আজ সুমহান পবিত্র ৯ই রজবুল হারাম শরীফ। সুবহানাল্লাহ! আওলাদে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত সাইয়্যিদাতুল উমাম আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বীক্বা মুবারক উনার দিন। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে, “প্রত্যেক সন্তানই তার আক্বীক্বার সাথে আবদ্ধ।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ৭ম দিনে আক্বীক্বা মুবারক করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আজ সুমহান পবিত্র ৯ই রজবুল হারাম শরীফ। সুবহানাল্লাহ! আওলাদে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত সাইয়্যিদাতুল উমাম আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বীক্বা মুবারক উনার দিন। সুবহানাল্লাহ! সন্তান বিলাদত বা জন্মগ্রহণের ৭ম দিনে আক্বীক্বা দেয়া খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
শুধু তাই নয়, হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র আক্বীক্বা মুবারক উনার বরকতপূর্ণ দিনটিও কায়িনাতবাসীর জন্য ঈদ বা খুশির দিন। তাই প্রত্যেকের উচিত- এদিনে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করে নাজাত লাভ করা।

আমাদের হানাফী মাযহাব মতে আক্বীক্বা করা সুন্নত-মুস্তাহাব। কিন্তু সন্তানের জীবনের ছদক্বা হিসেবে আক্বীক্বার গুরুত্ব অনেক। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “নাবালেগ অবস্থায় যে সন্তান ইন্তিকাল করলো; সে সন্তানের আক্বীক্বা করা হলে সেই সন্তান ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে সুপারিশ করে তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু যে সন্তানের আক্বীক্বা করা না হয়, সেই সন্তান তার পিতা-মাতার জন্য সুপরিশ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে।”

পবিত্র ‘বুখারী শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত সালমান ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক সন্তানের সাথেই একটি আক্বীক্বা জড়িত রয়েছে। সুতরাং তোমরা সন্তানের পক্ষ হতে আক্বীক্বার পশুর রক্ত প্রবাহিত (যবেহ) করে সন্তানকে আপদমুক্ত করো।
তিরমিযী শরীফ ও মুসনাদে আহমদ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক সন্তানই আক্বীক্বার সাথে আবদ্ধ। সন্তান জন্মের ৭ম দিন আক্বীক্বার পশু যবেহ করবে, নাম রাখবে এবং মাথার চুল মুণ্ডন করবে।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কিতাব ‘নাসায়ী শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রত্যেকের জন্য দুটি করে বকরী আক্বীক্বা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র ‘আবু দাউদ শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, হযরত উম্মু র্কুয্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘পুত্র সন্তানের জন্য দুটি বকরী এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি বকরী আক্বীক্বা করবে। আর বকরীগুলো পুরুষজাতীয় হোক অথবা স্ত্রীজাতীয় হোক তাতে কোনো ক্ষতি নেই।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সন্তান জন্মগ্রহণের পর ৭ম দিনে আক্বীক্বা করা, মাথা মুণ্ডন করা এবং চুলের ওজনে স্বর্ণ-রৌপ্য ছদক্বা করা ও অর্থবহ সুন্দর নাম রাখা সুন্নত মুবারকের অন্তর্ভুক্ত।

আক্বীক্বার গোশত সন্তানের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী সবাই খেতে পারবে। অর্থাৎ আক্বীক্বার গোশতের হুকুম পবিত্র ঈদুল আযহা অর্থাৎ কুরবানীর গোশতের হুকুমের ন্যায়।
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আক্বীক্বার গুরুত্ব ও ফযীলত জেনে তা আমল করা দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর বিশেষ করে আজ পবিত্র ৯ই রজবুল হারাম শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার মাহবুবা এক ওলী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন সম্মানিত আওলাদ, জান্নাতী মেহমান, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাইয়্যিদাতুল উমাম আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বীক্বা মুবারক উনার সুমহান দিন। এ মুবারক দিন উপলক্ষে সবারই দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা এবং সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী সার্বিক খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়া।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে