সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

জ্ঞান-বিজ্ঞান রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা/উদ্ভাবক মুসলমানঃ মুসলমান উনারাই বিজ্ঞানের মূল বা জনক বা আবিষ্কারক-(২০)


গণিতশাস্ত্রে মুসলমান উনাদের শুধুমাত্র অবদান নয়, উনারাই সৃষ্টিকরক/উদ্ভাবক-০৩

দশম শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদ হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ্‌ মুহম্মদ ইবন্‌ জাবির ইবন্‌ সিনান আল-বাত্তানী(محمد بن جابر بن سنان البتاني ;৮৫৮-৯২৯)। ত্রিকোনমিতি উনার হাতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ন শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। Sine, Cosine, Tangent প্রভৃতি ত্রিকোনমিতিক অনুপাতের তাৎপর্য সঠিকভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে তিনি এসব অনুপাতের পারস্পরিক সম্পর্কের সূত্রগুলো(যেমনঃ tanA=sinA/cosA) আবিষ্কার করেন, যেগুলো আজো সমানতালে ব্যবহৃত হয়। গণিতে বাত্তানীর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে রয়েছেন আবুল ওয়াফা বুজ্‌জানী(৯৪০-৯৯৮) , আবুল কামিল ইবন্‌ আস্‌লাম(৮৫০-৯৩০) এবং আবু জাফর মুহম্মদ ইবন্‌ আল-হাসান আল-খাজানী(৯০০-৯৭১) বেশ বিখ্যাত। আবুল ওয়াফা sin(A+B)= sinAcosB+cosAsinB সূত্রের আবিষ্কারক। অন্যদিকে, বীজগণিতে অসাধারণ বুৎপত্তি সম্পন্ন মিশরীয় গণিতবিদ আবুল কামিলকে ‘আল-হিসাব আল-মিশরী’ নামে ডাকা হোত, যার অর্থ হচ্ছে ‘মিশরীয় ক্যালকুলেটর’(Egyptian Calculator)।

একাদশ শতকে যথারীতি আল-বিরুনী, ইবন সীনা আর ইবন হাইছামের কাজের নিচে আর সকলেই চাপা পড়ে গিয়েছেন। এদের মধ্যে আবু মাহ্‌মুদ আল-খুজান্দী(৯৪০-১০০০), আহ্‌মাদ ইবন ইউনুস(৯৫০-১০০৯) , আবুল জুদ মুহম্মদ ইবন লাইসুস্সানী এবং আলী ইবন্ আহ্মাদ উল্লেখযোগ্য। আবু রায়হান মুহম্মদ ইবন্‌ আহ্মদ আল-বিরুনী(৯৭৩-১০৪৮) সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। উনার সুবৃহৎ বিজ্ঞানকোষ ‘কানুন মাস্উদী‘ এর ত্রিকোনমিতি অধ্যায়টিতে নজর বুলালেই বোঝা যায় গণিতে উনার কাজের পরিমান কত সুদুরপ্রসারী। উনার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে, তিনি বিজ্ঞানকে গণিত ব্যবহারের হাতিয়ার তুলে দিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ০ থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত প্রতিটি ডিগ্রি এবং ডিগ্রির ভগ্নাংশের জন্য একটি সাইনছক(Sine Table) তৈরী করেন এবং এ জন্য তিনি যে পদ্ধতি ব্যবহার করেন তা আজকের দিনে ইন্টারপোলেশন তত্ত্ব(Theory of Interpolation) নামে পরিচিত, যদিও এই তত্ত্বের আবিষ্কারক হিসেবে আমরা আইজাক নিউটনকেই(Issac Newton) চিনি। হিংসাবশত: আইজাক নিউটনকে এই তত্বের আবিষ্কারক বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই তত্বের আবিষ্কারক মহাবিজ্ঞানী আল বিরুনী। ইবনুল হাইছাম(৯৬৫-১০৩৯) বিশুদ্ধ গণিতের উপর ৪১টি এবং জ্যামিতির উপরে ২৬টি গ্রন্থের প্রনেতা। মানবচক্ষুর কার্যাবালীর ব্যাখ্যাদানে জ্যামিতির ব্যবহার এক্ষেত্রে উনার সবচেয়ে বড় কীর্তি।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. মহানন্দা মহানন্দা says:

    তারপরও এখনকার জাহিল ও হীনম্মন্য মুসলমানরা আর কত কাল চোখ বন্ধ রাখবে?
    কাফিরদের আর কতো তাবেদারি করবে?????

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে