ছবিযুক্ত আইডি কার্ড-এর কারণে মুসলিম নারীদের পর্দা পালনের অধিকার খর্ব হচ্ছে


আমি একজন মুসলিম নারী। পর্দা করি, সে কারণে ছবি তুলি না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুসারে “যে ব্যক্তি ছবি তোলে, আঁকে, রাখে তারা জাহান্নামী।” আমার ধর্ম আমার পালন করার অধিকার আছে। সবাই যখন নিজ অধিকার নিয়ে কথা বলছে, আমাকে আপনারা অবজ্ঞা অবহেলা করতে পারেন না। অনেক মেয়েরা নিজে অর্থ সম্পদ উপার্জন করে আবার পিতার সম্পত্তিতেও ভাইয়ের সমান অধিকার দাবী করে। আপনারা যারা নীতি নির্ধারক তারা এসব আইন শরীয়ত পরিপন্থী জেনেও আইনটি পাশ করাচ্ছেন।
আর আমি বলছি এমন একটি অধিকারের কথা; যা কিনা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ মুবারক, যা মানা সবার জন্যই ফরজ।
আমার সম্মানিত পিতা এবং ভাই ইন্তেকাল করেছেন। উনাদের সম্পত্তি এখন আমাকে, আমার বোনকে, ভাইয়ের আহলিয়াকে, ভাইয়ের ছেলে-মেয়েকে ভাগ করে নিতে হচ্ছে। আমরা ছবি ছাড়া কেবল ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে আমাদের সম্পত্তি নিতে চাই। সম্পত্তিসহ সব সেক্টরেই ভূমি অফিসে জমি-জমা রেজিস্ট্রি করার কাজে ছবির মত হারাম কাজকে বাধ্যতামূলক করার আইনকে অন্যায় আইন হিসেবে দেখার জন্য সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের অধিকার একটি শরীয়তসম্মত ব্যবস্থা চাওয়া। আমরা আশা করবো আমাদের (নারীদের) পাশে তারাই এসে দাঁড়াবেন, যারা রোজ কিয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ পাক উনার হিসাবের মুখোমুখি দাঁড়াতে ভয় করেন। আমি কোন রাজনৈতিক দাবী নিয়ে আসিনি। আমি এসেছি ইসলাম উনার একটি আদেশ মুবারক পালনের বিষয় নিয়ে।
আপনাদের মধ্যে এমন কোন মুসলমান কী নেই, যিনি হক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। আসুন আমরা মুসলমান হিসেবে মাথা উচু করে বাঁচি। কাফির-মুশরিকের তর্জ-তরীকা পরিহার করি। কাফির-মুশরিকরা তো মুসলমান উনাদের উপর হত্যাযজ্ঞের রাজ্য কায়েম করে রেখেছে, তবুও আমাদের বোধোদয় হয় না কেন?
আসুন বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি, কাফির-মুশরিকের পিছনে জীবন দিয়ে আমাদের কি লাভ হচ্ছে, কি ক্ষতি হচ্ছে? পৃথিবীর জীবন কিন্তু একদিন শেষ হবে। এখন যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের কিন্তু রেহাই দেয়া হবে না। তাই আপনারা যারা ক্ষমতা রাখেন, তাদের কাছে আমরা অনুরোধ করছি, ছবির মত হারাম ব্যবস্থা উঠিয়ে নিন। যারা তুলতে চায় তাদের ব্যাপার তাদের কাছে। যারা তুলতে চায় না তাদেরকে জোর জবরদস্তি করা, হারাম কাজে বাধ্য করা কিন্তু কঠিন গুনাহ।
সম্মানিত শরীয়ত উনার মাঝে বর্ণিত রয়েছে- “তোমরা নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে একে অন্যকে সাহায্য করো, গুনাহ ও শত্রুতার কাজে একে অন্যকে সাহায্য করো না।”
এখন দেখা যাচ্ছে পূর্বাপর না ভেবেই প্রত্যেককে গুনাহ করতে জবরদস্তি করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ পাক উনার পাকড়াও কিন্তু খুবই কঠিন। আসুন, উনাকে আমরা সবাই ভয় করি। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের ছহীহ বুঝ দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে