। কথায় কথায় সরকারকে বা শাষককে দোষারোপ করা। তবে হ্যাঁ তাদের নিজস্ব কর্মকান্ডের জন্য অবশ্যই সমালোচিত হতে পরে। কিন্ত অনেক কিছুতেই তারা বাধ্য বা নিয়মে অাবদ্ধ। সুতরাং বুঝতে হলে,তার মূল কারন টা আমদের আগে জানতে হবে।
————–
গনতন্ত্র, এর অাইন ও ইসলাম এ বিষয় গুলো কেন পরস্পরেরর সাথে সাংঘর্ষিক, কেনই বা উপেক্ষিত মুসলমানরা তা কি আমরা জানি ! ৩২৫ কোটি মুসলমান গনতন্ত্রের সাথে মিশে একাকার হলেও তারা নিজেদের বাঁচার অধিকার টুকু অর্জন করতে ব্যার্থ হবে।(প্রমান: স্পেন) আর এ কঠিন কথার পিছনে মূল জিনষই হল বিশ্বব্যবস্থা ও তার এজেন্ডা। এই এজেন্ডাই নির্ধারন করে একটা জাতিকে বিশ্বব্যবস্থা কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে। অর্থাৎ, কোন জাতির প্রতি অপরাপর ক্ষমতাশীল জাতি গুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কিরুপ হবে!
ধরে নেয়া যাক, একটা গানিতিক সমস্যা সমাধান করার জন্য ডজন খানেক সূত্র প্রয়োজন হয়। এ সূত্রগুলো পর্যায়ক্রমে একটার পর একটা ব্যাবহার করে গানিতিক সমস্যাটির সমাধান হয়। বর্তমান এ বিশ্বব্যবস্থা এরকম একটি গানিতিক সমীকরণ আর গনতন্ত্র হল এই সমীকরণ সমাধানের সেই ডজন খানেক সূত্রের একটি মাত্র।আবার , একটি একঘাত সমীকরন সমাধানের ক্ষেত্রে (a+b)2 এর সূত্রের ব্যাবহার একদম অপ্রয়োজনীয়।তথা, যাখানে যেই সূত্রের প্রয়োজন। ইসলাম এমন এক ব্যবস্থা যেখানে গনতন্ত্র তেমনি অপ্রয়োজনীয় যেমন, একঘাত সমীকরনে (a+b)2 সূত্র।
তো অাসুন আমরা বিশ্বব্যবস্থার কিছু নিগুর তত্ত্ব দেখে নেই-
গনতন্ত্র-৯ তে এজেন্ডা নিয়ে লিখেছিলাম। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, এই এজেন্ডার আবর্তেই নিবর্তিত হচ্ছে। এই এজেন্ডার উপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যবস্থার রাষ্ট্র সমূহকে তিনভাগে ভাগ করা যায়।
।) পরাশক্তি রাষ্ট্র: এসমস্ত দেশে যে তন্ত্রই থাকুক না কেন এদের মূলনীতি হল ঐক্য বা সমযোতা তথা তাদের শাষন ব্যবস্থা হল ঐক্যতন্ত্র বা সমঝোতাতন্ত্র। তারা যত দল বা গ্রুপে বিভক্ত হউক না কেন তাদের মূল বিষয় সবসময় এক এবং কতগুলো গুরুত্বহীন, ঠুনকো বিষয়ে তাদের মতভেদ থাকে।
*এসব রাষ্ট্রের স্বকীয়তা বা স্বার্থ ঠিক রাখার জন্য যখন যেমন দল বা ব্যাক্তিকে প্রয়োজন মনে করে তখন তাকেই ক্ষমতায় আনে।
*এ সব রাষ্ট্রে “বাই দা পিপলস ” এর কোন মূল্য নেই তবে “অফ দা এবং ফর দা পিপলস” কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাত, এখানে মুক্তমত, বাকস্বাধীনতার কোন স্থান নেই, তবে নাগরিকদের সকল অধিকার ও তাদের প্রতি পালনীয় দ্বায়ীত্ব সম্পর্কে সরকার সচেতন।
*পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো, এদের স্বার্থ বিরোধী হলে, যখন তখন যেকোন রাষ্ট্রে প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ করে। অন্য কোন রাষ্ট্রের শাষক ও শাষন ব্যাবস্থ্যায়ও এদের প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ অনুমোদন থাকে।
*এ সব দেশর অনেককিছু ইহুদিদের ইশারায় হয়ে থাকে। মুসলমানদের কোন অধিকার এখানে সংরক্ষিত হয় না। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় একটি “আন্ডার কাভার সিভিল কমিটির” আদেশ ও উপদেশের ভিত্তিতে। এ কমিটির সদস্যরা ধর্মগুরুদের নির্দেশিত মত ও পথের উপর অবিচল থাকে।
*এদের শক্তির উৎস স্ব-নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন, ন্যাটো, ভেটো, ইউ এন, ই ইউ, আই এম এফ, ডাবলিউ বি, জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র, নিউক এবং অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি।
।।) অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র: এ ধরনের রাষ্ট্র গুলো পরাশক্তি নয় তবে পরাশক্তির মত অাচড়ন করে, ও এদের ব্যাপক অাঞ্চলিক প্রভাব থাকে।
* এখানে “অফ দা, বাই দা, ফর দা – সবই অমুসলিম পিপলস”। এই রাষ্ট্র গুলো মুসলিম, অমুসলিম দূর্বল রাষ্ট্র গুলোর সাথে পরাশক্তির মদদ নিয়ে ব্যাপক বেপরোয়া অাচড়ন করে, তবে মূল টার্গেট মুসলিম দেশ।
*এদের সরকার পরিবর্তনের সাথে মদদ দাতা পরাশক্তি পরিবর্তন হয়।
*এদের শক্তির উৎস পরাশক্তির সমর্থন।
।।।) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্র : মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শাষনব্যবস্থ কিরুপ হবে তা নির্ভর করে পরাশক্তি ও শক্তিশালী অমুসলিম রাষ্টগুলোর চাহিদা ও স্বার্থের উপর। অর্থাত গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র বা রাজতন্ত্র যেকোনটি। আর শাষকরা হয় ব্রয়লার মুরগীর মত পরনির্ভরশীল এবং অমুসলিমদের জন্য ফার্মের গরুর মত উপকারী।
* এসব রাষ্ট্র ” অফ দা এবং বাই দা পিপলস” কঠোর ভাবে মানে তবে এটা অবশ্যই সত্যযে এ রাষ্ট্র গুলো ” ফর দা অমুসলিম পিপলস ” এবং এটিকেই নিজের ব্রত বলে মনে করে।
* এসব রাষ্ট্রে গনতন্ত্র মানে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক বিভক্তি ও সংঘর্ষ। তবে অমুসলিমরা বিভক্ত সকল গ্রুপ থেকে সমান সুবিধা নেয়।
*এসব মুসলিম রাষ্ট্রে বিভিন্ন পলিসি, কৌশল, পরিকল্পনা দ্বাড়া প্রায় ৯০ ভাগ মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয় আর গনতান্ত্রিক ব্যাকরণেরর ভাষায় এরাই হল সাধারন জনগন। এসব সাধারন জনগনের বেশিরভাগ প্রচন্ড মাথা মোটা ও নির্বোধ ধরনের হয়। এদেরকে মাছ খেতে দিয়ে বলবেন গোশ খাওয়া ভাল না ওরা তাই মানবে, আবার গোশ খেতে দিয়ে বলবেন মাছ খাওয়া ভালনা, এরাই আবার বলবে ঠিক ঠিক। আর গনতন্ত্রে এদেরকেই বোকা বানিয়ে এদেরই ভোটে ক্ষমতায় এসে এদেরই হাতে মূলো ধরিয়ে দেয়। বেশির ভাগ গনতান্ত্রিক মুসলিম রাষ্ট্রের এই জনগোষ্ঠীর পছন্দ-আপছন্দ, সুযোগ-সুবিধা, চাওয়া-পাওয়ার কোন মূল্য শাষকদের কাছে নেই।
* এ সব রাষ্ট্রে ৮ ভাগ জনগনের মোটামুটি নেতৃত্বগুণ থাকে, তবে নৈতিকতা না থাকায় এদের মেধা, অর্জন মূল্যহীন হয়ে পরে। তাদের সস্তা আবেগ আর দুর্নীতির বিত্ত বিপদে সাহস যোগাতে ব্যার্থ হয়। আর এদের ঠুনকো নেতৃত্ব মুসলমানদের চড়ম দূর্ভোগ ডেকে আনে।
—————-
কি ভাবছেন! যা কিছু বললাম মানতে কঠিন মনে হচ্ছে। কিন্তু এরূপ কঠিন সব সত্যের উপর দাড়িয়ে আছে বিশ্বব্যবস্থা যা শুধুমাত্র আমুসলিমদের এজেন্ডা পূরণের জন্য।
আমরা বুঝিনা আমাদের ঠিক কি করা উচিৎ। তবে যা হবার তাই হবে আর এতে আমাদের কোন করার নেই।
বাস্তবতা হল এই যে, বর্তমান বিশ্বে এই এজেন্ডা সম্পর্কে কেউ বিস্তারিত কোন কিছুই জানে না। তবে ব্যাপক গবেষণা বা অনুসন্ধানে এজেন্ডার বিভিন্ন দিক, পরিধি, ফলাফল মোটামুটি কিছু অনুধাবন করা য়ায়। যার কিছু উল্লেখ করা হল—
এজেন্ডাঃ আমুসলিম শক্তির উত্থান ও মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করন।
ধাপ১-
প্রথমে ব্যাখ্যা করব বিশ্বব্যবস্থায় কিভাবে (পলিসি সমূহ) অমুসলিমদের উত্থান হয়েছে।
→অমুসলিম ঐক্যের উত্থান।
*ইউ এন পলিসি: মুসলিম খিলাফত ব্যাবস্থা ধ্বংশকরী ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর অমুসলিমরা একটি অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ যে, তারা নিজেদের মধ্যে কোন প্রকার ধ্বংশাত্বক যুদ্ধে লিপ্ত হবে না। যে বা যেসব দেশ বা জাতি এর বিরুদ্ধাচারণ করবে তাদের কে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই চুক্তি মানতে বাধ্য করা হবে। (ফলাফল: পাতানো ২য় বিশ্বযুদ্ধ – জাপান,জার্মানি, ইতালীকে বশে আনা এবং অনান্য অমুসলিম দেশ গুলোকে একত্রিকরন)
*সিগমেন্ট ফর সিগমেন্ট পলিসি: আমুসলিম দেশগুলো যদি নিজেদের মধ্যে দূর্ঘটনা বশত কোন যুদ্ধ বাধিয়েও দেয় তবে তা যেকোন ভাবে বন্ধ করার জন্য সমস্ত প্রকার পলিসি গ্রহন করতে হবে এবং সব অমুসলিম রাষ্ট্রকে তা স্বীকার করে নিতে হবে যদিয় তারা ভিতরে ভিতরে এক ও ঐক্যবদ্ধ্য।(কঙ্গো, কিউবা, চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন, ভারত এর সহ অসংখ্য যুদ্ধ)
* ফলস্ ওয়ার পলিসি: যদি দেখা যায় দুটি অমুসলিম রাষ্ট্রের পরস্পরের যুদ্ধের ফলে কোন মুসলিম রাষ্ট্র বা অঞ্চলের ক্ষতি করা সম্ভব হয় তবে বৃহত্তর স্বার্থে তাই করার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। (আফগান যুদ্ধ,ইন্দোনেশিয়া সংকট, ফিলিস্তীন সংকট, ক্রিমিয়া সংকট)
* ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি: মুসলিম রাষ্ট্র সমুহকে অমুসলিমরা সমযোতার মাধ্যমে ভাগ করে নিবে এমন ভাবে যে, যেন পক্ষ বিপক্ষ দু গ্রুপই লাঘবান হয়।(সম্পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য সরাসরি ভাবে, ও অপরাপর মুসলিম রাষ্ট্র সমূহ পরোক্ষ ভাবে)
*কট এন্ড টিচ পলিসি: কোন অমুসলিম রাষ্ট্র যদি এমন আচড়ন করে যে মনে হচ্ছে তারা এজেন্ডা বিরুদ্ধ কাজে লিপ্ত তবে তাকে অবশ্যই সোজা পথে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এমনও হতে পারে যে তাকে ধ্বংসাত্মক ভাবে বশে আনতেও দ্বিধা করা হবে না।( সিরিয়াকে পারমানবিক সহায়তা প্রদান – পরবর্তী উ:কোরিয়া সংকট)
*পিন পুশিং পলিসি: মুসলিম রাষ্ট্র সমূহের শক্তি ও ঐক্য অনুধাবনের জন্য তাদের সাথে যুদ্ধ বাঁধিয়ে অমীমাংসিত ভাবে দ্রুত শেষ করা। এ পলিসি এখন অনেক দেশ ব্যাবহার করে, হোক তারা উভয় অমুসলিম।(অারব – ইজরাঈল ছয় দিনের যুদ্ধ, চীন-ভারত যুদ্ধ)
*মাস্ক পলিসি: দুটি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে একটিকে প্রতক্ষ্য অপরটিকে পরোক্ষ ভাবে দখল।(ইরাক -কুয়েত, সৌদি- ইয়েমেন যুদ্ধ এবং দক্ষিন এশিয়ায় এরকম একটি যুদ্ধ হয়েছিল)
*রেসকিউ এন্ড আউট পলিসি: অমুসলিমরা মূল যে পলিসি গ্রহন করেছিল তাহল নিজেদের সিগমেন্ট তথা বাহ্যিক বিরোধ কে কাজে লাগিয়ে মুসলিম দেশ গুলোর সাথে যুদ্ধ বাঁধানো এবং স্বার্থ হাসিল করে কেটে পরা, আর যুদ্ধ না লাগালেও অার্থিক ভাবে ব্যাপক লাঘবান হওয়া । (সৌদি -কাতার সংকট, ইরান -ইউ এস চুক্তি, পাকিস্তানের বিভিন্ন যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া)
*ড্রিল টু বাইট পলিসি: আই এম এফ, ডাবলিউ বি, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, হু, হিউম্যান রাইটস, রেড ক্রস সহ নানা ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থা দিয়ে মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক কার্যক্রম চলানো হয় ও সুক্ষ জ্বাল বিস্তার করা হয়, এদের মাধ্যমে সর্ব দিক দিয়ে ব্যাপক সুবিধা লাভ করে অমুসলিমরা।
[ কিছু কথা~ গ্লোবালাইজেশন, সম্রাজ্যবাদ, ও কোল্ড ওয়ার এই তিনটি ট্যাকটিক্যাল শব্দকে পুঁজি করে অমুসলিমরা আজ ঐক্যের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। বিশ্বব্যবস্থায় নিউক একটি ভোঁতা অস্ত্র মাত্র, বর্তমানে পরাশক্তি ব্যাতিত কারও এটা ব্যাবহারের সাহস নেই, সেখানে রাশিয়া উ:কোরিয়াকে দিয়ে ইউ এস এ কে হুমকি দেয় মাত্র। পৃথিবীতে এমন একটা সময় অচিরেই আসবে যখন এ পারমানবিক অস্ত্র গুলো ঐদেশের জন্য বিপদের কারন হবে এবং সমুদ্র ও ভূ-ভাগের বিস্তৃত অঞ্চল তেজস্ক্রিয় দূষনের স্বিকার হবে। বায়োলজিক্যল জগতের জন্য সবচেয়ে বড় যে চমকটি দিতে চাই তা হল প্রানী জগতে বিরাট পরিবর্তন। তবে, অদূর ভবিষ্যতে নিউক ধারী কোন দেশ যদি একটা নিউকও ব্যাবহার করে তবে এটি মুসলমানদের জন্য বিরাট বিজয় ও অমুসলিম ঐক্যের বিরাট ধস বলে বিবেচিত হবে, যা আমি কখনই ব্যাখ্যা করব না। তবে সেটাকে কেন্দ্র করে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। আর যদি হয় তবে, এই ৩য় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা স্থল হতে পারে ঝুঁকির ক্রমানুসারে- ইরান, ইজরাঈল, উ:কোরিয়া, তুরষ্ক, চীন অথবা ইউ এস এ ]
ধাপ২-
এরপর শুরু, মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করন।
→ মুসলিম উম্মাহকে নেতৃত্ব শূন্য করা।
নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য কতগুলো স্টেপ ব্যাবহার করা হয়, মুসলিম দেশের শাষক এবং নেতৃস্থানীয় দের উপর-
* প্রথমে তাদের জ্ঞান, মেধা, সুনাম, অর্জন কে ধ্বংস করার জন্য বিতর্কিত কর্মকান্ডে জোড় পূর্বক জড়ানো হয়।( সাদ্দাম হোসেন, হোসনি মোবারক, গাদ্দাফি, বাশার)
* একি সাথে তাদের আর্থিক ভাবে দূর্বল করা হয়।(সৌদি জোট, তুরষ্ক)
* তাদের আদর্শ ও অনুভূতির মর্ম মূলে আঘাত করে মানসিক ভাবে দূর্বল, ভীত করা হয়। (ক্যু, আইন, মিডিয়া, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ)
*শেষ ধাপে, এসব নেতৃত্বের উপর পূর্ণনিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে সমগ্র ব্যবস্থার অর্ধেক নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। (অর্থাৎ, নেতারা কথা মত চললে ভাল, না চললে; কাট দেন পেষ্ট, মুরসি)।
→নেতৃত্বহীন মুসলিম উম্মাহর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
এর পর বাকি থাকে মুসলমান জনগন, এবং তাদের ওপর চলে নানান এক্সপেরিমেন্ট।
* সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্বিক, সামাজিক, আদর্শিক সামগ্রিক ব্যবস্থায় গোপন প্রকাশ্য আগ্রাসন চালিয়ে মুসলিম উম্মাহকে নিউট্রাল বা নিষ্ক্রিয় করা।(ফিলিস্তান, কুয়েত, কাতার, ইউ এ ই)
*এরপর নিষ্ক্রিয় উম্মাহকে বিভক্তি, হিংসা, লোভ, ভয় দ্বাড়া উষ্কিয়ে আন্দোলন, অবরোধ, সন্ত্রাসবাদ, বিশৃঙ্খলাকে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়।(পাকিস্তান, অাফগান, ইরাক, মিশর,লিবিয়া)
*এ আবস্থায় এসব দমনের নাম দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সমগ্র ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করা হয়।(সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন)
[কিছু কথা~ তো আপনি গনতন্ত্র দিয়ে কি করবেন। গনতান্ত্রিক জগতের উপর ওয়ালা তথা পরাশক্তিই ঠিক করবে আপনারা কিসের যোগ্য। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, ইসলামিক গনতন্ত্র একথা গুলোর কোন মূল্য নেই, আফটার অল আপনি ভল থাতে চেয়েও পারবেন না। কারন, গনতন্ত্র হল এজেন্ডা গত কৌশল। এটাও অমুসলিমদের একটা অস্ত্র। শত্রুর অস্ত্র দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ি হওয়া যায় না ]
————
উপরের ব্যাপক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, একটি এজেন্ডাকে সামনে রেখে অনেক পলিসি গ্রহনের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাবস্থা কে সুন্দর একটি হারমনিক ওয়েতে সাজানো হয়েছে। যার ছকে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও তার শাষন ব্যাবস্থা গুলোকে বিভিন্ন রুপে সজ্জিত করা হয়েছে। অার এই জটিল ও নিগুর কৌসল গুলো কিছু অদৃশ্য হাতের ইশারায় চলছে। আপনারা হয়তবা ফ্রি-ম্যাসন বা বিল্ডার্সবার্গ এর মত গভীর অন্ধকার জগতের নাম শুনেছেন অথবা শুনেছেন ব্যাপক প্রভাবময় পোপদের কথা, আর কিছু বলবনা, বুঝেনিন সেই অদৃশ্য হাতের বর্ণনা। এই অদৃশ্য হাতের ইশারা দ্বাড়াই পরাশক্তি রাষ্ট্র গুলোর সেই “আন্ডার কাভার সিভিল কমিটি” ঠিক করে দেয় সমসাময়িক বিশ্বব্যবস্থার রুপরেখা। এজন্যই বলেছিলাম আমাদের কিছুই করার নেই তথা আমাদের নসিব লেখবেন খোদা তালা যদি তার প্রতি অাস্থা রাখি নতুবা ঐ অদৃশ্য হাত।
এ গনতন্ত্র, মনোতন্ত্র কিছুই না, বিশাল গনিতের পুস্তকে একটি চ্যাপ্টার মাত্র, আথবা বিশাল সমীকরন সমাধানের শত সূত্রের একটা সূত্র। গনতন্ত্র হতেপারে কিছু গনতন্ত্রীর দু’মুঠো খেয়ে-পরে বাঁচার উপায় মাত্র। গনতন্ত্রে জনগন নাকি শাষকের নসিব লেখে, চড়ম হাস্যকর; কারন সেই গনতন্ত্রের নসিব লেখনে ওয়ালাই থাকে অপর কেউ। যে সমস্ত নামধারী মুসলমান বা ইসলামিক ফিরকা গনতন্ত্র দিয়ে তাদের ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে তাদের বলব, অন্ত:ত কুয়ো থেকে বের হয়ে পুকুর, খাল, বিল গুলোর বিশালতাকে অনুভব করুন, আর ততক্ষণে কেউ হয়তোবা সমুদ্রে পাড়ি জমাচ্ছে বলে খবর পাবেন।
অতপর: যদি;
——–শাবান মাসের ভাগ্যরজনীতে মুসলিম উম্মার ভাগ্যাকাশে কোন আশার আলো দেখা যায়, যদি য্বিলক্বদের আকাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়, তবে সেই মুহররম যার অাশায় চেয়ে রবে এ উমাম——-
ধন্যবাদ

লেখার সূত্র:
♦ ১৪০ টির বেশি রাষ্ট্র ও অাঞ্চলের গত ১০০ বছরের ইতিহাস।
♦গত ৮০০ বছরের মুসলমানদের ইতিহাস।
♦বিভিন্ন ইসলামিক শাস্ত্রের উল্লেখিত সমসাময়ীক বর্ণনা।
♦বিভিন্ন মিডিয়ার তথ্যের বিশ্লেষিত ভাব।
[সতর্কীকরণ: লেখাটি কোন ব্যাক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান কে উদ্দেশ্য করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। যদি কারো সাথে কোন কথা মিলে যায় তবে তা, বিশ্বব্যবস্থার অংশ হিসাবে, এমনটি হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। কোন অংশ না বুঝলে পুরো লেখাটি একাধিক বার পড়ার জন্য অনুরোধ করা হল এবং ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়।]

Views All Time
3
Views Today
6
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. দূর্গম গিরি says:

    পোষ্টে বলেছিলাম, ” উত্তর কোরিয়াকে দিয়ে রাশিয়া ইউ এস এ কে হুমকি দেয় মাত্র”। ব্যাপক গবেষণা করে লিখেছিলাম কথাটি। কিন্তু এখন সেটা শতভাগ সত্য বলে প্রমানিত হল।
    ব্রিকস সম্মেলনে চীনকে সঙ্গে নিয়ে কিমের প্রতি পুতিনের মাতৃ সুলভ উক্তি ও উ:কোরিয়া বিরোধীদের প্রতি মৃদু হুমকি।
    Coffee

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে