চাঁদ দেখার গুরুত্ব ও তাৎপর্য


يَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّـةِ ۖ قُلْ هِـىَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْـحَـجِ ۗ
অর্থ : “ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নিকট মানুষেরা চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, আপনি জানিয়ে দিন, এটা হচ্ছে মানুষের জন্য ইবাদত উনার সময় নির্ধারক এবং সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৯)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে বাঁকা চাঁদকে সময় নির্ধারণ করার মাধ্যম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অমাবস্যার চাঁদ, জোছনার চাঁদ, অর্ধ চন্দ্র, সূর্যাস্তের কিছু পূর্বে ডুবে যাওয়া চাঁদ, নির্দিষ্ট বয়সের চাঁদ এসবের উল্লেখ করা হয়নি। অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মনগড়া ব্যাখ্যা করে আজকাল ইহুদীদের মদদপুষ্ট খারিজী, রাফিজী, সালাফী, ওহাবী গং তাদের বানানো নিয়মে মাস গণনা করে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْـنِ عُـمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّـمَ اِنَّا اُمَّةٌ اُمِيَّةٌ لَا نَـكْـتُبُ وَلَا نَـحْسِبُ اَلشَّهْرُ هٰكَذَا وَهٰكَذَا وَهٰكَذَا وَعَقَدَ الْاِبْـهَامَ فِى الثَّالِثَةِ ثُـمَّ قَالَ اَلشَّهْرُ هٰكَذَا وَهٰكَذَا وَهٰكَذَا يَعْنِىْ تَـمَامَ الثَّلٰثِـيْـنَ يَعْنِىْ مَرَّةً تِسْعًا وَّعِشْرِيْـنَ وَمَرَّةً ثَلٰثِـيْـنَ.
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মত সহজ সরল। উনাদের জন্য মাসের হিসাব রাখা কষ্টকর হবে। তাই মাস হয় এই, এই, এইতে (এই বলে তিনি দুই হাত মুবারক তিনবার দেখালেন) এবং তৃতীয় বারে (এক হাত মুবারকের) বৃদ্ধা আঙ্গুল মুবারক বন্ধ রাখলেন (অর্থাৎ ঊনত্রিশ দিনে)। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করলেন, মাস হয় এই, এই ও এইতে অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিনে। অর্থাৎ একবার ঊনত্রিশ দিন আরেকবার ত্রিশ দিন দেখালেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
সুতরাং চন্দ্রমাস বা আরবী মাস ২৯ দিন অথবা ৩০ দিনে হয়ে থাকে। কোন মাসে যদি কোন কারণবশতঃ ২৯তম দিন শেষে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যায় তবে উক্ত মাস ৩০ দিন পূর্ণ করার পর পরবর্তী মাস শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّـمَ صُوْمُوْا لِرُؤْيَتِه وَاَفْطِرُوْا لِرُؤْيَتِه فَاِنْ غُـمَّ عَلْيْكُـمْ فَاَكْـمِلُوْا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِـيْـنَ.
অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা রোযা রাখ (রমাদ্বান শরীফ উনার) চাঁদ দেখে এবং রোযা ভঙ্গ কর (শাওওয়াল শরীফ উনার) চাঁদ দেখে। যদি (২৯ তারিখ) মেঘ অথবা অন্য কোন কারণে তোমাদের প্রতি চাঁদ দেখা না যায় তবে শা’বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।” (বুখারী শরীফ; মুসলিম শরীফ; মিশকাত শরীফ ১৭৪; শরয়ী তাক্বউইম-১৪৩৫ হিজরী, পৃষ্ঠা-৮)
প্রতি মাসেই চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া। প্রতি মাসেই মুসলমান উনাদের জন্য রয়েছে বিশেষ বিশেষ কিছু দিন এবং রাত। আর সে কারণে চাঁদ না দেখে মনগড়া তারিখে আরবী মাস শুরু করা কবীরা গুনাহ। এখানে একটি বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, প্রতি মাসেই চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া। কিন্তু সঠিক তারিখে মাস শুরু করা ফরয। কেননা সঠিক তারিখে মাস শুরু না হলে অনেক ফরয-ওয়াজিব ইবাদত পালনে ত্রুটি হবে। যেমন পবিত্র রোযা, পবিত্র হজ্জ, পবিত্র ছলাতুল ঈদাইন ইত্যাদি। কাজেই প্রতি মাসে নতুন চাঁদ তালাশ করা সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ওয়াজিবে কিফায়া। আর চাঁদ না দেখে মনগড়া তারিখে পবিত্র রোযা শুরু করা ও পবিত্র ঈদ পালন করা কঠিন কবীরা গুনাহ।
সউদী ওহাবী সরকারের বানানো মনগড়া ক্যালেন্ডারের অনুসরণের কারণে প্রতি বছর পবিত্র হজ্জ বাতিল হচ্ছে, পবিত্র রোযা নষ্ট হচ্ছে, পবিত্র ঈদ বাতিল হচ্ছে। সউদী আরব ছাড়াও অনেক মুসলিম দেশেও চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু হচ্ছে না। চাঁদের তারিখ হের-ফের করে সহজেই মুসলমানদের আমল নষ্ট করা যায়। তাই মুনাফিকদের সাথে নিয়ে কাফির-মুশরিকরা সারা বিশ্বে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করার সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত নির্দেশিত পদ্ধতির পরিবর্তে তাদের বানানো মনগড়া পদ্ধতি চাপিয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে এখনও বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশের মুসলমানগণ সম্পূর্ণরূপে উদাসীন। মুসলমানদের আমল হিফাজতের জন্য, সচেতনতার জন্য আমাদের দেশে এবং বিদেশে চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে আরবী মাস শুরু করার অভিপ্রায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটি “রু’ইয়াতে হিলাল মজলিস”। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন রু’ইয়াতে হিলাল মজলিসের এই কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করেন। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে