‘ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো , বর্গী এলো দেশে’ -কারা এই বর্গী?


শিবাজী নামক ভারতীয় জাতীয় বীরের নামের সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। শিবাজী কেবল মারাঠা জাতির গৌরব নয়, বরং ভারতীয়দের চোখে শ্রদ্ধীয় , তাই জাতীয় বীর।শিবাজীর সাধারণ ইতিহাসে মনে হয় সে আর্দশ বীর, বিরাট যোদ্ধা, সুকৌশলী এবং হযরত আড়ঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চরম প্রতিদ্বন্ধী।

কিন্তু তাকে নিয়ে সমালোকদের কি বলে(?)
অপরপক্ষ শিবাজীকে দস্যু, পাহাড়ী ইদুঁর, বিশ্বাসঘাতক এবং অকৃতজ্ঞ বৈ কিছু মনে করে না।
শিবাজীর পিতা শাহজী ভোসলে ছিল উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মচারী।সে তার প্রথম স্ত্রী জিজাবাঈকে নানা কারনে উপেক্ষা করতো।তখন জিজাবাঈ শিশু শিবাজীকে নিয়ে উল্লেখিত ব্রাক্ষ্মনের আশ্রয় গ্রহন করে।আর ব্রাক্ষ্মন কন্দদেব প্রকৃত শিক্ষিত ছিল না বটে তবে শিবাজীকে একটা শিক্ষা খুব ভালভাবে দিয়েছিলো , তা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা অর্থ্যাৎ মুসলমান হিন্দুদের শত্রু। আর নিরক্ষর শিবাজী হৃদয় ফলকে কন্দদেবের কথা বিষবৃক্ষ রূপ ধারন করেছিলো।
হযরত আড়ঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রাজত্বকালে দাক্ষিণাত্যে এক নতুন জাতি অভ্যুত্থান হয়, সেটাই মারাঠা জাতি। মারাঠা জাতি যাযাবর দস্যু আর দস্যুবৃত্তিতে সবসময়-ই ইতিহাসে কুখ্যাত। রাতের অন্ধকারে তারা গ্রাম ও শহরবাসীদের উপর হঠ্যাৎ চড়াও হতো এবং লুঠতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে ধন-সম্পদ অর্থ
গহনা নিয়ে পালিয়ে যেত। বাংলাদেশী মগ দস্যুদের মত মারাঠা মারাঠা বর্গীরা কুখ্যাত ছিল। তাদের অত্যাচারের কাহিনী গ্রামের লোকগাথায় ও ইতিহাসের পাতায়ও মজুত । মারাঠা বর্গীদের নিষ্ঠুর অত্যাচার মানুষ এতই অতঙ্কগ্রস্ত ছিল যে, কচি কচি বাচ্চাদের কান্না থামাবার জন্য মায়েরা তাদের অত্যাচারের কথা তুলে বলেন,

‘ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
বর্গী এলো দেশে।
বু্লবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে’।

এখানে বর্গী বলতে মারাঠী দস্যুদের বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে