চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে খাছ সুন্নত অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধাচরণ করা অপপ্রচার মাত্র। মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নোংরামী, অনৈতিকতা ছড়িয়ে দেয়াই যার মুল লক্ষ্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অল্প বয়সে বিবাহ ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী


অল্প বয়সে বিবাহ ব্যাপারে পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষ এখন যেন দায়ভার সম্মানিত ইসলাম উনার উপর চাপিয়ে দেবার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আর এই অসুস্থ প্রচারণার শিকার হয়ে আজ এমনকি মুসলিমরাও এর বিরুদ্ধে বলতে শুরু করেছে অথবা নানাভাবে একে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছে। নাউযুবিল্লাহ!
আধুনিক বিজ্ঞান এবং মেডিক্যাল সাইন্স এবং আজকে থেকে হাজার বছর পরের বিজ্ঞান ও মেডিক্যাল সাইন্স একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই জানেন। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক যেটা হালাল করেছেন, সেটা উনার অসীম ইলমে গইব থেকেই হালাল করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি যেটা হারাম করেছেন সেটা উনার অসীম ইলমে গইব থেকেই হারাম করেছেন। এবার মেডিক্যাল সাইন্সের প্রেক্ষাপটে অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার কিছু অজানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ!
সম্মানিত ইসলামে চিকিৎসা নেয়ার ব্যাপারে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। চিকিৎসা গ্রহণ করা ফরয-সুন্নত উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তবে বর্তমান যুগে মেডিক্যাল সাইন্স এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ অনেক ক্ষেত্রে একে মহান আল্লাহ পাক উনার স্থলে ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে! নাউযুবিল্লাহ! আর মানুষের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থবাদী গোষ্ঠী মেডিক্যাল সাইন্সকে ব্যবহার করে গোপন সব ফায়দা লুটে নিচ্ছে, যা চিরকালই সাধারণ মানুষের ধারণার অতীত হয়ে থাকবে। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি উদাহরণ দিতে চাই-
১. নিকট অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাক আক্রমণ করে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছিলো এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার খবরেই বিশ্ব বিবেকে নাড়া পড়ে গিয়েছিলো, এহেন অবস্থায় মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাবার জন্য তারা আশ্রয় নিলো তাদের বিশ্বস্ত এবং কার্যকর অস্ত্র মেডিক্যাল সাইন্সের। ওদের সমস্ত মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে তারা ‘সার্স’ (ঝঅজঝ-ঝবাবৎব অপঁঃব জবংঢ়রৎধঃড়ৎু ঝুহফৎড়সব) নামের এক জীবনঘাতী মহামারী রোগের বিস্তারের প্রচার শুরু করলো এবং এ রোগের বিস্তারে মানুষের করণীয় হিসাবে মুখে মাস্ক পরার কথা প্রচার করলো। তাদের এ প্রচার মারাত্মক কাজ করলো। ইরাক যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে মানুষের দৃষ্টি সার্সে নিবদ্ধ হলো আর লক্ষ লক্ষ মানুষ এর ভয়ে মাস্ক পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে লাগলো। তবে অনেক চিকিৎসক ও গবেষকের মতে, সত্যিকার অর্থে সার্স নামে কোনো রোগ ছিলো না, বরং সামান্য ফ্লু’কেই সে সময় অতিরঞ্জিত করে ‘সার্স’ নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছিলো। মজার ব্যাপার হলো, ইরাক যুদ্ধের ওই সময়টা বাদ দিয়ে বিশ্বে আর কখনো না সার্সের প্রাদুর্ভাব আগে ঘটেছে, আর না তার পরে কখনো ঘটেছে। অথচ এ রোগের নির্মূলের জন্য কোনো টীকা কোথাও দেয়া হয়নি, তাহলে এ রোগ কোথায় গেলো?
২. একইভাবে কিছুদিন আগে অর্থনৈতিক মন্দার সময় ‘সোয়াইন ফ্লু’ নামের এক জীবনঘাতী মহামারীর কথা প্রচার করা হয় এবং অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে প্রায় সাথে সাথেই এই কার্যকরী ঔষধ ও ভ্যাক্সিনের কথাও প্রচার করা হয়। সারা বিশ্বে কোটি কোটি ডলারের ঔষধ বিক্রি করা হয়, কিন্তু সে রোগটি এবং এর ঔষধের ভেতর আদৌ কি ছিলো তা আজও অভিজ্ঞদের কাছে রহস্যাবৃত রয়ে গেছে।
৩. এইডস নিয়ে সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে আর এ রোগে ধুঁকছে আরো কোটি কোটি মানুষ। তবে মেডিক্যাল সাইন্সে এইডস-এর ভাইরাস সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে- তা এসেছে আফ্রিকার বানর থেকে। তবে একদল বিজ্ঞানী গবেষণার ভেতর উঠে এসেছে যে, এইডস-এর ভাইরাস এইচআইভি বানর থেকে আসা অসম্ভব এবং তারা দেখিয়েছে যে- এইডস-এর ভাইরাস ল্যাবরটরিতে মডিফিকেশন করে তৈরি করা হয়েছে আফ্রিকার ব্ল্যাক জনসংখ্যা কমানোর জন্য এবং টীকাদান বা ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে এর জীবাণুকে গোপনে মানুষের দেহে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।
অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রেও তারা একই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে দেশী-বিদেশী দালাল আর মিডিয়ার মাধ্যমে। এ বিরোধিতা করার একমাত্র কারণ সম্মানিত ইসলামকে অবমাননা করা, সুন্নতকে ইহানত করা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধে বলা অপপ্রচার মাত্র।
সাধারণত মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্কতা প্রকাশ পায় ৮ বছর বয়সে আর ছেলেদের ৯.৫ বছর বয়সে ইহা মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৩ আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৩.৫ ও হতে পারে। তাহলে দেখা যাচ্ছে- এই বয়সেই একটি ছেলে বা মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে ।
এবার আসা যাক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা সমস্ত মেডিক্যাল সমস্যাগুলোর ব্যাপারে:
১. অল্প বয়সে গর্ভধারণ বিষয়ক প্রধান যে সমস্যাগুলো সম্পর্কে বলা হয়, তা হলো- রক্ত স্বল্পতা, অধিক সময় ধরে ডেলিভারী, ইঊটেরাস বা গর্ভাশয় ফেটে যাওয়া, গর্ভে বাচ্চার ডিস্ট্রেস ইত্যাদি।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই সব গর্ভজনিত কমপ্লিকেশন বা সমস্যা যে শুধু অল্পবয়সী মায়ের ক্ষেত্রেই হবে তা নয়, বরং এগুলো যেকোনো বয়সের মায়েদেরই হতে পারে এবং এমন কোনো কমপ্লিকেশন নেই, যা কেবল অল্পবয়সী মায়েদেরই হয়। যারা এসব দোহাই দিয়ে অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধ বলে, চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাই প্রমাণ পায়।
২. মেডিক্যাল সাইন্সের অবসট্রেটিকস বা ধাত্রীবিদ্যায় প্রায় সবকটি রোগের প্রথম ভুক্তভোগীর নাম হলো ‘এলডারলি প্রাইমি’ বা ‘বেশি বয়সে প্রথম গর্ভধারণ’। এমনকি আমাদের দেশে (যে দেশ সম্বন্ধে অমুসলিমরা বলে থাকে যে- বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি) হাসপাতালগুলোতেও গর্ভজনিত রোগের প্রধান ভুক্তভোগীরা হলো এলডারলি প্রাইমি বা বেশি বয়সে প্রথম বাচ্চা নেয়া মা। তবে কম বা বেশি বয়সী মা যাই হোক না কেন, সমস্ত রোগই এখন চিকিৎসাযোগ্য। বয়স কম হোক কিংবা বেশি- সঠিক পুষ্টিমান আর যত্ন নিরাপদ প্রসবের অন্যতম শর্ত। এখন কেউ যদি এ শর্ত মেনে না চলার কারণে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে তার দায় একান্ত তার, অল্প বয়সে বিয়ের উপর নয়।
৩. আরেকটি ব্যাপার হলো এই যে, মেডিক্যাল সাইন্সেই অল্পবয়সে গর্ভধারণ নারীর অনেক জটিল রোগের কার্যকর প্রতিরোধোক বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন- জরায়ুর টিউমার ও ক্যান্সার, ব্রেস্ট টিউমার, হরমোনাল অনেক সমস্যা, ঋতুজনিত সমস্যা ইত্যাদি।
৪. অল্প বয়সে বিয়ে হলে মানসিক সমস্যার কথা বলে থাকে অল্প বয়সে বিবাহের অপপ্রচারকারীরা। অথচ গবেষণায় এসেছে অল্প বয়সে বিয়ের মানসিক দিকগত সুবিধা অনেক। যেমন-
ক. সার্থক দম্পত্তি হন: একে অন্যকে জানার সুযোগ পায়, পরস্পরের প্রতি মুহব্বত বৃদ্ধি পায়, সহনশীল হন।
খ. পারস্পরিক সহযোগিতা করার মনোভাব বৃদ্ধি পায়: এরা সক্রিয় এবং একে অন্যকে সহযোগিতা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
গ. একসাথে অনেক বছর জীবন কাটানোর সুযোগ পায়।
ঘ. মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি- আহাল রুজির জন্য বাহিরে যান এবং আহলিয়া সংসার ও বাচ্চাদের দেখভাল করেন। ফলে এ দম্পত্তি তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন এবং সন্তানদের পিছনে সময় দেয়ার যে শক্তি প্রয়োজন, তা পূরণ করতে পারেন।
ঙ. সন্তান জন্মদানে বেশি সক্ষম থাকে।
৫. কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হলে ফিস্টুলা হওয়ার দোহাই দেয় অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীরা। অথচ কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে ফিস্টুলা হওয়ার কারণ নয়। ফিস্টুলা হলো দুই বা তার অধিক আবরণী স্তরের মধ্যে অস্বাভাবিক যোগাযোগ। প্রধান কারণ হলো-বাচ্চা প্রসবের সময় যদি বাধা পায়, যাকে Obstructed (বাধাগ্রস্ত) ষধনড়ঁৎ বলে। ফিস্টুলা হওয়ার সাথে বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই। মেয়েদের বিভিন্ন আকার আকৃতির পেলভিস দেখা যায়। কিছু পেলভিস আছে যেখানে Obstructed labour হয়।
বাংলাদেশে ফিস্টুলা কেন বেশি হয়?
১. বাচ্চা পেটে থাকার সময় যত্ন না নেয়া ২. জন্মের সময় যতœ না নেয়া ৩. জন্মের পর থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত যতœ না নেয়া ৪. চিকিৎসকদের অদক্ষতা ৫. অপারেশনের সময় যতœ না নেয়া (Ref-prof.Nurjahan/5th/106)
এখানেও বয়সের সাথে বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। যারা ফিস্টুলা ক্ষেত্রে কম বয়সে বাচ্চা নেয়াকে দায়ী করে তাদের কথার কোনো ভিত্তি নেই।
অর্থাৎ অল্প বয়সে বিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর তো নয়-ই, বরং অনেক উপকারী।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, আজ যারা অল্প বয়সে বিয়ের ধোঁয়া তুলে সম্মানিত ইসলাম উনার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডায় নেমেছে, তারাই সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে শিশু পর্নোগ্রাফির মতো সাঙ্ঘাতিক অনৈতিকতা। এদের মুখের মিষ্টি কথা দিয়ে এরা নিজেদেরকে শিশুদের মহান(?) ‘রক্ষক’ হিসাবে তুলে ধরে, অথচ এরাই আজ খারাপ জায়গায় গিয়ে গিয়ে শিশু নির্যাতন করে। নিজ ঘরে গিয়ে এরা দেখে- তার ছোট্ট শিশু সন্তানটি বল্গাহীন জীবনযাপন করছে। বাল্যবিবাহবিরোধী সমাজে আজ আর পারিবারিক বন্ধন বলে কিছু নেই। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে আর বিশ্বাস নেই, সন্তানেরা বাবা-মাকে মানে না আর বাবা-মাও সমাজ ও তাদের নিজেদের তৈরি করা আইনের ফাঁদে পড়ে সন্তানদের কিছু বলতে ভয় পায়। যে চিত্রটি পাশ্চাত্য সমাজে মহামারী আকারে দেখা যায়। বাল্যবিবাহবিরোধীরা তাই চায়- যাতে মুসলিম সমাজ ও পাশ্চাত্যের মতো অনৈতিকতায় ডুবে যায়। মুসলিম বিশ্বকে কাফিরদের বাল্যবিবাহবিরোধী সমস্ত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে এদের বিষদাঁত সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে