জান্নাতী ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত মুবারক কায়িনাতের সকলের জন্য নাজাতের অন্যতম উসীলা


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাই না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়। তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। আর দেয়ার চিন্তা করাটাও কুফরী। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবি হাছিল করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ২৩)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলা হয়- “আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। তোমরা আমার নিকটাত্মীয় অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আমার বংশধর উনাদের যথাযথ হক্ব আদায় করো।” (তাফসীরে মাযহারী শরীফ, ৮ম জি: ৩২০ পৃষ্ঠ।)
অতএব, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কায়িনাতের সকলের জন্য ফরয হচ্ছে- হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলেছেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট শুনেছি, সাবধান! আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির ন্যায়। যারা উনার মধ্যে আরোহণ করবে তারা নাযাত পাবেন আর যারা আরোহণ করবে না তারা হালাক হয়ে যাবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন চার ব্যক্তিকে সুপারিশ করবো। ১. যারা আমার হযরত আহলূ বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মান মুবারক করবেন। ২. যারা আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আর্থিক খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিবেন। ৩. যারা আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শারীরিক খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিবেন। ৪. যারা আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর দিয়ে মুহব্বত করবেন ও যবানে ছানা ছিফত করবেন।”
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে এটাই বুঝা যায়, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই হলেন পুরো কায়িনাতের জন্য একমাত্র নাজাতের উসীলা। আর সেই হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নয়নমণি, মাথার তাজ, তিনিই হলেন সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুস সাক্বালাইন, সাইয়্যিদুন নাস, ক্বায়িম-মাক্বামে ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত মুবারকই হলো পুরো কায়িনাতের জন্য অন্যতম নাজাতের উসীলা।
আর মহাসম্মানিত পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস উনার পবিত্র ১১ই যিলক্বদ শরীফ হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই আমাদের জন্য ফরয হলো- এই দিনে হাক্বীক্বী খুশি প্রকাশ করে সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সলাম উনার হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে