জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের অধিবাসী “উলামায়ে ছু” সম্পর্কে…


Picture2

হাদীস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “জাহান্নামের দরজা এই পৃথিবীর ঘর-বাড়ির দরজার মতো নয়; বরং উপরে-নিচে স্তরে স্তরে বিন্যস্ত এবং এক দরজা হতে অপর দরজা পর্যন্ত সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরত্ব। উপরের দিক থেকে প্রথম দরজার তুলনায় দ্বিতীয়টির এবং এভাবে পরবর্তী দরজাগুলোর একটির তুলনায় অপরটির উত্তাপ ও দাহন ক্ষমতা সত্তরগুণ অধিক হবে।“ (মুকাশাফাতুল কুলূব: ২৫-২৬)
 
মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “নিঃসন্দেহে মুনাফিক্বদের স্থান হচ্ছে, জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।” (সূরা নিসা শরীফ: ১৪৫) অর্থাৎ তারা এমন কঠিন-ভয়াবহ ‘আযাব-গযবের স্তরে প্রবেশ করবে, যেখানে ইহূদী, খ্রিস্টান, কাফির, মুশরিক, মূর্তি-পূজক, অগ্নিপূজক, এমনকি স্বয়ং মালঊন ইবলীসও প্রবেশ করবে না। নাউযুবিল্লাহ!
 
মুনাফিকদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হল উলামায়ে ছু অর্থাৎ দুনিয়াদার মা’লানা। তারা নিজেরা যেমন গোমরাহ হয় তেমনি হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে গোমরাহ করে ফেলে। দুনিয়াবী মান-যশ, অর্থ-সম্পদের মোহে তারা এমনভাবে গরক যে, চোখ বন্ধ করে হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল ফতওয়া দিচ্ছে! এরা যে কতখানি ঈমান বিধ্বংসী তা একটু ফিকির করলেই বুঝা যায়।
 
যেমন, কুখ্যাত কাট্টা কাফির ইয়াজিদ, যাকে স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লা’নত করেছেন, তাকে কতগুলো উলামায়ে ছু সাহাবী এমনকি তাবেয়ী খেতাব দিচ্ছে, তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে! নাউযুবিল্লাহ!
 
আক্বাইদের কিতাবে যেখানে সমস্ত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাছুম ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে তারা প্রচার করছে, “হযরত আদম আলাইহিস সালাম গন্ধম খাবার অপরাধে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন”, “হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম দাওয়াতের কাজে গাফলতি করার কারণে মাছের পেটে গিয়েছেন”! নাউযুবিল্লাহ!
 
আশুরা শরীফকে কেন্দ্র করে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ করা হচ্ছে, মহিলা জামাতকে জারি করার জন্য হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার বিরোধিতা করা হচ্ছে! নাউযুবিল্লাহ! অথচ হাদীস শরীফে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের প্রত্যেককেই অনুসরণীয় ও সত্যের মাপকাঠি বলা হয়েছে।
 
কুরআন শরীফের অসংখ্য স্থানে কাফির মুশরিকদের সরাসরি মুসলমানদের শত্রু বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই উলামায়ে ছু গুলা তাদের সাথে “ভাই ভাই” সম্পর্ক পাতাচ্ছে! তাদের পূজা উপলক্ষে নারিকেল বিতরণ করছে! নাউযুবিল্লাহ!
 
ঈমানের যিনি মূল অর্থাৎ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “মীলাদ শরীফ” পালন করাকে তারা বিদয়াত বলছে, এদিকে নেতা নেত্রীদের জন্মদিন মহাসমারোহে পালন করছে! নাউযুবিল্লাহ!
 
যুগের দোহাই দিয়ে হারাম ছবি, টিভি, খেলাধূলা, গনতন্ত্রকে তারা জায়েজ বলছে; আর ফরয মাযহাব, খাছ সুন্নত বাল্যবিবাহ, শরীয়তের বিধান তিন তালাক, হিলা বিয়ের বিরোধিতা করছে! নাউযুবিল্লাহ!
 
এসমস্ত উলামায়ে ছু থেকে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ যে যাকে অনুসরণ করবে, মুহব্বত করবে তার হাশর নশর তার সাথেই হবে। তাই কারো থেকে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করার আগে তাকে ভালোমত দেখে নিতে হবে। শরীয়ত বিরোধী একটি আমলও যদি কোন আলেম দাবিদারের থাকে তাহলেই সে আর অনুসরনীয় নয়।
Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে