চারু ও কারু বলতেই কেন পাঠ্যপুস্তকে ছবি-ভাস্কর্য নিয়ে আসা হচ্ছে? বাংলার মুসলিম শাসনামলের ক্যালিগ্রাফি ও স্থাপত্যশিল্পগুলো কি কারো চোখে পড়ে না?


পবিত্র মুসলিম শরীফ উনার একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে যে, “হযরত সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট এসে বললো, আমি এমন এক ব্যক্তি যে প্রাণীর ছবি অংকন করি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমাকে ফতওয়া দিন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাকে বললেন, তুমি আমার নিকটবর্তী হও। সে ব্যক্তি উনার নিকটবর্তী হল। পুনরায় বললেন, তুমি আরো নিকটবর্তী হও। সে আরো নিকটবর্তী হলে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ ব্যাপারে যা ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি তোমাকে তা বলব। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তৈরীকারীই জাহান্নামে যাবে। এবং আল্লাহ্ পাক প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেই ছবি গুলো তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।” এবং হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয় তবে, গাছ-পালা বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁক। (পবিত্র মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২)”
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কারণেই মুসলমান উনাদের মধ্যে কখনোই ছবি-মূর্তির চর্চা দেখা যায়নি। মুসলমান উনাদের মধ্যে দেখা গিয়েছে হস্তলিপিশিল্প তথা ক্যালিগ্রাফির চর্চা, স্থাপত্যশিল্পের চর্চা, বিভিন্ন স্থাপনায় নকশার চর্চা।

যে কারণে আজও পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের যে প্রথম ১০টি স্থাপনায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক গমন করে, তার ৯টিই মুসলিম স্থাপনা। শুধু ভারতে নয়, বাংলার সুলতানী শাসনামলে এ অঞ্চলে বহু মসজিদ-মাদরাসা স্থাপিত হয়েছিল। মুঘল আমলে দিল্লীর জামে মসজিদ নির্মাণের আগে সুলতানী শাসনামলের আদিনা মসজিদ ছিল গোটা ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় মসজিদ।

শুধু মসজিদ ও স্থাপনাই নয়, বরং মসজিদ মাদরাসার সাথে বিভিন্ন পোড়ামাটির নকশা ও ক্যালিগ্রাফিও পাওয়া গিয়েছে, যেগুলো দেশের বিভিন্ন মিউজিয়ামে রাখা আছে। সুলতানী শাসনামলে আরবী ক্যালিগ্রাফির একটি বিশেষ শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছিল বাংলায়, যাকে ‘বেঙ্গল তোঘরা’ বলা হয়। এই ‘বেঙ্গল তোঘরা’র বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো কালো পাথরের ওপর খোদাই করে নকশা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এ অঞ্চলের মুঘল শাসকদের আমলেও বহু আরবী-ফারসী ক্যালিগ্রাফির নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো মিউজিয়াম ছাড়াও এদেশের বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু এই শিল্প উৎকর্ষের কোন উল্লেখ বর্তমান নাস্তিক শিক্ষামন্ত্রীর ষড়যন্ত্রমূলক পাঠ্যপুস্তকে পাওয়া যায় না। এই বাংলায় শত শত প্রাচীন মসজিদ থাকলেও বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে কেবল উল্লেখ রয়েছে মন্দিরের। নাউযুবিল্লাহ!

এই বাংলায় মুসলিম শাসনামলের স্থাপত্যনকশা ও ক্যালিগ্রাফিগুলো নিয়ে কেন বিশেষায়িত পাঠ্যপুস্তক রচিত হবে না? কেন অসুস্থ রুচির বিবস্ত্র ছবি ও ভাস্কর্য নিয়ে স্বতন্ত্র পাঠ্যপুস্তক রচনা করে এদেশের মুসলিম শিশুদের বিপথগামী করা হচ্ছে? বর্তমানে যে ছবি-মূর্তিসর্বস্ব চারু ও কারুকলা নামক পাঠ্যপুস্তক রয়েছে, তা অবিলম্বে বাদ দিতে হবে এবং বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম স্থাপত্যরীতির নকশা ও আরবী ক্যালিগ্রাফি নিয়ে বিশেষায়িত পাঠ্যপুস্তক রচনা করতে হবে। অসভ্য ছবি-মূর্তির চর্চা বাদ দিয়ে সভ্য মুসলিম ঐতিহ্যের চর্চা জারি করতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে