“ডিগ্রিধারী মালানা আর নাজায়িয কাজের কারখানা”


প্রবাদে আছে- “সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত”। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শিয়রে পৌঁছে জ্ঞানার্জন করা যথেষ্ট নয়। আর অতিরিক্ত জ্ঞান ব্যতিত কেউ সুশিক্ষিত হতে পারে না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “ইলম অনুযায়ী আমল করো”। বর্তমান দেশে যে, ডিক্রিধারী মালানাদের আবির্ভাব ঘটেছে, তারা কি সত্যিই প্রকৃত মাওলানা বা আল্লামা? না, তারা নামে মাত্র মালানা, কামে নয়। তাদের আক্বল সমঝ একেবারেই শূন্য। কেননা, তারা নাজায়িয কাজকে জায়িয আর জায়িয কাজকে নাজায়িয বলে আখ্যায়িত করে থাকে। যা নাজায়িয কাজকে জায়িয আর জায়িয কাজকে নাজায়িয বলা সম্পূর্ণরূপে কুফরী। তাহলে তাদের দেয়া ফতওয়া যদি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের বিপরীত বা বিকৃতি হয়ে থাকে- তবে কি সাধারণ জনগণ সেটাই মেনে নিবেন? যেমনটি দুনিয়াদার মালানারাসহ পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিকৃতিকারী উলামারা বলে থাকে- ছবি তোলা রাষ্ট্রীয়ভাবে জায়িয। নাউযুবিল্লাহ! তারা বলে- এত সুন্নতের প্রয়োজন নেই। নাউযুবিল্লাহ! তারা আরো বলে- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পোশাকের কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনা নেই। নাউযুবিল্লাহ! মূলত, এ ধরনের ফতওয়া বা মায়সালা দেয়া তো কাট্টা কুফুরী বা কাফির হয়ে যাওয়া। অথচ তারা তো শিক্ষিত ব্যক্তি দাবিদার। তাহলে কি সাধারণ মানুষ তাদের ফতওয়া বা মায়সালা মেনে নিবেন? না, মোটেই মেনে নিতে পারেন না। কেননা তারা কুফরী করেছে, বর্তমানেও করতেছে, ভবিষ্যৎতেও করবে অর্থাৎ অনন্তকাল ধরে কুফরী করে ঈমানহারা হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। আর তা সাধারণ মানুষদের ঈমানে এবং আক্বীদায় কুফরী, হারাম ও নাজায়িয কর্মকা- বিষয়ক কাজ পৌঁছে দেয়া ব্যতীত আর কিছুই না।
হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত ইমাম মুজতাহিদ ও হযরত আউলিয়ায়ে ক্বিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জীবনী মুবারক খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ইলমে গায়িব ও ইলমে লাদুন্নী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। এমনকি অনেক ওলীআল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জীবনী মুবারকে দেখা যায়- উনারা তো কোনো মাদরাসায় পড়ে ইলম অর্জন করেননি। অর্থাৎ উনারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইলম অর্জন করেননি। তাহলে উনারা কি করে উনাদের যামানা মুবারকে ফতওয়া বা মাসয়ালা মুবারক দিয়েছেন। অপরপক্ষে যিনি সৃষ্টি না হলে কুলক্বায়িনাত লৌহ, কলম, আসমান, যমীন কিছুই সৃষ্টি হতো না, যিনি হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী ও হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রাসূল, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো কোনো মাদরাসা হতে ডিগ্রি গ্রহণপূর্বক শিক্ষা অর্জন করেননি। তাহলে কি উনার উম্মতগণ উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারকের আদেশ-নির্দেশ মুবারক মানবে না (যা কল্পনা করাটাও কাট্টা কুফরী)। তাহলে কেবল শিক্ষিত (প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী) ব্যক্তিরাই ফতওয়া দিতে পারবেন- এর মূল্য কোথায়?
সুতরাং পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে ফতওয়ার মামলার উদ্ভব হলে ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি হাইকোর্ট ফতওয়া অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর ২০১১ সালের ১২ মে আপিল বিভাগ আংশিক মঞ্জুর করে রায় দেয় হয়। রায়ে বলা হয়, ধর্মীয় বিষয়ে ফতওয়া দেয়া যেতে পারে। যথাযথ শিক্ষিত ব্যক্তিরাই ফতওয়া দিতে পারেন। উক্ত আংশিক রায় ২০১৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে বলে যে, যথাযথ শিক্ষিত ব্যক্তিরাই ফতওয়া দিতে পারবেন। উক্ত রায়ের প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগ কারচুপি করেছে। আপিল বিভাগের বলা উচিত ছিল যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ বা হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ, যাঁরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী কোনো কাজ করেন না, উনারাই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ ফতওয়া দিতে পারবেন; আর যা শরীয়তসম্মত তাতে সকল জনগণ একমত বলে সম্মতি পোষণ করবেন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে