জাহাজ ভাঙা শিল্পে চক্রান্ত : খারাপ জ্বিনের আছর হয়েছে!


সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি-বেলা’র এক রিট আবেদনের পর উচ্চ আদালত সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকায় পরিত্যক্ত জাহাজ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়। মূলত এই ‘বেলা’ই হচ্ছে দুষ্ট জ্বিনের গুরু। এর সাথে রয়েছে আরো দেশী বিদেশী কিছু এনজিও। আর এসব দুষ্ট জ্বিনের খপ্পরে পড়েছে উচ্চ আদালত। এই জাহাজ ভাঙা শিল্প বন্ধ হওয়াতে বেকার হয়ে পড়েছে লাখ লাখ শ্রমিক।

এক সময় মনে করা হতো জাহাজ কেটে শুধু লোহাই পাওয়া যায়। অর্ধ যুগ পেরিয়ে জাহাজ ভাঙা শিল্প এখন শুধু নির্মাণ শিল্প নয়, ফার্নিচার, স্টিল মিল, ইলেট্রিক ক্যাবল, অ্যালমুনিয়াম, প্লাস্টিক, জেনারেটরসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানার কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করছে। ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দেশের দেড় কোটি লোক।

কিন্তু গত এক বছর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপকুলীয় এলাকা জুড়ে গড়ে উঠা বিকাশমান এ শিল্পের কার্যক্রম বার বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্পের বিনিয়োগ। পাশাপাশি কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক।

সম্প্রতি এ শিল্পের উপর চলছে বিভিন্ন চক্রান্ত। এ শিল্পকে বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিভিন্ন কুচক্রী মহল।  এ নিয়ে গত শনিবার জাহাজভাঙা শিল্পে ‘খারাপ জ্বিনের আছর’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ সাহেব বলেন, এ জ্বিন হাইকোর্টের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করে। তাদের সঙ্গে বিদেশী দুষ্টচক্রের যোগাযোগ রয়েছে। তারা এ ব্যবসাকে বন্ধের চেষ্টা করছে। ‘তাদের’ নাম শিপ ইয়ার্ড মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন বলে সভায় উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। হাছান মাহমুদ বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগে তারা এ দেশে লোহার ব্যবসা করতে চায়।

জাহাজভাঙা শিল্পের মূল সমস্যা সরকার নয়, ওই জ্বিনের আছর। এ থেকে উত্তরণে সরকার ও জাহাজভাঙা শিল্প মালিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দরকার।

হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়া উঠা লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন জীবিকার উৎস চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্পকে বাঁচাতে সরকার দ্রুত সঙ্কট নিরসনে এগিয়ে অসবে- এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+