জার্মানিতে সাড়ে পাঁচ হাজার মুরগির খামার বন্ধ


কালের কণ্ঠ ডেস্ক

জার্মানিতে হাঁস-মুরগির পাঁচ হাজার ৭০০ খামার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব খামারে সরবরাহ করা পশুখাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ায় কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নেয়। খামারগুলোতে উৎপাদিত ডিম ও মুরগির মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হবে না_এমনটা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত খামার থেকে ডিম ও মাংস সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জার্মান কর্মকর্তারা জানান, পশুখাদ্যে ডায়োঙ্নি নামের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পোৎপাদন প্রক্রিয়ায় বা আবর্জনা পোড়ানোর ফলে ডায়োক্সি উৎপন্ন হয়। ডায়োঙ্নি মিশ্রিত খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এটা গর্ভবতী নারীদের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। জার্মান ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিমে পাওয়া ডায়োস্কিনের মাত্রা মানুষের জন্য খুব বেশি হুমকি তৈরি করবে না। তা সত্ত্বেও পূর্বসতর্কতা হিসেবে মুরগির খামারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বন্ধ হওয়া চার হাজার ৭০০ খামারের বেশির ভাগই জার্মানির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লোয়ার স্যাক্সি অঞ্চলের। এর আগে উৎপাদিত ডিম ও মুরগিতে ডায়োক্সিন পাওয়ায় গত সপ্তাহে জার্মানিতে এক হাজারেরও বেশি খামার বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত বুধবার জার্মান সরকার জানায়, শূকর ও মুরগির খাবার উৎপাদনের সময় কিছু পরিমাণ খাবারে ডায়োঙ্নি মিশে যায়। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তেল দুর্ঘটনাবশত পশুখাদ্যের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। গত ডিসেম্বরে জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য স্লেজউইগ হোলস্টেইনে প্রথম পশুখাদ্যে দূষণ ধরা পড়ে। গত সপ্তাহে জার্মান কর্মকর্তারা জানতে পারেন, প্রায় তিন হাজার টন পশুখাদ্য বিষাক্ত হয়ে গেছে।
পশুখাদ্যে অতিরিক্ত মাত্রার ডায়োস্কিনের উপস্থিতির বিষয়ে জার্মান সরকার গত মাসে জানতে পারলেও বিষয়টি গত মার্চেই ধরা পরে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পশুখাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হার্লস অ্যান্ড জেন্টসের নমুনা পরীক্ষায় মার্চে দূষণের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। সে সময় প্রতি কেজি পশুখাদ্যে গ্রহণযোগ্য মাত্রার দ্বিগুণ ডায়োক্সিন শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি এত দেরিতে সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার কারণ জানা যায়নি। তবে পশুখাদ্য উৎপাদনকারী ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি কর্মকাণ্ডের’ তদন্ত শুরু করেছে জার্মান সরকার। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইতিমধ্যে ডায়োক্সিন-দূষিত ১৪ টন ডিম প্রক্রিয়াজাতের পর জার্মানি থেকে নেদারল্যান্ডস হয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে ঢুকেছে বলে। ডায়োক্সিন আতঙ্কে জার্মানিতে উৎপাদিত শুকর ও পোলট্রি-পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সূত্র : বিবিসি।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে