ছাল নেই কুত্তার বাঘা নাম!


সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে “সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট” বলে সমালোচনা করেছে লুইজিয়ানা গভর্নর ববি জিন্দাল। তার আক্ষেপ, ওবামা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলা না ঠেকিয়ে বরং নিজ দেশে সেনা সংখ্যা কমাচ্ছে। মিঃ জিন্দালের বোধহয় খেয়াল নেই যে, আগের দিন বাঘে খেয়েছে। উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন বিশাল সেনাবাহিনী প্রতিপালনের সামর্থ্য আর নেই মার্কিন প্রশাসনের। তাই পরাক্রমশালী সেনাবাহিনী নিয়ে পৃথিবীর একোন ওকোন দাদাগিরি করে বেড়ানো এখন আমেরিকার কাছে বিলাসী স্বপ্ন।
এমনিতে অর্থনৈতিক মন্দার ভারে অনেকদিন থেকে ন্যুব্জ দেশটি। সম্ভাব্য সব খাত থেকে ব্যয় সংকোচন চলছে নিয়মিত। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অসংখ্য পাবলিক স্কুল। প্রতি সেমিস্টারে ফি বাড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। চলতি ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে কর্মহারা লোকদের ভাতা দেড় বছর থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি তো রয়েছেই।
তাছাড়া সেনাবাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করা হয় তাতে নাখোশ অধিকাংশ সাধারণ আমেরিকান। নাগরিক সুবিধা কমিয়ে নিয়ে হাতির খোরাকে সেনা পালা এবং অকাজে তাদের ব্যবহার করার ব্যাপারটি জনসাধারণের ভালো লাগবে না- এটাই স্বাভাবিক। তাই অনেকদিন থেকেই জনগণের অনাস্থাভাজন হয়ে আছে সামরিক খাত। অনাস্থা এমনি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে- তরুণরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাচ্ছে না আর। তাই তাদের আকৃষ্ট করতে ২০০৮ সালে ফিলাডেলফিয়ায় খোলা হয় “আর্মি এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার”। এর জন্য বেছে নেয়া হয় বিনোদন কেন্দ্র এবং উদ্যানের কাছাকাছি একটি জায়গাকে, যেখানে লোকসমাগম বেশি। কম বয়সীদের আকৃষ্ট করতে ফ্রি হাই-টেক ভিডিও গেম খেলার সুযোগ করে দেয়া হয়। এটা গেমিং জেনারেশন-এর যুগ। আর ভায়োলেন্ট গেম হলে তো কথাই নেই! তাই প্রযুক্তিগতভাবে ভীষণ উন্নত এই গেমকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় তারা। কর্তাব্যক্তিদের ভাষ্য মতে, সেখানে নিছকই আর্মির কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়, রিক্রুটিং উদ্দ্যেশ্য নয়। ডাহা মিথ্যে কথা। কারণ এই সেন্টারে কর্তব্যরত বিশের অধিক সেনা সদস্যের প্রত্যেকে “ট্রেইনড রিক্রুটার্স”। রিক্রুটিং যদি ধান্ধা না হবে তাহলে এই প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত সেনাগুলোকে এখানে মোতায়েন কেন রাখা হয়েছে? তাদের ট্রেইনিংয়ের পেছনে পয়সাইবা কেন খরচ করা হয়েছে? মানুষ কি কিছুই বোঝে না? এসব সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বলে গেছে আর্মি সম্পর্কে লোকজনের নেগেটিভ ধারণা বদলে, আর্মির সত্যিকার কর্মকা-ের ব্যাপারে সচ্ছ ধারণা দিতেই এই আয়োজন। কিন্তু বসে থাকেনি সাধারণ অভিভাবকেরা। এক পর্যায়ে তারা প্লাকার্ড হাতে সেøাগান দিতে দিতে পৌঁছে যায় ভেন্যুতে। দাবি একটাই, বন্ধ করো এই ব্রেইনওয়াশ সেন্টার। আশানুরূপ সাড়া তো পায়নি, বরং গণমানুষের ক্ষোভের মুখে বন্ধ হয়ে যায় এই ব্যয়বহুল প্রকল্পটি।
তবে মজার ব্যাপার হলো প্রকল্পের শুরু থেকেই তারা বলে আসছিল এটি একটি দু’বছর মেয়াদী প্ল্যান। কারণ এটি আসলে একটি এক্সপেরিমেন্ট ছিল। তারা দেখতে চেয়েছিল নতুন এই ফাঁদে মানুষ আসলেই পা দেয় কিনা। যখন দেখল ব্যর্থতা অবশ্যম্ভাবী, টেনেটুনে প্রায় দু’বছর গড়ালে সেন্টারটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এজন্য অবশ্য তাদের ইমেজ খাটো হয়নি। কারণটা আগেই বলেছি, চতুর প্রশাসন বুদ্ধি খাটিয়ে আগেই বলে নিয়েছিল যে প্রকল্পটি এককালীন, দু’বছরের জন্য।
ওদিকে রাস্তাঘাটে আজকাল ইরাক-আফগানিস্তান ফেরত সৈন্যদেরকে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। চিনতে পারা যায়- কারণ তাদের গায়ে আর্মির পোশাক এবং হাতে ধরা আর্মির আইডি থাকে। এদের বেশিরভাগই পোস্ট ট্রামাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারসহ নানা প্রকার মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। বিভীষিকাময় যুদ্ধের ময়দান থেকে ফেরত এসে এখন এদের জীবনযুদ্ধের ময়দান আরো বেশি বিভীষিকাময়। নিজেদের সাপোর্ট দেবার মতো পরিস্থিতি তাদের নেই। সরকারও হয়তো সেই দৈন্যদশার কারণেই সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারছে না।
এতোকিছুর পর বলতে হয় মিঃ জিন্দাল কি আমেরিকায় বাস করে? নাকি কোনো এক আজব জায়গায় বসে ঢেলে সাজানো সেনাবাহিনীর গযব স্বপ্ন দ্যাখে?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+