চাই না কোটি-কোটি সার্টিফিকেটধারী অন্তঃসারশূন্য মাওলানা , চাই সূক্ষ্ম সমঝদার আল্লাহওয়ালা আলেম


চাই না কোটি-কোটি সার্টিফিকেটধারী অন্তঃসারশূন্য মাওলানা
চাই সূক্ষ্ম সমঝদার আল্লাহওয়ালা আলেম
যারা পাল্টে দিবেন ধরণীর বেশ…
====সকলে ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং চিন্তা-ফিকির করবেন===

উড়িয়ে আ’যম, নিযামুল মুলক সাদকায়ে জারিয়ার বরকতের আশায় এবং ইসলামী বিশ্বের সর্বোচ্চ ইলমী মারকাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত করেন মাদ্রাসায়ে নিযামিয়া ।
এ বিশ্বখ্যাত মাদ্রাসায় পড়ুয়া এবং পাঠ সমাপ্তকারী সকলেই তখন জনমনে বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র।
কিন্তু সেই নিযামিয়া মাদ্রাসাকে এর প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং নিযামূল মূলক ভেঙ্গে ফেলতেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। কারণ হিসেবে – একবার তিনি গিয়েছিলেন মাদ্রাসা পরিদর্শনে। বলাবাহুল্য বিপুল ছাত্রের সমাহার, নামী-দামী ওস্তাদের সমাবেশ সুরম্য প্রাসাদ সবই ছিল এক কথায় আকর্ষণীয় এবং সুষ্ঠভাবে পরিচালিত।
এক এক করে ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলেন, তার মাদ্রাসার পড়ার পেছনে উদ্দেশ্য কি? নিয়ত কি? প্রত্যেকেরই জবাব ছিল। জবাবে বেচিত্র্যতা থাকলেও বৈশিষ্ট্য ছিল একই প্রকৃতির। সবই দুনিয়াবী স্বার্থ ঘেষা প্রবনতা। কেউ বলেছিল- তার বাবা কাজী সাহেব, তাই তাকেও কাজী সাহেব হতে হবে। কেউ বলেছিল- সে মুফতী হয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে। কেউ বলেছিল- অমুক মুহাদ্দিসের মত সেও ব্যাপক নাম-ধাম কামাই করবে। কেউ বলেছিল- তার বাবা বড়আলিম, তাকেও বড় আলিম হতে হবে। কেউবা অন্য প্রকার দুনিয়াবী বাসনা প্রকাশ করেছিল। এসব শুনে যখন মুহতারাম নিযামুল মুলক ত্যক্ত-বিরক্ত, তখন উনার দৃষ্টি গেল অন্য এক কক্ষের প্রতি। দৃষ্টিতে অনুসরণ করে সেথায় গিয়ে তিনি দেখলেন, এক কোনে এক ছেলে নিবিষ্ট মনে পড়াশুনা করছে। তার কাছে যাওয়া হলো- কিন্তু উড়িরে আ’যম, নিযামুল মুলকের প্রতি উনার কোন উৎসুক্য প্রকাশ পেলনা। একাগ্রচিত্তে চলছিল তার ইলমী ছবক। নিযামুল মুলক কথা বলতে চাইলেন কিন্তু ইলম চর্চায় ছেদ পড়বে সে কথায় বাধা গ্রস্থ হলেন। অবশেষে অনুরোধে কাজ হলো। জিজ্ঞেস করলেন, আপনার মাদ্রাসায় পড়ার পেছনে উদ্দেশ্য কি? উওরে বললেন- খালিছ আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য। হাজারো শোকরিয়া আদায় করলেন নিযামূল মুলক। বললেন, আজকে এই ছেলের কারণেই এই মাদ্রাসা রক্ষা পেল। নতুবা এই মাদ্রাসা আমি ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো করে দিতাম।
উল্লেখ্য, পরবর্তীতে তথাকথিত মাদরাসার পড়ুয়াদের সাথেও এই মুবারক ছেলের ব্যবধান বজায় ছিল। তারা উনার ঘৃন্য বিরোধীতায় মেতে উঠেছিল। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল উনার অমূল্য লেখনী। যেগুলো আজ কাজ করছে ইসলামের হুজ্জত বা দলীল হিসাবে। আর লেখক হিসেবে তিনি সম্মানিত হচ্ছেন- হুজ্জাতুল ইসলাম, ইমাম গাজ্জালীরূপে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+