গান্ধী, হিরাক্লিয়াস ও বিধর্মীদের কথিত বিশেষ লোকদের ইসলামপ্রীতির স্বরূপ!


বর্তমান মুসলমানদের মধ্যে একটি স্বভাব প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। তারা বিভিন্ন বিধর্মী লেখক ও রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন কোটেশন তুলে ধরে, যেখানে তারা দ্বীন ইসলাম উনার প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম উনার মাহাত্ম্য তুলে ধরতে গিয়ে বার্নাডশ, রবীন্দ্র, গান্ধী এদের কোটেশন তুলে ধরে এসব অথর্ব মুসলমানরা। কারণ মুসলমানরা বুঝতে পারে না যে, এসব বক্তব্য আসলে দেয়া হয়েছে মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ফাঁদে ফেলার জন্য।
উদাহরণস্বরূপ গান্ধীর কথাই ধরা যাক। খিলাফত আন্দোলনের নেতা মুহম্মদ আলী যখন তার আন্দোলনে গান্ধীকে অন্তর্ভূক্ত করে নিলো, তখনই রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পাপাত্মা গান্ধীর উত্থানের শুরু। এখন মুহম্মদ আলীর পাশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চাই মুসলমানদের সমর্থন, এ জন্য গান্ধী শুরুর দিকে কিছু লোকদেখানো বক্তব্য দিয়েছিলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার স্বপক্ষে।
কিন্তু মুসলমানদের নেতা হওয়াটা গান্ধীর উদ্দেশ্য ছিলো না। তাই যখন নাম-যশ কামানো হয়ে গেলো, তখনই পাপাত্মা গান্ধী ঘোষণা দিলো, সে একজন আচারনিষ্ঠ হিন্দু এবং গরু জবাইয়ের ঘোর বিরোধী।
কথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ থেকে কট্টর হিন্দুত্ববাদে গান্ধীর এই ডিগবাজি দেখে মুসলমানদের ঘোর কাটলো। বাঙালি মুসলমানদের ইতিহাসে রয়েছে, খিলাফত আন্দোলনের সময়ে তারা গান্ধী ও কংগ্রেসের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু গান্ধীর এই প্রতারণার পর তাদের অনেকেই কংগ্রেস থেকে দূরে সরে আসে।
কিন্তু মুসলমানরা তো তাদের সন্তানদেরকে বিধর্মীদের প্রতারণা ইতিহাস শিক্ষা দেয় না। তাই আমাদের প্রতারিত পূর্বপুরুষদের বর্তমান উত্তরসূরিরা ফের গান্ধীর সেসব প্রতারণামূলক উক্তিগুলো ভক্তিভরে উচ্চারণ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। নাউযুবিল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “দেখো! তোমরা তাদেরকেই (কাফিরদেরকে) ভালোবাসো, কিন্তু কাফিরেরা কিন্তু তোমাদেরকে ভালোবাসে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস করো। কাফিরেরা যখন তোমাদের কাছে আসে, তখন তারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। পক্ষান্তরে যখন কাফিরেরা নিজেরা নিজেরা একত্রিত হয়, তখন তোমাদের প্রতি শত্রুতায় তারা নিজেরা নিজেদের হাতের আঙ্গুল কামড়াতে থাকে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৯)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে যে, বিধর্মীরা মুসলমানদের ধোঁকা দিতে ঈমান আনার ভান করে। কিন্তু নিজেরা নিজেরা একত্রিত হলে আঙ্গুল কামড়ায়। তবে এই পবিত্র আয়াত শরীফ কেবল বর্তমান যামানার অথর্ব মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সময়েও কাফিরেরা একই চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু উনাদেরকে কখনো তারা ধোঁকা দিতে পারেনি।
আমরা জানি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়ে রোমের শাসক ছিলো হিরাক্লিয়াস। এই হিরাক্লিয়াস তাওরাত শরীফ ও ইনজিল শরীফে পারদর্শী হওয়ার কারণে ভালোভাবেই জানতো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হলেন আখিরী রসূল। কিন্তু তারপরও এই হতভাগা হিরাক্লিয়াস ঈমান আনতে ব্যর্থ হয়, কারণ তার ছিলো ক্ষমতার লোভ। খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে রোমের সিংহাসন ত্যাগ করতে হবে, যার যোগ্যতা হিরাক্লিয়াসের ছিলো না।
কিন্তু তারপরও এই হিরাক্লিয়াস ইনিয়ে বিনিয়ে মুসলমানগণ উনাদের উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখতো। বোঝানোর চেষ্টা করতো, দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি তার কতোই না দরদ! কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হিরাক্লিয়াসের এসব সেকিকান্নায় কর্ণপাত করলেন না। ঠিকই পরে দেখা গেল, এই হিরাক্লিয়াস তাবুকের যুদ্ধে মুসলমানগণ উনাদের বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করেছে।
আসলে মুসলমানরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। একারণেই বিধর্মীদের সামান্য অভিনয় দেখে মুসলমানরা ধোঁকা খেয়ে যায়। যেই কাফির দ্বীন ইসলাম উনার মুখে মুখে প্রশংসা করে অথচ দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে না, সেই কাফিরই তো সবচেয়ে বড় শয়তান ও মুনাফিক। যদি দ্বীন ইসলাম হক্ব বলেই মেনে নিবে, তবে গ্রহণ করবে না কেন? এরচেয়ে বড় মুনাফিকী তো কিছুই হতে পারে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে