জ্ঞান-বিজ্ঞান রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা/উদ্ভাবক মুসলমানঃ মুসলমান উনারাই বিজ্ঞানের মূল বা জনক বা আবিষ্কারক-(১৮)


গণিতশাস্ত্রে মুসলমান উনাদের শুধুমাত্র অবদান নয়, উনারাই সৃষ্টিকরক/উদ্ভাবক-০১

গণনা এবং পরিমাপ মানুষের আদিমতম বৈশিষ্ট্য। দৃশ্যমান বস্তুজগতের নানান বস্তুর পরিমান গণনা সেই প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে আর এখান থেকেই শুরু হয়েছে গণিতের পথ চলা। বিজ্ঞানে(Science) গণিত আর কলায়(Art) চিত্রশিল্প- এই দুই বস্তুই সকল মানুষের বোধগম্য। সংজ্ঞাগতভাবে গণিত হচ্ছে(Mathematics) পরিমাণ, সংগঠন, পরিবর্তন ও স্থান বিষয়ক গবেষণা। এতে সংখ্যা ও অন্যান্য পরিমাপযোগ্য রাশিসমূহের মধ্যকার সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়। গণিতের সার্বজনীন ভাষা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা একে অপরের সাথে ধারণার আদান-প্রদান করেন। এ কারনে গণিত হচ্ছে বিজ্ঞানের ভাষা(Language of Science)।

বিজ্ঞানের সূচনাকাল হতেই গণিতে কিছু না কিছু কাজ হয়েছেই। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে গণিতের উপর করা এইসব কাজ তখনো পর্যন্ত কোন সামগ্রিক রূপ পরিগ্রহ করে নি; সেইসাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় গণিতের ব্যবহারও খুব বেশী প্রচলিত হয় নি। এরকম একটা অবস্থাতেই মুসলমানরা গণিতের হাত ধরতে এগিয়ে আসেন। বিজ্ঞানের জগতে মুসলমানদের সদর্প আবির্ভাবের একেবারে প্রথম দিন থেকে পতনের কাল পর্যন্ত যত বিজ্ঞানী এসেছেন উনাদের একটি বৃহৎ অংশই কোন না কোনভাবে গণিতে আবিষ্কার রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গণিতের নানান শাখার প্রচলন, বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় বিভিন্ন তত্ত্ব প্রমানে এবং দৈনন্দিন জীবনে গণিতের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে এ সময় গণিতের খোল্নলচে পালটে দিয়ে একে নতুন রূপ দেয়া হয়।

এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনেক সময়ের ব্যাপার । তাই মুসলমানদের মাঝে কেবল যেসব গণিতবিদেরা(Mathematians) সর্বকালেই স্মরণীয় উনাদের কথা আলোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে, একটা কথা মনে রাখা আবশ্যক যে, গণিতে মুসলমানদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্যা সমাধান এবং মুসলমানদের জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং গণিতের চর্চা সবসময়েই হাতে হাত রেখে চলেছে। ফলে, প্রায় সকল জ্যোতির্বিদই গণিতে দৃশ্যমান অবদান রেখেছেন। সেইসাথে এটা বলে নেয়া আবশ্যক যে, ভারতীয় গণিতের সংস্পর্শ এবং প্রভাবেই সর্বপ্রথম মুসলমানরা গণিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

গণিতে সবার আগে বলার মত যাঁদের অবদান উনারা হচ্ছেন দুই ফাজারী, আবু ইস্‌হাক ইব্‌রাহিম আল-ফাজারী (أبو إسحاق إبراهيم بن حبيب بن سليمان بن سمورة بن جندب الفزاري; ?-৭৭৭)এবং আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ ইবন্‌ ইব্রাহিম আল-ফাজারী(أبو عبدالله محمد بن إبراهيم الفزاري;?-৮০৬), সম্পর্কে উনারা পিতা –পূত্র। উনারা মিলিতভাবে ( ইয়াকুব ইবন্‌ তারিক(يعقوب بن طارق; ?-৭৯৬)ও সাথে ছিলেন) ভারতীয় সিদ্ধান্তের একটি ‘সুর্য্য সিদ্ধান্ত’ এবং ব্রহ্মগুপ্তের প্রায় সবগুলো কাজের অনুবাদ সম্পন্ন করেন এবং তার ভিত্তিতে ‘আজ্ জিজ্ আল-মাহ্লুল মিন আস্-সিনহিন্দ্ লি-দারাজাত্ দারাজা’ রচনা করেন। এরপর পরই সাবিত ইবন ক্বুরা(৮৩৬-৯০১), হাজ্জাজ ইবন্ ইউসুফ ইবন্‌ মাতার(৭৮৬-৮৩৩; উমাইয়া শাসনকর্তা নন) এবং অবধারিতভাবে হুনায়ন ইবন্‌ ইসহাক(৮০৯-৮৭৩) আলাদা আলাদাভাবে টলেমীর আল-ম্যাজেস্ট, ইউক্লিডের ইলিমেন্টস্ সহ গ্রীক গণিতের কাজসমূহের অনুবাদ কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন। খৃষ্টীয় অস্টম এবং নবম শতকে আরো যাঁরা গণিতে অবদান রাখতে সক্ষম হন উনাদের মধ্যে আবু আলী ইয়াহিয়া(?-৮৩১), হারুন ইবন্ আলী(?-৯০০) আহ্মাদ ইবন্ মুহম্মদ নাহাওয়ান্দী(?-৮৩৫), আল-মারোয়ারেজী, আল-ফারগানী উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু, গণিতে এসব বিজ্ঞানীর কাজ একজন মাত্র ব্যক্তির অবদানের কাছে চাপা পড়ে যায়। তিনি আর কেউ নন আবু আবদুল্লাহ্‌ মুহম্মদ ইবন্‌ মুসা আল-খোয়ারিজ্‌মি(৭৮০-৮৫০), বিজ্ঞানের ইতিহাসের জনক জর্জ সার্টনও(George Sarton) উনাকে যে কোন বিচারে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে