জামাতের ফাঁদ!


প্রসঙ্গত, জামাতসহ বিভিন্ন ধর্মব্যবসায়ী দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা ও দলীয় কর্মকান্ডে তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠজনদের অতিমাত্রায় খবরদারির কারণে, ওয়ান-ইলেভেনের পর দেশে বিদেশে ইমেজ সঙ্কটে পড়ে বিএনপি। এ কারণে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হয়েছে। এখনও দূরে থেকে দল নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর ফলে দলের নেতারা নিজের পদ পদবি ঠিক রাখার জন্য মাঝে মধ্যেই লন্ডনে ছুটে যায়। আর তারেক রহমানের সঙ্গে যাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে তারা অন্য নেতাদের পাত্তা দিতে চায় না। এছাড়া দলের নেতাকর্মীরা অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে দলটি আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। মূল দলের পাশাপাশি বিএনপি’র ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও ঝিমিয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯০ সালের এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ অতীতে বিএনপি’র যে কোন কর্মসূচি সফল করার ব্যাপারে প্রধান নিয়ামক শক্তি ছিল ছাত্রদল। কিন্তু অছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব ও অন্তর্কোন্দলের কারণে ছাত্রদল এখন বিএনপি’র একটি দুর্বল সহযোগী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মকা- নেই বললেই চলে। এ কারণেই দুর্বল এই সংগঠনের পক্ষে বিএনপি’র আন্দোলনে ভূমিকা পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিএনপি’র আরেকটি প্রভাবশালী সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদল। এক সময় হরতালসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে রাজপথ কাঁপাতো এই সংগঠনটি। কিন্তু গত আড়াই বছরে বিএনপি’র আন্দোলন কর্মসূচিতে শ্রমিক দলের কোন অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়নি।
বিএনপি’র আরেকটি অঙ্গ সংগঠন যুবদল। এ সংগঠনটি এক সময় রাজপথের আন্দোলনে সম্মুখভাগে থাকত। কিন্তু সংগঠনের নেতাকর্মীরা অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়ায় এখন যুবদলের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তবে গত আড়াই বছরে এ যাবৎ বিএনপি যে কটি আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে তাতে অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকাতে দেখা গেলেও পুলিশের বাধা ডিঙ্গিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেনি তারা।
মূল দল বিএনপিও এখন পর্যন্ত আন্দোলন চাঙ্গা করার মতো কোন কার্যক্রম দেখাতে পারেনি। দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্ব সঙ্কটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এক সময়ের দাপটশালী ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তির অধিকারী আনেক নেতা দল ছেড়েছে, আর কেউ কেউ মারা গেছে। যারা এখন দলে সক্রিয় আছে তারাও মূলত টিভি ক্যামেরাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। টিভি ক্যামেরা চলে গেলে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। আর এ সুযোগের ফাঁদে বিএনপি’কে আটকিয়ে জামাত শিবির বিএনপি’রই কাঁধে চড়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে চাচ্ছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+