ডাকাতের কবলে চট্টগ্রাম ভ্রমণ


maxresdefault (2)ডাকাতের কবলে চট্টগ্রাম ভ্রমণ

—————————————

মাদ্রাসার ভিতর ঝিম ধরে বসে থাকতে ভালো লাগছে না।ঝিম কাঠতে বন্ধের দিনকে কাজে লাগাতে গত ১৪ই সেপ্টেম্বর জুমাবার গেলাম চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।সাথে ছিলো, বন্ধু ইমরান ও ফুফাত ভাই মোহাম্মদ।

প্রথমে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে উঠলাম ট্রেনে।উদ্দেশ্য আপাতত ষোলশহর।এই ট্রেনের বৈশিষ্ট্য, টিকিট নিতে হয় না,ফ্রি তে যাওয়া যায়।এই সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়! সুযোগকে কাজে লাগাতে উঠে গেলাম টিকিট বিহীন।একটু পরে কাউন্টার থেকে আওয়াজ এলো, ‘যারা টিকেট নেননি তারা টিকেট নিয়ে নিন।’ দেখেছি একে একে নেমে যাচ্ছে অনেকে।আমাদের থেকেও নামলো ইমরান।ততক্ষণে টিকিট লাইন অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে।অনেক কষ্ট করে টিকিট নিয়ে ফিরলো সে।একটু পরে ট্রেন ছাড়লো।রেললাইনের পথধরে আপন গতিতে চলছে ট্রেন।প্রিয় মাতৃভূমির সবুজ-শ্যমল গ্রাম,পথ-ঘাট আর বিভিন্ন ফসলের মাঠ দেখছি আর উপভোগ করছি আল্লাহর সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্য।একটু পরে ট্রেন গিয়ে পৌঁছলো আমাদের গন্তব্যে।নামলাম।একটু হেটে গেলাম ২নাম্বার গেইটে।সেখানে নাস্তার একটা দোকান খোঁজলাম।অনেক খোঁজাখুঁজির পরও একটা ভালো দোকান পেলাম না।পরে গাড়ি নিয়ে গেলাম জিসিমোড়।তারপর নাস্তা করলাম।এখন ফয়জলেক চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠলাম।একটু পরেই পৌঁছে গেলাম চিড়িয়াখানায়।টিকিটঘরে গেলাম আর ৫০০টাকার নোট দিয়ে টিকিটমাস্টারকে বললাম, ‘৩টা টিকিট দিন।’ টিকিটমাস্টার বললো,’৫০০টাকা ভাংতি নেই।’ টাকা ভাংতি না পেয়ে পার্কের বাহিরে রাস্তা-ঘাটে এদিক সেদিক ঘুরাঘোরি করলাম।হাটার ফাঁকে একজন ‘হুজুর’ দোকানদার সালাম দিলো,তার সাথে কথা হলো।তারপর তার কাছে টাকার ভাংতি চাইলাম কিন্তু পেলাম না।বেচারা টাকাটা নিয়ে অনেক ঘুরাঘোরি করেও ব্যার্থ হলেন।বাধ্য হয়ে শেষমেশ একটা কুলিংকর্নারে ঢুকলাম।সেখানে পড়তে হলো ডাকাতের কবলে,ভদ্র ডাকাত কিন্তু।নাস্তার প্যাকেটে লেখা MRP’র চেয়ে বাড়িয়ে নিলো অনেকটা।আরও বলে, ‘লেক বা পার্কের পাশে সব দোকানই নাকি বাড়িয়ে নেয়।’ চলে আসলাম টিকিটঘরে,টিকিট নিয়ে ঝট-পট ঢুকে গেলাম।পার্কে ঢুকেই দেখা শুরু করলাম আল্লাহর সৃষ্টির অপরূপ সৌন্দর্যের ছোট-বড় হরেক রকম প্রাণী,পশু-পাখি।অনেক প্রাণীকে দেখলে ভয় লাগে, অথচ খাঁচায় বন্দি।তম্মধ্যে রাম কুকুর,সিংহ ও বাঘ অন্যতম।আবার সিংহ,বাঘ ও সাপের কাছে দাঁড়ানো যায় না,অসহনীয় দুর্গন্ধ।প্রাণী ও সবুজ-শ্যমল প্রকৃতি দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম শেষ প্রান্তে।সেখানে দেখলাম বেশ কিছু দোলনা।শুরু করে দিলাম দোল খাওয়া।দোল খেতে খেতে মনে পড়ে গেলো শৈশবের কথা।গাছের ঢালে দোলনা বেঁধে দোল খাওয়ার জন্য আম্মুর কাছে কতই না বকুনি শুনতে হতো!!এরপর আরেকটু ঘুরেফিরে বেরোলাম পার্ক থেকে।তারপর জিসিমোড় হয়ে দু’নম্বার রোড় দিয়ে পৌঁছলাম বহদ্দরহাট।হ্যাঁ,বহদ্দরহাট পোঁছার আগে দেখতে হলো একটা দুর্ঘটনা।রিকশা উল্টে দু’টি বাচ্চা পড়ে গেলো শহরের নোংরা নালায়।পৌঁছে গেলাম বহদ্দরহাট শুলকবহর মাদ্রাসায়।সেখানে বেশ কিছু বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করে চাচার রুমে বসলাম।একটু বসতে না বসতেই হয়ে গেলো জুমার আযান।সেখানে কিন্তু আযানের পর বসে থাকা যায় না,আযান শেষ হতে না হতেই চলে যেতে হয় মসজিদে।তাই তাড়াতড়ি চলে গেলাম।বসলাম।মুহররম ও আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা শুনলাম।চমৎকার বয়ান।খুৎবা তো বয়ানকেও ছাড়িয়ে গেলো।বয়ান,খুৎবা ও নামাযের ইমামতি করছিলেন,শুলকবহর মাদ্রাসার মাতারবাড়ি হুজুর।নামায শেষে চলে গেলাম রুমে।গিয়ে দেখি ফয়জুল্লাহ,তাওহীদ সহ বেশ ক’জন আমাদের জন্য খাবারের আয়োজন করলো।তাড়াতড়ি বসে গেলাম খেতে।কারণ,টার্গেট আরও অনেক বাকী।বের হলাম আগ্রাবাদের উদ্দেশ্য।এবার সাথে যোগ হলো ফুফাত ভাই আহমদ ও বন্ধু জুনাইদ।উঠে গেলাম গাড়িতে।একটু পরে পৌঁছলাম আগ্রাবাদ স্টেশনে।এবার জাম্বুরি পার্কের দিকে পথ চলা শুরু হলো।পার্কটি শুরু হলো বেশ ক’দিন আগে।পত্রিকায় তার ছবি ও কিচ্ছে-কাহিনী শুনে মনো হলো,অনেক সুন্দর হবে। কিন্তু না, সেখানে গিয়ে পেলাম মানুষের ভিড় ও ধুলাবালি।হতাশ হয়ে চলে গেলাম পতেঙ্গা সী-বীচের দিকে।সী বীচ দেখলাম আরও নোংরা।নেই কোনো চর,নেই কোনো ঢেউ; আছে শুধু মানুষের ভিড়।আমরা কক্সবাজারবাসী হওয়াই পতেঙ্গা সৈকতকে কিছুই মনে হলো না।ফিরলাম স্টেশনে।এবারের উদ্দেশ্য জামিয়াতুল ফালাহ ময়দানে কারবাল্লা মাহফিল দেখা।কিন্তু মানুষ প্রচুর হওয়াই স্টেশনে কোনো গাড়িই পাচ্ছি না।অনেক দৌঁড়ঝাপ করলাম।কিন্তু পেলাম না।পরে অটো/টমটম নিয়ে কিছু পথ পাড়ি দিয়ে একটু নাস্তা পানি খেলাম।আবার গাড়ি খোঁজাখুঁজি শুরু একই উদ্দেশ্যে।কিন্তু পাচ্ছিই না।অনেক্ষণ পরে পেলাম একটা সিএনজি।সেটা নিয়ে চলে আসলাম জামিয়াতুল ফালাহ মাহফিলে।সেখানে ফুফাত ভাই আহমদ ও জুনাইদকে বিদায় দিয়ে মাহফিলের দিকে উঁকিমেরে আমরা তিনজন গেলাম তাবলীগের মরকেজে।কিন্তু টায়ার্ড হওয়াই ওয়াজ শুনা হয়নি।মুগ্ধতা,ভালোলাগা,শিক্ষা,উপলব্ধি আর অবিজ্ঞতার কিছু উপকরণ নিয়ে চলে আসলাম আপন নীড় আল জামেয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায়।

Views All Time
3
Views Today
9
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে