চুলে তেল দেয়া, আচঁড়ানো, সিথি করা, আয়না দেখা প্রত্যেকটি-ই সুন্নত !


মাথার চুলে তেল দেয়া, আচঁড়ানো এবং সিথি করা প্রত্যেকটি-ই সুন্নত। তেলের মধ্যে যয়তুনের তেল ব্যবহার করা খাস সুন্নত। আর পুরুষ হোক মহিলা হোক প্রত্যেকের জন্যই মাথার মধ্য দিয়ে এবং ডান দিক দিয়ে মাথা আচঁড়ানো সুন্নত।

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্রতা অর্জন করতে, মাথা মুবারক আচঁড়াতে ও না’লাইন বা স্যান্ডেল মুবারক পায়ে দিতে ডান দিক থেকে আরম্ভ করতেন।
আর মেয়েদের চুল পুরুষদের বিপরীত তথা লম্বা রাখা সুন্নত। কাধেঁর চেয়ে ছোট রাখা জায়িয নেই।
হাদীস শরীফে রয়েছে,
ওই মহিলাদের উপর লা’নত যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে।
(বুখারী শরীফ)

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুল মুবারকের পরিচর্যার জন্য নিয়মিত তা পরিষ্কার করতেন , চিরুনী করতেন এবং চুল মুবারক বিন্যাস করতেন। মাথা মুবারকে অধিক পরিমাণে তেল ব্যবহার করতেন এবং দাড়ি মুবারক চিরুনী দিয়ে আচড়াঁতেন।

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাথা মুবারকে তৈল ব্যবহার করার পর তৈল যাতে টুপিতে না লাগে এজন্য টুপির নীচে সাদা কাপড়ের কিনায়া মুবারক ব্যবহার করতেন । উনার কিনায়া মুবারক ছিল পিছনের দিকটা মোটা এবং সামনের দিকটা কিছুটা চিকন অর্থ্যাৎ ডিমের ন্যায় গোলাকার।

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
যয়তুনের তেল তোমরা খাবে এবং শরীরে ব্যবহার করবে। কেননা এটা মুবারক গাছের তেল। হযরত আবু নাঈম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যয়তুন তেলে সত্তর প্রকার রোগের শেফা রয়েছে”।
(শামায়েলে তিরমিযী, যাদুল মা’আাদ)
বর্তমানে আমরা যাকে অলিভ ওয়েল বলে থাকি।

উল্লেখ্য যে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় যেহেতু আয়না ছিল না, তাই পানির পাত্রে চেহারা মুবারক দেখে পাগড় , টুপি, রুমাল মুবারক ইত্যাদি গোছগাছ করতেন এবং মাথার চুল মুবারক ও দাড়ি মুবারক আচঁড়াতেন। সে মতে আয়না ব্যবহার করাও সুন্নতের অর্ন্তভূক্ত।
(সীরাত গ্রন্থ)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে