জিএমও শস্য গোল্ডেন রাইস ও সয়াবিন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি


১৯৯৬ সালে প্রথম জিএম ফসলের চাষ ও বাজারজাত শুরু হয় আমেরিকায়। সে সময় ১.৭ মিলিয়ন হেক্টর জমি চাষ হয়েছিল। বাংলাদেশে জিএম ফসলের চাষ শুরু না হলেও, নানারকম বিদেশি দ্রব্যের আমদানির মাধ্যমে দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে জিএম ফসল। এর মধ্যে রয়েছে বিটি বেগুন, গোল্ডেন রাইস, সয়াবিন ইত্যাদি।
বিটি বেগুন হলো- ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী বেগুন, যা জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি করা এক ধরনের জিএম ফসল। অনেকে মনে করেন বায়োটেকনোলজি শব্দ থেকে বিটি বেগুনের নামকরণ করা হয় যা সঠিক নয়। বিটি হলো- Bacillus Thuringensis (বেসিলাস থুরেনজেনসিস)-এর সংক্ষিপ্ত নাম। বেসিলাস থুরেনজেনসিস মাটিতে বসবাসকারী এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা এক ধরনের কীটনাশক প্রোটিন উৎপন্ন করে যা বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমন করতে পারে। মার্কিন সংস্থা ইউএসএইডের সহায়তায় বাংলাদেশ ভারত ও ফিলিপাইনে বিটি বেগুন চাষ চালু করার জন্য এক প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০০৫ সালে।
২০১৩ সালে কোন ধরণের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ব্যতিরেকেই বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় জিনগতভাবে রূপান্তরিত বিটি বেগুন চাষের অনুমোদন দেয়। স্বাস্থ্যগত দিক থেকে বিটি বেগুনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ভয়াবহ। মানুষের স্বাস্থ্য ছাড়াও পরিবেশের জন্য এই বেগুন চরম ক্ষতিকর। বিটি বেগুন মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। জিনগত পরিবর্তনের কারণে এতে যে বিষ তৈরি হয় তা মানুষের লোহিত কণা ধ্বংস করে দেয়। নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য এই বিটি বেগুন ক্ষতিকর।
(জিএমও হচ্ছে জেনেটিক্যালি মোডিফাইড অর্গানিজম, আবার কখনো কখনো জিইও অর্থাৎ জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্ড অর্গানিজমও বলা হয়। সংক্ষেপে জিএমও বা জিই ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃত্রিমভাবে কোনো জেনেটিক ইনফরমেশন, অর্গানিজমে ঢুকিয়ে দিয়েই জিএমও তৈরি করা হয় অর্থাৎ কোনো একটি অর্গানিজমে, কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্যের নিউক্লিওটাইড সিক্যুয়েন্স অর্থাৎ ফরেন ডিএনএ পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে ঢুকিয়ে, অর্গানিজমকে জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করে কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করা হলে ওই অর্গানিজমকে জিএমও বলে।)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে