জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মালানা মওদুদীর কুফরীমুলক ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি


(ক) পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে বক্তব্যঃ
মালানা মওদুদী পবিত্র কুরআন শরীফ এর মুল্যায়ন প্রসঙ্গে লিখেছে, “কোরআন করিম হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।” [তাফহিমাত, ১ম খন্ড, ৩১২ পৃষ্ঠা]

(খ) পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে বক্তব্যঃ
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র হাদীছ সম্পর্কে মালানা মওদুদী বলেছে, “হাদীস কিছু লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত হয়ে আসছে। এসব বড়জোর সঠিক বলে ধারণা করা যায়,কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা যায় না। আর একথা স্পষ্ট যে,আল্লাহর ধর্মের যেসব বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ,যেগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের পার্থক্য পরিস্কার হয়ে যায়,সেগুলো কয়েকজন লোকের বর্ণনা নির্ভর করে মানুষকে বিপদাপন্ন করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ করতে পারেন না।” [রাসায়েল ও মাসায়েল, ৬৭ পৃষ্ঠা]

(গ) নবী-রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কে বক্তব্যঃ

(১) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কেঃ

“আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল ত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।” [তাফহিমুল কোরআন (বাংলা), ১৯শ খন্ড, ২৮০ পৃষ্ঠা, ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা, ১৯৮০ ইং]

“মহানবী (স.) মানবিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দূর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।” [তরজমানুল কোরআন, ৮৫তম সংখ্যা, ২৩০ পৃষ্ঠা]

“মহানবী (স.) নিজে মনগড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষণ করেছেন।” [তরজমানুল কোরআন, রবিউল আউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরী]

“মহানবী (দঃ) তের বছর পর্যন্ত আরবের লোকদের মধ্যে ইসলামের মৌখিক ওয়াজ ও দাওয়াতের সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষে যখন অস্ত্র ধারণ করেছিলেন তখন মানুষের মন আপনা-আপনি সত্য গ্রহণের জন্য বিগলিত ও ইসলামে শামিল হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।” [ আল জিহাদ ফিল ইসলাম, ১৭৩-১৭৪ পৃষ্ঠা, ২০০২ ইং]

দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীছ শরীফগুলোর আলোচনা প্রসঙ্গে সে বলেছে, “এ সম্পর্কে যেসব কথা হুজুরের নিকট থেকে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মূলত এগুলো ছিল তাঁর অনুমান (কিয়াস)। এসব সম্পর্কে তিনি নিজেও সন্দিগ্ন ছিলেন। এসব কথা তিনি ওহী লাভের ভিত্তিতে বলেন নি,বরং অনুমান করে বলেছিলেন। ……..” [রাসায়েল ও মাসায়েল, ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা]

(২) হযরত আদম আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“হযরত আদম (আঃ) মানবিক দূর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানী প্রলোভন হতে সৃষ্ট তড়িৎ জযবায় আত্নভোলা হয়ে নিজ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর হতে নাফরমানীর অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।” [তাফহিমুল কোরআন, ৩য় খন্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা]

(৩) হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“হযরত দাউদ (আ.) এর কাজের মধ্যে নফস ও আভ্যন্তরীণ কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিল। অনুরূপভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথেও তার কিছুটা সম্পর্ক ছিল। আর তা ছিল এমন ধরনের কাজ, যা হক পন্থায় শাসনকারী কোন মানুষের পক্ষেই শোভা পায়না।” [তাফহিমুল কোর আন, ৪র্থ খন্ড,৩৭২ পৃষ্ঠা, অক্টোবর ১৯৬৬ ইং]

“ উরইয়ার স্ত্রীর ব্যাপারটির মূলতত্ত্ব শুধু এতটুকু ছিলো যে, হযরত দাউদ (আ.) সমকালীন ইসরাঈলী সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উরইয়ার নিকট তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অনুরোঢ করেছিলেন।।……………” [তাফহিমাত, ২য় সংস্করণ, ২য় খন্ড, ৪২ পৃষ্ঠা]

(৪) হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“হযরত নূহ (আ.) চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে জাহিলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিলেন।” [ তাফহিমুল কোরআন, ৩য় সংস্করণ, ২য় খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা, ১৯৬৪ ইং]

(৫) হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“হযরত ইউনুস (আ.) থেকে রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করার ব্যাপারে কিছু দূর্বলতা হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আপন স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।” [তাফহিমুল কোরআন, ৩য় সংস্করণ, ২য় খন্ড, সূরা ইউনুস (টিকা দ্রষ্টব্য), ১৯৬৪ ইং]

(৬) হযরত মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“নবী হওয়ার পূর্বে মুছা (আ.) দ্বারা একটি বড় গুনাহ হয়েছিল। তিনি এক ব্যাক্তিকে কতল করেছিলেন।” [রাসায়েল ও মাসায়েল, ১ম খন্ড, ৩১ পৃষ্ঠা]
“মুছা (আ.) এর দৃষ্ট্রান্ত হচ্ছে ঐ অধৈর্য্যশীল বিজয়ীর মত যে তার শাসন ক্ষমতা সুপ্রতিষ্ঠিত না করেই মার্চ করে সম্মুখ চলে যায় আর পিছনে ফেলে যাওয়া এলাকায় বিদ্রোহের দাবানল দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে।” [তরজমানুল কোরআন, ২৯তম খন্ড, ৪-৫ পৃষ্ঠা]

(৭) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“এখানে আর একটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, হযরত ইব্রাহীম (আ.) যখন নক্ষত্র দেখে বলেছিলেন, এটা আমার প্রতিপালক এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকেও নিজের প্রতিপালক হিসাবে অবহিত করেন, তখন সাময়িক ভাবে হলেও কি তিনি শিরকে নিপতিত হননি?” [তাফহিমুল কোরআন, ১ম খন্ড, ৫৫৮ পৃষ্ঠা]

(৮) হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“আমাকে মিসরের রাজকোষের পরিচালক নিয়োগ করুন – এ কথাটি হযরত ইউসুফ (আ.) শুধু অর্থমন্ত্রী হওয়ার জন্যই প্রার্থনা করেননি। করো কারো ধারণা, বরং তিনি এ বলে ডিকটিটরীই চেয়েছিলেন মৌলিকভাবে। এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান ইতালীর মুসোলিনির যে মর্যাদা তিনিও এর কাছাকাছি মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন।” [ তাফহীমাত, ৫ম সংস্করণ, ২য় খন্ড, ১২২ পৃষ্ঠা]

(৯) হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কেঃ

“হযরত ইসা (আ.) মারা গেছেন একথাও বলা যাবেনা, বরং বুঝতে হবে ব্যাপরটি অস্পষ্ট।” [তাফহিমুল কোরআন, ১ম খন্ড, ৪২১ পৃষ্ঠা]

(১০) নবী-রসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কেঃ

“ইসমত বা নিষ্পাপ হওয়াটা মূলতঃ নবীদের প্রকৃতিগত গুণ নয়। বরং নবুয়তের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য আল্লাহ তায়ালা কৌশল্গতভাবে তাঁদেরকে ভুলত্রুটি ও পদস্খলন থেকে নিরাপদ রেখেছেন। নতুবা তাঁদের ওপর আল্লাহ তায়ালার হেফাজত ক্ষণিকের জন্য ঊঠে গেলে সাধারণ মানুষের মত তাঁরাও ভুলভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। এখানে একটি সূক্ষ বিষয় এই যে, আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করেই প্রত্যেক নবীর উপর থেকে কোন না কোন সময় তার হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাদেরকে দুএকটি গুনাহে লিপ্ত হতে দেন। যাতে করে মানুষ যেন খোদা বলে ধারণা না করে এবং জেনে রাখে এরাও মানুষ।” [তাফহীমাত, ৪র্থ সংস্করণ, ২য় খন্ড, ৫৬-৫৭ পৃষ্ঠা]

“কোন কোন নবী দ্বীনের চাহিদার উপর স্থির থাকতে পারেন নি। বরং তারা আপন মানবীয় দূর্বলতার কাছে হার মেনেছেন।” [ তরজমানুল কোরআন, ৩৫তম সংখ্যা, ৩২৭ পৃষ্ঠা]

(ঘ) সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ সম্পর্কে বক্তব্যঃ

(১) সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ সম্পর্কে মওদুদী বলে, “দীর্ঘদিনের শিক্ষাদীক্ষার পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁদেরকে রণাঙ্গনে নিয়ে আসেন। তাঁদের মনমানসিকতায় মহাবিপ্লব চিত্রিত হওয়ার পরও ইসলামের প্রাথমিক যুদ্ধগুলোতে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদের মূল তাৎপর্য অনুধাবনে সাহাবা কেরামরা বারবার ভুল করতেন।” [তরজমানুল কোরআন, রবিউস সানী সংখ্যা, ১৩৫৭ হিজরী]

(২) মওদুদী সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ সম্পর্কে আরো বলেছে, “সাহাবায়ে কেরামের অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ণনা করেছেন।” [তরজমানুল কোরআন, ৩৫শ সংখ্যা, ৩২৭ পৃষ্ঠা]

(৩) সে আরো বলেছে, “সাহাবাদের মধ্যে জাহিলিয়াতের বদস্বভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটে।” [তাফহিমাত, ২য় খন্ড, ১৫৫ পৃষ্ঠা]

(৪) মওদুদী আরো বলেছে, “অনেক সময় সাহাবাদের মধ্যে মানবিক দূর্বলতা প্রাধান্য লাভ করতো। তাঁরা একে অপরকে আক্রমন করে বসতেন এবং পরস্পরে গালিগালাজ শুরু করতেন।” [তরজমানুল কোরআন]

(৫) ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর ছিদ্দ্বিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে মওদুদী লিখেছে, “ইসলাম মানুষকে এই নির্দেশ দেয় যে, সে যেন কখনো রিপুর প্রভাবে প্রভাবিত না হয়। …… এটা অত্যন্ত সূক্ষ ব্যাপার। একবার হযরত আবু বকর সিদ্দিকের মত রিপুর তাড়নামুক্ত খোদাভীরু ও আল্লাহতে নিবেদিতপ্রাণ ব্যাক্তিও তা পূরণ করতে ব্যর্থ হন।” [তরজমানুল কোরআন]

(৬) হযরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্পর্কে মওদুদী লিখেছে, “বিশ্ব প্রতিটি উচুর সামনে মাথানত করতে অভ্যস্ত ছিল এবং প্রত্যেক বুজর্গ মানুষকে সাধারণ মানুষের স্তর থেকে কিছু না কিছু উর্ধ্বে ধারণা করে আসছিল। এই ধারণার প্রভাব বিলুপ্ত হওয়ার পথও কখনো কখনো স্পষ্ট হয়ে উঠতো….। সম্ভবত এই ব্যাক্তি-শ্রেষ্ঠত্বের ধারণাই রাসূলুল্লাহর ইন্তেকালের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও কিছুক্ষণের জন্য হযরত ওমরকে পরাভূত করে ফেলেছিলো।” [তরজমানুল কোরআন]

(৭) হযরত ওসমান যুন্‌নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু সম্পর্কে সে বলেছে, “একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র সম্প্রসারণের দরুন কাজ দিন দিন কঠিনতর হচ্ছিল, অপরদিকে হযরত ওসমান যার উপর এই বিরাট কাজের বোঝা ন্যস্ত করা হয়েছিলো, তিনি ততটা যোগত্যা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন না যা তাঁর পূর্বসুরিদের ছিলো। এজন্য জাহিলিয়াত ইসলামী সমাজব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের পথ পেয়ে যায়।” [তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন, ৩৩ পৃষ্ঠা]

(৮) হযরত ওসমান যুন্‌নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহুকে শহীদকারীদের বিচারের ব্যাপারে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদূদী বলেছে, “ইনসাফ করো, তুমি যদি মায়াবিয়া (হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে কিংবা মায়াবিয়া না হও অন্তত সিরিয়ার একজন সাধারণ নাগরিক হত, তাহলে বর্ণিত পটভূমির প্রেক্ষিতে তুমি কি আলীর জবাবকে একটা বাহানা, গড়িমসি, ছলনা ও অস্বীকৃতি ছাড়া সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করতে?” [তাজাল্লী, দেওবন্দ, ডিসেম্বর ১৯৫৭]

(ঙ) মুজাদ্দিদ সম্পর্কে বক্তব্যঃ

মুজাদ্দিদের আগমন সম্পর্কে জনাব মওদুদীর বক্তব্য হচ্ছে, “ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে জানা যায়,এ পযর্ন্ত কোন ‘কামেল মুজাদ্দিদের’ আবির্ভাব হয় নি। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের এই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু তিনি কামিয়াব বা সফল হতে পারেন নি। তারপর যত মুজাদ্দিদের আগমন হয়েছে,তাদের প্রত্যেকে কোন না কোন একটা বিশেষ বিভাগ কিংবা কয়েকটি বিভাগে কাজ করেছেন। কামেল মুজাদ্দিদ বা পরিপূর্ণ সংস্কারকের স্থান এখনো শূণ্য রয়েছে।” [তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন, ৩১ পৃষ্ঠা]

(চ) আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বক্তব্যঃ

হযরত ইমাম গাজ্জালীর রহমতুল্লাহি আলাইহি সমালোচনা প্রসঙ্গে মওদুদী বলেছে লিখেছে, “ইমাম গাজ্জালীর সংস্কারমূলক কাজে জ্ঞানগত ও চিন্তাগত দিক থেকে কয়েকটি ত্রুটিও ছিলো। এগুলো তিনটি শিরনামে বিভক্ত করা যেতে পারে। প্রথমত,ইলমে হাদীসে দুর্বলতার দরুন তাঁর গবেষণায় কতকগুলো ত্রুটি দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত,তাঁর মধ্যে দর্শনের প্রাধান্য থাকায় কতকগুলো গবেষণায় ত্রুটিবিচ্যুতি দেখা দেয়। তৃতীয়ত,তাসাউফ বা আধ্যাত্মবাদের প্রতি তাঁর প্রয়োজনাতিরিক্ত আকর্ষন থাকার দরুন সৃষ্ট ত্রুটিবিচ্যুতি।” [তাজদীদ ও এহইয়ায়ে দ্বীন, ৪৫ পৃষ্ঠা]

ইমাম আবু হানিফা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি প্রসঙ্গে, “ইমাম আবু হানিফার ‘ফিকাহ’ ইসলামকে একটি স্থিতিশীল হিন্দু শাস্ত্রে রুপান্তরিত করেছে।” [তরজমানুল কোরআন, ১ম খন্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা]

(ছ) তাফসীর সম্পর্কে বক্তব্যঃ

ইসলামের বিধান অনুযায়ী পবিত্র কুরআন শরীফ এর মনগড়া তাফসীর করা হারাম। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,করে। “যে ব্যাক্তি পবিত্র কুরআন শরীফ এর মনগড়া ব্যাখ্যা করে সে যেন তার স্থান দোযখে তালাশ করে। ” ( তিরমিযী শরীফ)। বস্তুত পবিত্র কুরআন শরীফ এর ব্যাখ্যা করার কতকগুলো নিয়মনীতি রয়েছে। আর এসব নিয়মনীতি জানতে হলে সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনাদের পরবর্তীকালের আউলিয়ায়ে কিরাম রহমুতল্লাহি আলাইহিমগণের তাফসীর এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। কিন্তু মওদুদী বলেছে, “কোরআন ও রাসুলের সুন্নতের শিক্ষাই সবার আগে। তবে তফসীর ও হাদীসের পুরনো ভাণ্ডার থেকে নয়।” [তানকিহাত, ১১৪ পৃষ্ঠা]

(জ) ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বক্তব্যঃ

“ইসলাম ধর্ম কেবল অস্ত্রবল প্রয়োগ করে মানুষকে মুসলমান বানায় একথা বলা যেমন ভুল, ঠিক তেমনি ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অস্ত্রের কোন ভুমিকা নেই – একথা বলাও সঠিক নয়। প্রকৃত সত্য এই দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থিত। আর তা হলো, অন্য সত্যতার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে ইসলামের প্রচারে ও প্রসারে ঠিক একইভাবে মৌখিক তবলিগ ও অস্ত্রের প্রয়োগ উভয়েরই ভূমিকা ছিল। তবলিগ বীজ বপনের কাজ করে আর তরবারি নিড়ানি দেয়। প্রথমে তরবারি মাটি নরম করে যেন এতে বীজ উৎগমের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, এরপর তবলিগের মাধ্যমে বীজ বপন ও সেচ পরিচর্যার কাজ সম্পন্ন হয়।” [আল জিহাদ ফিল ইসলাম, ১৭৪-১৭৫ পৃষ্ঠা]

(ঝ) সত্য-মিথ্যা বলা সম্পর্কে বক্তব্যঃ

“বাস্তব জীবনে এমন কিছু চাহিদা রয়েছে যেগুলোর খাতিরে মিথ্যা বলা কেবল জায়েজই নয় বরং ওয়াজেব।” [তরজমানুল কোরআন, ৫০তম খন্ড, ২য় সংখ্যা, ১১৮ পৃষ্ঠা, শাবান ১৩৭৭ হিজরী]

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+