জেসিন্ডার ইসলাম গ্রহণ বনাম মুসলমানদের ‘ভিগিল’ গ্রহণ


ক্রাইস্টচার্জে মসজিদে হামলার পর কিছু অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা গেছে:
১) মৃতদের উদ্দেশ্যে মোমবাতি প্রজ্জলন
২) নিরবতা পালন
৩) মৃতকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো

মৃতদের উদ্দেশ্যে এ ধরনের ইভেন্টকে বলে ‘ভিগিল’, এটা এক ধরনের প্যাগান বা মূর্তি পূজকদের কালচার, যা ইতিমধ্যে অনেক কমিউনিটিতেই চালু হয়েছে, এবং অতি সম্প্রতি মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর অনেক মুসলমানকে দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডে অমুসলিমদের সাথে মিশে এই কাজগুলো করতে।

অনেক আগের স্ট্যাটাসগুলোর মধ্যে আমি বলেছিলাম,
ইহুদীবাদীদের অনেকগুলো কাজের মধ্যে একটি কাজ হচ্ছে ইহুদী ধর্মাবলম্বী বাদে অন্য আব্রাহামিক ধর্মাবলম্বীদের (মুসলিম ও খ্রিস্টানদের)-কে প্যাগানাজিম বা মূর্তিপূজার দিকে নিয়ে যাওয়া। ‘ভিগিল’ হচ্ছে সেরকম একটি কালচার, যার মাধ্যমে দুঃখভারাক্রান্ত কোন সম্প্রদায়কে সহানুভূতি দেখানোর ছলে তাদের ভেতর প্যাগান কালচার প্রবেশ করানো হয়।

এবার আসুন একটু নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডনের পরিচয় সম্পর্কে কিছু ধারণা নেই-

১) জেসিন্ডা আরডেন খুব দরিদ্র পরিবারে থেকে এসেছে। ২০০১ সালে ফ্রি-মেসন সংস্থা থেকে জেসিন্ডা আরডেনকে অনুদান দেওয়া হয় এবং তার পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরচ চালানো হয়।
(https://bit.ly/2UTxSQv)
বর্তমানেও ফ্রি-মেসনদের অনেক অনুষ্ঠানে তাই অতিথি হিসেবে থাকে জেসিন্ডা আরডেন।
(http://freemasonsnz.org/galleries)

২) জেসিন্ডা খ্রিস্টানদের মধ্যে মনমর গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্ম সমকামীদের স্বীকৃতি দেয় না। তাই ২০০০ সালে সে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে নিজেকে নাস্তিক বলে দাবী করে। (https://ind.pn/2W5t0rw)
জেসিন্ডা গে (পুরুষ সমকামী)-দের স্বীকৃতির ব্যাপারে অনেক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সে অনেক গে-প্যারেডেও অংশগ্রহণ করে। (https://youtu.be/rGPmGrklQGw)

৩) জেসিন্ডা বিয়েতে বিশ্বাসী নয়। সে বহুদিন ধরে ক্লার্ক গেফোর্ড নামক এক ব্যক্তির সাথে লিভ-টুগেদার করছে এবং তাদের ঘরে ১টি সন্তানও আছে।

৪) জেসিন্ডা আব্রাহামিক খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করলেও প্যাগান বিশেষ করে হিন্দু ধর্মকে গুরুত্ব দেয়। যার কারণে প্যাগান হিন্দুদের অনেক পূজায় সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতাসহ উপস্থিত থাকে জেসিন্ডা।
(https://bit.ly/2CEdNGH, https://bit.ly/2HShOdT, https://bit.ly/2usZMXK)

৫) জেসিন্ডা নিজেকে মানবতাবাদী বলে দাবী করে, কিন্তু সে আসার ১ বছরের মধ্যে ইরাক ও আফগানিস্তানে নিউজিল্যান্ডে সেনা অবস্থানের সময়সীমা বৃদ্ধি করে। (https://bit.ly/2YkACZ4)

সম্প্রতি জেসিন্ডাকে ‘ইসলাম ধর্ম’ গ্রহণ করার আহবান জানিয়েছে এক মুসলিম যুবক। এতে কোন সমস্যা দেখি না। তবে জেসিন্ডার উত্তর ছিলো বেশ কৌশলী। সে বলেছে, “ইসলাম মানবতার শিক্ষা দেয়, আমার মনে হয় আমার মাঝে সেটি (মানবতা) আছে”।

তবে আমার মনে হয়, জেসিন্ডার ‘মানবতা’ ও ইসলামের মানবতার মধ্যে তফাৎ আছে।
ক) জেসিন্ডা সমকামীতায় বিশ্বাসী, ইসলাম সমকামীতায় বিশ্বাসী নয়
খ) জেজিন্ডা লিভ-টুগেদারে বিশ্বাস, ইসলাম লিভটুগেদারে বিশ্বাসী নয়
গ) জেসিন্ডা ধর্ম ত্যাগে বিশ্বাসী, ইসলাম ধর্ম ত্যাগে বিশ্বাসী নয়
ঘ) জেসিন্ডা খুনিকে বাচিয়ে দেয়ায় বিশ্বাসী, ইসলাম খুনিকে বাচিয়ে দেয়ায় বিশ্বাসী নয়
ঙ) জেসিন্ডা ইরাক-আফগানিস্তানে সৈণ্য পাঠিয়ে আগ্রাসনে বিশ্বাসী, ইসলাম অন্যায়ভাবে কাউকে আগ্রাসন তৈরীতে বিশ্বাসী নয়।

তাই জেসিন্ডা যে মানবতার কথা বলেছে, সত্যিই বলতে ইসলাম সেই মানবতায় স্বীকার করে না।
তবে জেসিন্ডা যে কথিত মানবতা প্রকাশ করেছে, সেটা অনেকটা ফ্রি-মেসনদের মত মানবতা, যা আব্রাহামিক ধর্ম থেকে দূরে সরে প্যাগানিজমের মাধ্যমে মানবতার আলাদা একটি সংজ্ঞা তৈরী করা।

যাই হোক,
এবার আপনাদেরকে আরেকটি তথ্য দিচ্ছি। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর ফ্রি-মেসনারীদের প্যাগানগ্রুপটি বেশ সক্রিয় হয়েছে এবং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আপনারা জানেন, আর কিছুদিন পরেই আসছে পহেলা বৈশাখ, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বিভাগ থেকে বের হবে প্যাগানদের অনুষ্ঠান ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’, যা আন্তর্জাতিক ইহুদীবাদীদের সংস্থা ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। তবে গত কয়েক বছর যাবত মূর্তিপূজারীদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের কারণে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ অনেকটাই কমে গিয়েছিলো। যার কারণে তাদের শোভাযাত্রায় খুব একটা লোক হচ্ছিলো না, এবং গত বছর প্রায় হায়হুতাশ পড়ে যায়। এ অবস্থায় সেই অনুষ্ঠানকে বাচিয়ে রাখতে মুসলমানদের টেনে সেই প্যাগান কালচারে নিয়ে আসা খুব জরুরী। তাই এবার মুসলমানদের আকৃষ্ট নতুন পদ্ধতি নিয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা। তারা এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য করবে নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা। আমি নিশ্চিত, এই উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করায় অনেক মুসলমানই এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করবে। (https://bit.ly/2HGKHKL)

মজার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন,
জেসিন্ডা আরডন কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেনি,
কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের ভিগিল আর বাংলাদেশের মুসলমানদের মঙ্গল পূজা ধরিয়ে দিয়েছে।
এটাই হলো চতুর ফ্রি-মেসনারীদের বৈশিষ্ট্য।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে