ছোঁয়াচে রোগ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের অজ্ঞতা ও কিছু প্রশ্ন-৬


যার ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিবি, বসন্ত, খোস-পাচড়া হয়েছে সে যদি পরিচিতদের মধ্যে আক্রান্ত হয়, তাহলে হয়তো তার কাছের লোকজন উক্ত ব্যক্তি হতে দূরে থাকলো কিংবা জিনিস ধরলো না। কিন্তু যে অপরিচিত তার তো জানার কথা না কে রোগাক্রান্ত? কার ছোঁয়াচে রোগ হয়েছে? উক্ত অপরিচিত ব্যক্তি হ্যান্ডসেকও করে আবার জিনিসও ব্যবহার করে। এমন অগণিত উদাহরণ তো আমাদের চারপাশে রয়েছে। সে হিসেবে যে কেউ ছোঁয়াচে রোগাক্রান্ত হলে সবারই হওয়ার কথা। কিন্তু হয় না কেন? স্পর্শের মাধ্যমে ছোঁয়াচে রোগ ছড়ার এ তথ্যের আরেকটি বড় ভ্রান্ত ধারণা, অজ্ঞতা, চিকিৎসা বিজ্ঞানে রয়েছে, তাহলো- সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগাক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা বিষয়ে। প্রত্যেক হাসপাতালে বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে সংক্রামক ওয়ার্ড বলে আলাদা একটা ওয়ার্ড আছে। যেখানে ছোঁয়াচে রোগীদের ভর্তির পর চিকিৎসা করা হয়। সাধারণ রোগীদের সাথে রাখা হয় না। ওই ওয়ার্ডে দেখা যায় সার্বক্ষণিক নার্স থাকে, ওয়ার্ড বয় থাকে, আয়া থাকে, সুইপার থাকে এবং চিকিৎসক মাঝে মাঝে যায়। ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু যদি থাকতোই, তাহলে রোগীর সেবায় নিয়োজিতদের উক্ত রোগ হচ্ছে না কেন? তারাও তো মানুষ। আবার যদি হতো তাহলে কেউ ডিউটি করতো না। দেখা যায় চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়, আয়া, সুইপার অবলীলায় ডিউটি করে যাচ্ছে। আমি নিজেও করেছি। তখন তো একবারের জন্যও মনে উদয় হয়নি ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু আছে। আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঘড়ংড়পড়সরধষ রহভবপঃরড়হ নামে একটি টার্ম আছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন হাসপাতালে কোনো রোগীর থাকার কারণে বা হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতার কারণে হাসপাতালে উদ্ভুত কোনো জীবাণু দ্বারা রোগাক্রান্ত হলে এই টার্ম ব্যবহার করা হয়। সে হিসেবে হাসপাতালের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তারা তো বেঁচে থাকারই কথা নয়। কিন্তু হচ্ছে কী?
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে