জাপান কি তাহলে ভূতের দেশ হচ্ছে?


একটি দেশ বলতে  সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও জনগণকে বুঝিয়ে থাকে। অর্থ াৎ ভূখণ্ড ও জনগন না থাকলে সেটাকে কোন ‘দেশ’ বলা যায়না। বর্তমানে জাপান এমন একটি ভূখণ্ড যা ধ্বংয যজ্ঞে পরিণত হয়েছে পাশাপাশি জনগণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে তাদেরেই পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষ্ফোরণের তেজস্ক্রিয়তায়। খাবার পানিতে, সাধারণ খাবারে, ফসলে, ডেইরী ফার্মে , ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে তথা খাদ্যের যতপ্রকার উৎস আছে সবকিছুতেই তেজস্ক্রীয়তা ছড়িয়ে বিষ-এ পরিণত হয়েছে। এখন জাপানের জনগণ না খেয়ে মরছে। যদিও এমন চরম বাস্তবতার খবরেগুলো মিডিয়া প্রকাশ করছে না তথাপি যেসমস্ত খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে তাদের জীবন যাত্রা কেমন যাচ্ছে। নিচে এমন কিছু খবর দেয়া হল:

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিপর্যয়ের কারণে খাদ্যে মারাত্মক তেজস্ক্রিয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ‘পরিস্থিতি গুরুতর’ বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ডব্লিউএইচও’র এ ঘোষণায় চাপা পড়ে গেছে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সারানোর কাজে অগ্রগতির খবর।

ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পের কাছাকাছি সরবরাহের পানিতে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন পাওয়ায় ওইসব এলাকায় বসবাসকারীদের এ পানি খেতে নিষেধ করেছে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এছাড়া কাঁচা সব্জি ও দুধে সামান্য পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তার খবরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে সরকার বলছে এর পরিমাণ বিপজ্জনক ছিলো না।
ডব্লিউএইচও’র পশ্চিম প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ম্যানিলাভিত্তিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখপাত্র পিটার করডিংলি বলেন, পরিষ্কারভাবেই পরিস্থিতি গুরুতর ।
প্রথম দিকে আমরা মনে করেছিলাম তেজস্ক্রিয়ার ঘটনা মাত্র ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এখন তেজস্ক্রিয়া আরো বেশি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর গত ২৫ বছরে বিশ্বে এটিই সবচেয়ে শোচনীয় পারমাণবিক দুর্ঘটনা।
জাপানের পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ৩ নাম্বার চুল্লিতে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুল্লিটিতে অতি বিষাক্ত প্লুটোনিয়াম আছে। এই প্লুটোনিয়াম চুল্লিটি থেকে বের হওয়া বাষ্পের সাথে বের হয়ে আসতে পারে।

ফুকুশিমা সংলগ্ন এলাকার খাদ্যদ্রব্য বিক্রি বন্ধ:

খাবারে তেজস্ক্রিয়া ধরা পড়ার পর ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে জাপান। আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় ফুকুশিমা এলাকার সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
আইএইএ জানায়, তেজস্ক্রিয় আয়োডিন মানুষের শরীরে গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। এতে মানুষের থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তেজস্ক্রিয় আয়োডিনের প্রভাবে শিশু ও তরুণরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।  ১১ মার্চ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়া ধরা পড়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
ওই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি ডেইরি ফার্মে দুধে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাগানের সব্জিতে তেজস্ক্রিয়া সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়েছে। জাপানের মন্ত্রিপরিষদের মুখ্যসচিব ইউকিও এদানো শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান।

ভূমিকম্পে ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরমাণু চুল্লির শীতলীকরণপ্রকোষ্ঠে পানি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়। এতে তাপ ও চাপ বেড়ে তিনটি পরমাণু চুল্লিতে শনিবার থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। একটি চুল্লিতে আগুন লাগে। বিস্ফোরিত চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয়া নির্গত হয়।

কর্মকর্তারা জানান, সংযোগ স্থাপনের ফলে প্রথমে ফুকুশিমার দুই নম্বর চুল্লিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হবে। এরপর তারা পানির পাম্পগুলো সচল আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফোকাল পয়েন্ট কনসাল্টিং গ্র”পের পরমাণু বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ এরিক মোর বলেন, প্রকৌশলীরা চুল্লির শীতলিকরণ যন্ত্রগুলো সচল করতে সক্ষম হলে তা তেজস্ক্রিয়া ছড়ানো রোধে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলেই বিবেচিত হবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, পরমাণু কেন্দ্র এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া মানুষের দেহে আয়োডিন দেওয়ার সুপারিশ অনুমোদন করেছে জাপান কর্তৃপক্ষ।

টোকিওতে ট্যাপের পানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া গুনমা, তোচিগি, সাইতামা, চিবা ও নিগাতা অঞ্চলের পানি সরবরাহে অস্বাভাবিক মাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ সনাক্ত করা হয়েছে। তেজষ্ক্রিয়তার স্তর পর্যবেক্ষণকারী জাপানের বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের এ তথ্য জানায়।
এর আগে সরকার জানিয়েছিল, আবহমন্ডলে অস্বাভাবিক মাত্রার তেজষ্ক্রিয় পদার্থ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর প্রধান ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গত শুক্রবার জাপান সফরে যান। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানসহ কর্মকর্তাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একইদিন জাপান পরমাণুর বিপদমাত্রা চার থেকে বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে উন্নীত করে। আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বিপদমাত্রা হচ্ছে সাত।
খবর: বিডিনিউজ২৪

 

একটা দেশ ধ্বংস হতে আর কি বাকি থাকতে পারে?

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+