জেনে নিন! এক নজরে সম্মানিত কুরবানী আদায় করার ইহকালী ও পরকালীন ফযীলত


এক নজরে সম্মানিত কুরবানী আদায় করার ইহকালীন ও পরকালীন ফযীলত-

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.

অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, নিশ্চয় আমার সম্মানিত নামায মুবারক, সম্মানিত কুরবানী মুবারক, আমার সম্মানিত বরকতময় হায়াত মুবারক এবং আমার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ সহ সমস্তকিছু যিনি সমস্ত আলমের রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যে।” (সম্মািনত সূরা আন’আম শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৬২)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ.

অর্থ: “যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে, তবে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার সমধিক হক্বদার।” (সম্মানিত সূরা তওবা শরীফ : সম্মনিত আয়াত শরীফ ৬২)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ

অর্থ: “সম্মানিত কুরবানী উনার রক্ত ও গোশত কিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দরবার শরীফে পৌঁছেনা। তোমাদের তাক্বওয়া বা অন্তরের বিশুদ্ধ নিয়ত বা ইখলাছ পৌঁছে থাকে।” (সম্মানিত সূরা হজ্জ্ব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৭)

#মেদ্দাকথা, যদি কেউ যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য বিশুদ্ধ নিয়তে, তাক্বওয়া ও ইখলাছের সাথে সম্মানিত কুরবানী আদায় করে, তবে তিনি ইহকাল ও পরকালে নিন্মোক্ত ফযীলত লাভ করবেন-

(ক). #ইহকালীন/ দুনিয়াবী ফায়দা :-

১. নফসানিয়াত কুরবানী হয়ে হাক্বীক্বী তাক্বওয়া হাছিল হবে; যার ফলশ্রুতিতে-
* দুনিয়ার মুহব্বত দূর করে দেয়া হবে।
* বেহিসাব রিযিক দেয়া হবে।
* হাক্বীক্বী তাওয়াক্ক্বুল নছীব হবে।

২. সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই কুরবানীদাতার সমস্ত গুনাহখতা ক্ষমা করে দেয়া হবে।

৩. সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের বিনিয়ময়ে ১০টি নেকী, ১০ টি গুনাহখতা মাফ এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।

(খ). #পরকালীন/ আখিরাতের ফায়দা:-

১. যাঁরা সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর পেট কাটবেন, ক্বিয়ামতের দিন উনাদের কোন পেরেশানী (অস্থিরতা) থাকবেনা, উনারা ইত্বমিনান (প্রশান্ত) থাকবেন।

২. সম্মানিত কুরবানী উনার পশু কুরবানীদাতাকে পিঠে করে পুলছিরাত পার করে দিবে।

৩. সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি শরীরের পশমের জন্য একটি করে জান্নাতী বালাখানা দেয়া হবে।

৪. সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি মাথার পশমের বিনিময়ে একজন করে জান্নাতী পবিত্রা হুর দেয়া হবে।

৫. সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি গোশতের টুকরা বিনিময়ে একটি করে জান্নাতী পাখি দেয়া হবে।

৬. সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি হাঁড়ের বিনিময়ে একটি করে জান্নাতী বোরাক দেয়া হবে।

 

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বীভাবে সম্মানিত কুরবানী আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমীন

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে