জাকারিয়া কান্দালভী দেওবন্দী কতৃক রচিত “ফাজায়েলে আমল”এ কিছু কারচুপি ও এর হাক্বিকত (সংগৃহীত)


জাকারিয়া কান্দালভী দেওবন্দী কতৃক রচিত “ফাজায়েলে আমল” দেওবন্দের মুখপাত্র তাবলীগ জামাত কর্তৃক বহুল পঠিত একটি গ্রন্থ,। বইটিতে ফাযায়েলে নামায, ফাযায়েলে দুরূদ, ফাযায়েলে হজ্জ ইত্যাদি অধ্যায় রয়েছে। যার প্রকৃত নাম ছিল “তাবলীগী নিসাব” তবে পরবর্তীতে ফাযায়েলে দুরূদ অধ্যায়টি বাদ দেয়া সহ অন্যান্য পরিমার্জন করে এর নামকরণ করা হয় “ফাজায়েলে আমল”। উক্ত গ্রন্থটির “ফাজায়েলে নামায” অধ্যায়ের শেষে জাকারিয়া লিখেছে-
“………… নামাযের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল যিকির, (অর্থাৎ) নামাযের মধ্যে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা। যদি তিলাওয়াত গভীর মনোযোগ সহকারে করা না হয় তবে একে আল্লাহ্‌ পাকের ইবাদত (মুনাজাত ওয়া কালাম) বলা যাবে না। এটা জ্বরাক্রান্ত রোগীর আবোল-তাবোল বলা ও প্রলাপ বকার মত।”

যদি কেউ নামাযের মধ্যে অমনোযোগী হয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে তবুও তা কুরআন তিলাওয়াতই থাকে এবং এই তিলাওয়াতকে বকওয়াজ (প্রলাপ বকা) বলা যায় না কেননা এটি কুরআন শরীফ-এর অবমাননার শামিল।

(উর্দুতে) লাল দাগ দ্বারা চিহ্নিত বাক্যে লিখিত ছিলঃ “ইয়ে কালাম নেহি হ্যায়। এইছি হে জেইছে কি বুখার কি হালত ম্যাঁ হিজইয়ান আওর বকওয়াজ হোতি হ্যায়।” বাক্যটিতে বকওয়াজ শব্দটিকে নীল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরবর্তী সংস্করণে তারা নিজেদের ভূল আড়াল করার জন্য উক্ত বক্তব্যটি থেকে “বকওয়াজ” শব্দ তুলে দিয়ে নিচের বাক্য লিখেঃ

“ইয়ে কালাম নেহি হ্যায়। এইছি হে জেইছে কি বুখার কি হলত ম্যাঁ হিজ্যান হোতি হ্যায়।” এখানে সবুজ চিহ্নিত অংশে বকওয়াজ শব্দটি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্য করুন “ইয়ে কালাম নেহি হ্যায়। এইছি হে জেইছে কি বুখার কি হলত ম্যাঁ হিজ্যান আওর বকওয়াজ হোতি হ্যায়।”– এই বাক্যটিতে “হিজ্যান” শব্দটি পুংলিঙ্গ বাচক শব্দ এবং “বকওয়াজ” শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ বাচক। তাই “বকওয়াজ” শব্দের পরে স্ত্রীলিঙ্গ বাচক শব্দ “হোতি হ্যায়” ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সংস্করণে “বকওয়াজ” শব্দটি বাদ দিলেও “হিজ্যান” শব্দটির পরে “হোতি হ্যায়” লিখা হয়েছে। মজার ব্যাপার হল “হিজ্যান” পুংলিঙ্গ বাচক শব্দ আর তার পরে ব্যবহৃত “হোতি হ্যায়” স্ত্রী বাচক শব্দ !!! অথচ লিখা উচিত ছিল “হোতা হ্যায়।”

সোজা ভাষায় বলতে গেলে আমি ও তুমি স্বুলে যাই। এখন আমি শব্দটি বাদ দিয়ে যদি লিখি তুমি স্বুলে যাই। তাহলে খুব সহজে বুঝা যায় এখানে আমি শব্দটি ছিল। কারণ আমি শব্দটির সাথে যাই বসে। তেমনি পুংলিঙ্গ শব্দের পরে পুংলিঙ্গ বাচক শব্দ বসবে।

 

মূল লেখা

Views All Time
2
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+