‘গোল্ডেন রাইস’ একটি বহুমুখী ষড়যন্ত্রের অংশ 


সম্প্রতি সরকারী কিছু আমলারা গোল্ডন রাইসের পক্ষে কথা বলছে। তারা না জেনে হোক অথবা লোভে পড়ে হোক যেভাবেই এটার পক্ষে কথা বলে না কেন, এটা মূলত একটি চক্রান্তের অংশ। গোল্ডেন রাইস উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করবে। এই রাইস মূলত মানবতাবাদের আড়ালে বহুজাতিক এগ্রো কর্পোরেশনের পাবলিক ইমেজ বৃদ্ধির বিজ্ঞাপনী কৌশল যা বীজ রাজনীতিকে বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। গোল্ডেন রাইস প্রবর্তনের জন্য বহুজাতিক কর্পোরেশনের আগ্রহের কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ, ফিলিপাইনের মত দেশগুলোতে রাতকানা দূর করার মত মানবহিতৈষী প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে জিএম প্রযুক্তির একটা ভাল ইমেজ সৃষ্টি করা এবং এর উপর ভিত্তি করে এসব দেশের কৃষিতে অন্যান্য জিএম শস্য বীজের বাজারজাতকরণকে তরান্বিত করা। জিএম বিটি কটন, জিএম ভুট্টা এসব শস্যের বীজ মালিকানা কোম্পানির হওয়ায় চড়া দামে কৃষকদের বীজ কিনে নিতে হয় এবং এসব খাদ্যের জন্য কোম্পানির উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়ায় দেশে দেশে সিভিল সোসাইটি এবং কৃষকদের মাঝে এই বীজ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানি এখন চাচ্ছে জিএম গোল্ডেন রাইসের রয়ালিটি ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে মানবতাবাদের আড়ালে উন্নয়নশীল/অনুন্নত দেশের কৃষক সমাজের মাঝে জিএম বীজের প্রতি আস্থা সৃষ্টি করতে। ফলে কোম্পানির এই কথিত প্রকল্পকে মহতী মনে করার কোন কারণ দেখি না। আমরা ঢালাওভাবে জিএম প্রযুক্তির বিরোধী নই। ইনসুলিন এর মত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। অনেক জেনেটিক রোগের চিকিৎসা এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসা ক্ষেত্রে জিএম আর কৃষিতে জিএম এক নয়।
বীজ নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, বীজের মালিকানা এসব প্রশ্ন বাদ দিয়ে জিএম প্রযুক্তির নির্বিচার প্রয়োগ আমাদের কৃষিতে বহুজাতিক কোম্পানির মনোপলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। এই গোল্ডেন রাইস বাজারজাত করা হলে বাংলাদেশ তার নিজস্ব ধান ব্রি-২৯ এর মালিকানা হারাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এমনিতেই বহুজাতিক কোম্পানির প্যাটেন্ট আগ্রাসনে বাংলাদেশ প্রচুর ধানের জাতের মালিকানা হারিয়েছে। এখন আবার দেশের জনপ্রিয় ধান ব্রি-২৯ জাতের প্যাটেন্ট কোম্পানির করায়ত্তে চলে গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। আবার জিএম শস্য বলেই এই ধানের রেণু ছড়িয়ে পড়ে অন্য জাতের ধান ও গাছপালার উপর কৌলিক প্রভাব পড়বে যা অন্যপ্রজাতির ধান বা ফসলের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তণ করে ফেলতে পারে। এই জিনগত বিশৃঙ্খলা দেশের প্রাণ ও প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। ফলে জিএম গোল্ডেন রাইসের জৈবনিরাপত্তা টেস্ট করা অপরিহার্য।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে