চাঁদের তারিখ হেরফের – ২৮ রোজায় ঈদের চাঁদ দেখতে বললেন সৌদি সুপ্রিম কোর্ট


এ বছর সৌদি আরবে রমজান ২৮ দিনেই শেষ হতে পারে। এ জন্য গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সৌদি সুপ্রিম কোর্ট। চাঁদ দেখা গেলে আজ বুধবার সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন হওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে ঈদের পরদিন আরেকটি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতারা। তবে রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
চাঁদ দেখামাত্রই নিকটস্থ আদালতে জানানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার চাঁদ দেখা না গেলে আজ বুধবারও চাঁদ দেখতে হবে।
এ বিজ্ঞপ্তির ফলে মুসলিম তীর্থভূমি হিসেবে স্বীকৃত দেশটিতে ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ রোজার শেষে কিভাবে ঈদ হবে, গতকাল সেই প্রশ্ন ছিল সৌদি নাগরিকদের মুখে মুখে।
আরবি চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী রমজান মাস সম্পন্ন হয় ২৯ অথবা ৩০ দিনে। মাসটি কবে শেষ হবে, সেটা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডে ২৯ রমজানের সন্ধ্যায় (সূর্যাস্তের পর) নতুন চাঁদ দেখতে পাওয়া বা না পাওয়ার ওপরে। ওই দিন সন্ধ্যায় মাথার ওপরের আকাশে এক ফালি চাঁদ মানেই পরের দিন থেকে শাওয়াল মাসের সূচনা। আর সেই দিনটি মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য খুশি আর আনন্দের বার্তা বয়ে আনে, পালিত হয়ে থাকে ঈদুল ফিতর নামে। পবিত্র কোরআনেও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে রমজান মাস সম্পন্ন হবে ২৯ অথবা ৩০ দিনে।
চাঁদের গতিবিধি জন্ম দিয়েছে ২৮ রমজানের শেষে চাঁদ দেখার এই বিশেষ প্রয়োজনীয়তা। এর আগে একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল হিজরি ১৪০৪ সালে (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী সেটা ছিল ১৯৮৪ সাল)।
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতারা একমত হয়েছেন, হিজরি ১৪০৪ সালের রমজানের মাস গণনার নিয়মটি সঠিক ছিল না। শুরুতেই ভুল করা হয়েছিল। এ কারণে সে বছরও ২৮ রোজার শেষে ঈদের চাঁদ উঠতে দেখে সৌদি আরবের মানুষ। সে বছরও স্বাভাবিক নিয়মে ২৮ রোজা শেষে মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরের রোজাটি রাখার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই সেহরি খাওয়ার ব্যবস্থা করছিল। অনেকে রাতের কাজ সেরে ঘুমিয়েও পড়েছিল। কিন্তু তাদের অবাক করে দিয়ে সন্ধ্যার আকাশে দেখা দিয়েছিল শাওয়ালের চাঁদ। সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সেই চাঁদ দেখতে পেয়ে বিচলিত হয়ে যায় স্থানীয় মানুষ। এরপর ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শেষে পাওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে মধ্যরাতে পর দিন ঈদ হওয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি সরকার। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি এতটা আধুনিক না হওয়ায় খবরটা সারা দেশের মানুষকে তারা জানাতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। একই সঙ্গে বিষয়টা ভীষণ বিভ্রান্ত করে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষকে। আরব দেশগুলোতে এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেন বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা। ফলে কোথাও সরকার ঘোষিত দিনে কোথাও বা এর পরদিন পালিত হয় ঈদ উৎসব। মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় নেতারা সৌদি আরবের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেন। সে দেশে ২৯ রোজার শেষেই পালিত হয় ঈদ।
সেই বিতর্কে ছিল দুটো দিক। ধর্মীয় বিধান অনুসারে শাওয়ালের চাঁদ দেখা দিলে পরদিন ঈদের নামাজ পরার যেমন নিয়ম আছে পাশাপাশি রোজা ২৯ বা ৩০টি করতে হবে এমন নিয়মও পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন। সৌদি ধর্মীয় নেতারা ফতোয়া দেন, যেহেতু ২৮ রোজা শেষে ঈদ হয়েছে আর ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী রোজা হতে হবে কমপক্ষে ২৯টি তাই অবশিষ্ট রোজাটি ঈদের পরে রাখতে হবে। এর বিপরীতে উদারপন্থী ফতোয়াও দিয়েছিলেন আরেক দল ধর্মীয় নেতা। তাঁরা বলেন, যে রোজাটি বাদ পড়ে গেছে সেটি পালন না করতে চাইলে ১০ জন ফকির-মিসকিনকে খাওয়াতে হবে।
চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী ৩০ বছর পরে এবার এসেছে সেই বছর। তাই সৌদি আরবে এই উদ্বেগ। চাঁদ দেখা গেলে আজ সৌদি আরবে যদি ঈদ শুরু হয় তবে এর প্রভাবে গোলমালে পড়ে যাবে পুরো মুসলিম বিশ্ব। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না।

সূত্র : http://www.kalerkantho.com/print_edition/index.php?view=details&type=gold&data=news&pub_no=1327&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=5#.UgH2ND9rFkg

Views All Time
3
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+