জঙ্গিবাদ হারাম নয় ‘ফরয’ বরং ‘সন্ত্রাসবাদ হারাম’। ফতোয়ায় স্বাক্ষরকারী ১লাখ কথিত আলেম স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন ও ভাষাজ্ঞানহীন


সম্প্রতি দেশের ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণীর একলক্ষ স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন কথিত আলেম “ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ হারাম” নামক একটি ফতোয়াতে একমত হয়ে সই-স্বাক্ষর করে খুব বাহবা কামিয়েছে। কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী ভারতও তাদের ফতোয়ায় খুশি হয়ে বাহবা দিয়েছে। সূত্র: http://goo.gl/oL6fRl

জঙ্গি শব্দটা আসলে কোত্থেকে এসেছে? একটা সময় ছিল যখন মুসলমানরা নিজেদেরকে জঙ্গি বলে পরিচয় দিতে গৌরববোধ করতেন। জঙ্গি শব্দের অর্থ হচ্ছে জিহাদপ্রিয় বা যুদ্ধপ্রিয় ব্যক্তি। হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাবার নাম মুবারক ছিল হযরত আবু সালেহ মুসা জঙ্গিদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি “জঙ্গ” অর্থাৎ যুদ্ধপ্রিয় ছিলেন এজন্যই উনাকে এই উপাধি দেয়া হয়। ঢাকার কমলাপুরের নিকটবর্তী ‘পীরজঙ্গি মাজার’ নামে একটি মাজার শরীফ রয়েছে। মাজার শরীফে যিনি শায়িত তিনি একজন জিহাদপ্রিয় ওলীআল্লাহ ছিলেন। যারকারণে তিনি ‘পীরজঙ্গি’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। প্রকৃতপক্ষে “জঙ্গ” শব্দটি দ্বীন ইসলামে অত্যন্ত সম্মানিত। এর অর্থ যুদ্ধ বা জিহাদ।

প্রকৃতপক্ষে সঠিক ফতওয়াটা হবে “ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ হারাম।” কারণ ‘জঙ্গি’ শব্দটা ফার্সি ‘জঙ্গ’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ যুদ্ধ বা জিহাদ, তাহলে জঙ্গীবাদ শব্দের অর্থ দাড়ায় যুদ্ধবাদ বা জিহাদতত্ত্ব। ফতওয়ার অর্থ দাড়ায় ইসলামের নামে জিহাদ বা যুদ্ধ হারাম।

এখন ইসলামে জঙ্গীবাদ বা যুদ্ধবাদ যদি হারাম হয়, তবে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কিন্তু অনেক স্থানে জিহাদের করার কথা বলা হয়েছে, তাহলে এদের  ফতওয়া অনুসারে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ঐ সকল আয়াত শরীফও বিতর্কিত হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ!

আবার জঙ্গীবাদ বা জিহাদ যদি হারাম হয়, তাহলে আখেরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিন্তু অনেকগুলো যুদ্ধ/জিহাদ করেছেন, সেগুলোও কিন্তু ফতওয়া অনুসারে হারাম হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!

শুধু তাই নয়, বর্তমান আর্মি, নেভী, এয়ারফোর্সে ভর্তি হওয়াও মুসলমানদের জন্য হারাম হবে। কারণ সেখানে যুদ্ধবাদ প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।

প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধুরন্দর ইহুদী জাতির মনস্তাত্বিক যুদ্ধের একটি অস্ত্র হচ্ছে টেরোরিজম এর বাংলা অর্থকে ‘জঙ্গিবাদ’ বলে প্রচার করা। আর প্রচারণাটি হয়েছে ইহুদীদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো দিয়ে। ইহুদিরা সুদূরপ্রসারী প্ল্যান নিয়েই কাজ করে। আসলে এ ধরনের একটি ফতওয়া বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ভালো মনে হতে পারে, কিন্তু সুদূর প্রসারী চিন্তা করলে অর্থাৎ কয়েকশ’ বছর পর মুসলমানরা যখন দেখবে লাখো আলেম এ ধরনের ফতওয়া দিয়েছিলেন, এমন দলিলে বিভ্রান্ত হয়ে ভবিষ্যত মুসলিম প্রজন্ম শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ/জিহাদ থেকে দূরে সরে যাবে।

স্বাভাবিকভাবে জঙ্গীবাদ দ্বারা যদি ধর্মীয় মতাদর্শ প্রভাবিত হওয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে তবে কিছুদিন আগেই কিন্তু ব্রিটেনের এক এমপিকে এক খ্রিস্টান উগ্রবাদী হত্যা করলো। এ ঘটনার পর কিন্তু কেউ বলে নাই- খ্রিস্টান জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ করা হোক। উল্লেখ্য এর আগে ইসরাইলেও কিন্তু সমকামীদের উপর হামলা চালিয়েছিলো ইহুদী সন্নাসীরা। কিন্তু তখনও কেউ বলে নাই ইহুদী জঙ্গীবাদ নিষিদ্ধ হোক। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতে হিন্দু উগ্রবাদ দ্বারা প্রভাবিত এমপি-মন্ত্রীরা প্রায় মুসলিম নিধনের হুমকি দেয়, দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করে। সেখানে কিন্তু কেউ বলছে না হিন্দু জঙ্গীবাদ নিষিদ্ধ করা হোক।

এখন আপনার মনের মধ্যে যদি সাম্প্রদায়িকতা বা মুসলিম বিদ্বেষ থাকে তবে আমার কিছু বলার নাই। তাই ফতওয়া দেওয়ার সময় নিউট্রাল থাকাই উত্তম। এ কারণে আমার মনে হয় ফতওয়া একটু পরিবর্তন করা উচিত। ফতওয়াটা- ‘ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ নয়’, ‘ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ হারাম’ হলেই ভালো।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে