জিএম চুক্তি বাতিল করার দাবি!


এখন বাংলাদেশের বেগুন বীজের উপর মার্কিন ও ভারতীয় কোম্পানি মনসান্তো-মাহিকোর এ পেটেন্ট আগ্রাসনের বিরূপ প্রভাব কি হবে?
প্রথমতঃ বিটি বেগুনের বাণিজ্যিক ব্যবহার আমাদের বেগুনের জেনেটিক বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে। অধিক ফলনের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিটি বেগুন চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হলে কৃষকরা শুধু জিএম জাতের ফলনের দিকে নজর দেবে। ফলে ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত/স্থানীয় জাতগুলোর জায়গা দখল করে নেবে জিএম বীজ।
দ্বিতীয়তঃ পরাগায়নের মাধ্যমে বিটি বেগুনের বাইরে এর জিন বাংলাদেশের নিজস্ব অন্য জাতের বেগুনে প্রবেশ করলে এসব জাতও জেনেটিক দূষণের কবলে পড়বে এবং কোম্পানি তারও মালিকানা দাবি করতে পারে। ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতের সব বেগুনের উপর লুটেরা কোম্পানির মেধাস্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার বিটি বেগুনের মধ্যে থাকা বিটি টক্সিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে বেগুনের পোকা। উদাহরণস্বরূপ ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রুট ওয়ার্ম নামের পোকা দমনকারী বিটি ভুট্টার বিটি টক্সিন প্রতিরোধী রুট ওয়ার্ম-এর সন্ধান পাওয়া যায়। ফলে বিটি ভুট্টা চাষের মূল লক্ষ্যই বিফলে যায়। মাহিকো কোম্পানির সঙ্গে বারির সাব লাইসেন্স চুক্তির ৯.২ (ই) ধারায়ও বলা হয়েছে, ‘বারি এ চুক্তি বাতিল করতে পারবে যদি পোকা এ বিটি বেগুনের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে উঠে।’
দুই দশক ধরেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কথিত তৃতীয় বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত জ্ঞান, প্রাণবৈচিত্র্য তথা জেনেটিক সম্পদকে অবৈধভাবে পেটেন্ট করে নিয়ে এসব সম্পদের উপর তাদের নিরঙ্কুশ মালিকানা প্রতিষ্ঠা করার অপপ্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ আগ্রাসন থেকে আমাদের কৃষিকে রক্ষা করতে হবে। আমরা মনে করি, ইহুদী গুপ্তচর বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে জিএম শস্য নিয়ে সম্পাদিত চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ফসল ও সবজির উপর কোম্পানির সঙ্গে জিএম শস্য নিয়ে সম্পাদিত চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ফসল ও সবজির উপর কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিল করে দেশের কৃষিতে কর্পোরেট আগ্রাসন বন্ধ করার দাবি জানাই।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে