ছাত্র শিবিরের আমলনামা (৯)


[ইসলামের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে কত ধরনের নৃশংসতা, অধার্মিকতা, কূটকৌশল আর স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কার্যকলাপ যে করে চলেছে ধর্মব্যবসায়ী ছাত্র শিবির তা অনেকেই জানেন না। গত প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে শিবির যে ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে, তার কিছু চিত্র তুলে ধরার জন্য এ আয়োজন ‘ছাত্র শিবিরের আমলনামা’।

পূর্ব প্রকাশের পর

সিলেটে শিবিরের নৃশংসতা

আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সিলেটে শিবিরের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। সিলেটে প্রথম খুনের রাজনীতিও সূচনা করে শিবির। একেবারে কোণঠাসা ধর্মব্যবসায়ী জামাত-শিবির সিলেটে নিজেদের অবস্থান করে নিতে ১৯৮৮ সালের একই দিনে খুন করে জাসদ ছাত্রলীগের তিন সৈনিক মুনির, তপন ও জুয়েলকে। এই তিনজনের অপরাধ ছিল, তারা মৌলবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
জাসদ ছাত্রলীগ সিলেট শহর থেকে শিবির উৎখাতের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু শিবিরের নারকীয় তাণ্ডবলীলার কাছে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জাসদ ছাত্রলীগের দুর্গে চরম আঘাত করে সিলেটে খুনের রাজনীতির শুরু ও নিজেদের অবস্থান করে নেয় শিবির ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। একদিনেই জাসদ ছাত্রলীগের নিবেদিতপ্রাণ মুনির, তপন ও জুয়েল এই তিন কর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই সময়ে সন্ত্রাসী শিবিরের তাণ্ডবে সিলেট নগরীতে আহত হন অনেকেই।
১৯৯৮ সালের ২৪ মে শিবির হত্যা করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা  সৌমিত্র বিশ্বাসকে। শামসুদ্দিন ছাত্রাবাসে হারাম ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে শিবির ক্যাডাররা নগরীর ব্লু বার্ড স্কুলের সামনে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে সৌমিত্রকে।
হামিদ আহমদ খান দোয়েল নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে ২০০২ সালে ৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের মদনমোহন কলেজের ক্যাম্পাসে কুপিয়ে হত্যা করে শিবিরের ঘাতক সন্ত্রাসীরা। সিলেট ভেটেরিনারি কলেজের মেধাবী ছাত্র রফিকুল হাসান সোহাগকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট নৃশংসভাবে খুন করে শিবির ক্যাডাররা। সোহাগ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এই ছয় খুনের জন্য সন্ত্রাসী শিবিরের অনেক ক্যাডার গ্রেফতার হয়ে জেলে গেলেও কারো কোনো সাজা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুনিরা আজ ব্যবসা করে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার না হওয়ার কারণে শিবির সিলেটে বেপরোয়াভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সিলেটের যেসব জায়গায় শিবিরের ঘাঁটি

রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরও ধর্মব্যবসায়ী জামাতের ছাত্র সংগঠন সিলেটের শিবির ক্যাডাররা বহাল তবিয়তে আছে। তাদের সাংগঠনিক(ইসলাম বিরোধী সন্ত্রাসী) কাজও ঠিকমতো চলছে। সিলেট শহরে শিবিরের প্রধান ঘাঁটি হচ্ছে নগরীর পায়রা আবাসিক এলাকা ও আলিয়া মাদ্রাসা। পায়রা আবাসিক এলাকায় অনেক ধর্মব্যবসায়ী জামাত-শিবিরের নেতা বাস করে।
অভিযোগ আছে, এখান থেকে মারামারি করার জন্য শিবিরের অস্ত্র বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেয়া হয়। পায়রা আবাসিক এলাকার বেশ কয়েকটি বাসাকে মেস হিসেবে ব্যবহার করে শিবির তাদের ক্যাডারদের এসব মেসে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়া হত্যা বা অন্য কোনো বড় ধরনের হামলা-হাঙ্গামার সাথে জড়িত শিবির ক্যাডাররা পায়রা আবাসিক এলাকায় এসে জামাত নেতাদের বাসায় আত্মগোপন করে থাকে।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ আন্দোলনে শিবিরের ক্যাডারদের হাতে প্রকাশ্যে পায়রা আবাসিক এলাকা থেকে অস্ত্র পৌঁছে দেয়া হয়। এককালে চট্টগ্রামের শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ ও নাসির বিভিন্ন অপরাধ করেই সিলেটে পায়রা আবাসিক এলাকার জামায়াত-শিবিরের বাসাগুলোতে এসে অবস্থান নিত। সিলেটে শিবিরের যত সন্ত্রাসী আছে তার অর্ধেক বাস করে পায়রা আবাসিক এলাকায়। এরা শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিপক্ষ ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ ছাত্রদের ওপরে শিবির যেসব হামলা চালায় সেগুলো পরিচালনা করে থাকে।
আলিয়া মাদ্রাসা হচ্ছে সিলেটে শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট। এখানে শিবির সদস্যদের মারামারি ও অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীর মদিনা মার্কেটের ধানসিঁড়ি, পল্লবী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) পূর্ব পাশে ধামালিপাড়ায় শিবিরের বড় তিনটি আস্তানা আছে। বিডিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারের দ্বিতীয়  গেটের বিপরীতে একটি কটেজ, আখালিয়া নয়াবাজারের দুটি বাসা, শাবি গেটের বিপরীতে একটি বাসা, শাবি দ্বিতীয় হল সংলগ্ন একটি বাসা, আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকা, সুবিদবাজার পল্লবী আবাসিক এলাকার একটি টাওয়ার, আখালিয়াস্থ যুগীপাড়া, শাবির পেছনে দুটি মেসে শিবির নিজেদের আস্তানা গড়ে তুলেছে। এই আস্তানাগুলো মূলত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে।
২০১০ সালের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিলেটে শিবিরের ৭৫০ সাথী ও প্রায় ২০০ কিলার রয়েছে। এরা যে কোনো সময় সংগঠনের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকে।
(চলবে ইনশাআল্লাহ………… )

সঙ্কলিত; পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত

ছাত্র শিবিরের আমলনামা (৮)

 

 

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. শিবিরের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে