ছখী বনাম বখীল


একবার একজন মহিলা, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে এসে আরয করলেন, উনার অবশ হাতটি ভালো করে দিতে। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো সবই জানেন, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলিমই উনাকে হাদিয়া করা হয়েছে। তবুও উম্মতদের নসীহতের জন্য তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন যে, উনার এই হাতটির এমন অবস্থা হল কিভাবে?
 
 
মহিলা বললেন যে, তিনি একদিন স্বপ্নে দেখেন কিয়ামত কায়েম হয়ে গিয়েছে। কোটি কোটি মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী একেক হালতে আছে। তিনি ভাবলেন উনার পিতামাতা তো ইন্তিকাল করেছেন। উনারা কি অবস্থায় আছেন? তিনি খুঁজতে খুঁজতে উনার আম্মাকে দেখলেন যে, তিনি জাহান্নামের কঠিন আগুন পরিবেষ্টিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার হাতে কেবল একটুকরা চর্বি আর একটুকরা কাপড়। সেগুলো দিয়ে তিনি সেই ভয়াবহ আগুন আটকানোর চেষ্টা করছেন। তার এই অবস্থা হল কেন? কারণ তিনি দুনিয়াতে থাকতে নামায রোযা করেছেন, স্বামীর খেদমত করেছেন ঠিকই; কিন্তু শুধু সেই চর্বি আর কাপড়ের টুকরাটি ছাড়া আর কিছুই দান খয়রাত করেননি। নাউযুবিল্লাহ! তাই কৃপণদের জন্য নির্ধারিত আযাবে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ! মহিলা এবার উনার আব্বার কথা জানতে চাইলেন। উনার আম্মা বললেন, যেহেতু তিনি অনেক দানশীল ছিলেন, সেহেতু নিশ্চয়ই জান্নাতে আছেন।
 
 
মহিলা এবার উনার পিতাকে খুঁজতে গিয়ে দেখলেন যে তিনি হাউজে কাওছারের পাশে অত্যন্ত ইতমিনানের সাথে পানি পান করছেন এবং লোকজনকে পানি পান করাচ্ছেন। তিনি দৌড়ে উনার আব্বার কাছে গেলেন এবং উনার আম্মার দুঃসংবাদ দিয়ে পানি চাইলেন। উনার আব্বা অপারগতা প্রকাশ করে জানালেন যে, কোন জাহান্নামীর জন্য জান্নাতের নিয়ামত জায়িজ না। তাই তিনি দিতে পারবেন না। তখন সেই মহিলা উনার পিতার অগোচরে কিছু পানি নিয়ে উনার আম্মার কাছে গেলেন। কিন্তু আম্মাকে পানি দেয়া মাত্র উনার হাতটি অবশ হয়ে গেল। তারপর থেকে এটা সেই অবস্থাতেই আছে। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো রহমাতুল্লিল আলামীন। তিনি উনার হাতটি ভালো করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
 
 
হাদীস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ছখী বা দানশীল ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু যদিও সে ফাসিক (অর্থাৎ আমলে কিছু ত্রুটি থাকে)। সুবহানাল্লাহ! আর বখীল বা কৃপণ ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু যদিও সে আবিদ (অর্থাৎ পরিপূর্ণভাবে আমল করে)। নাউযুবিল্লাহ!”
 
 
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, সদকা-মানত (এর বিনিময় নিয়ে নেয়া হয়) বা যাকাত-ফিতরা (এর মাধ্যমে ফরয আদায় করা হয়) আদায় করলে কেউ দানশীল হয়না। দান হতে হবে শুধুমাত্র মহান আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের জন্য, উনারই নির্দেশনা মোতাবেক। লোক দেখানোর জন্য দান করলে, মহান আল্লাহ্ পাক উনার নির্দেশ না মেনে নিজের খেয়াল খুশি অনুযায়ী বা শরীয়ত বিরোধী কাজে দান করলেও তার দান কবুল হবেনা; উল্টো সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে দানশীল হিসেবে কবুল করুন।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে