‘ড্রোন হামলা নির্দোষ মানুষদের হত্যা করছে’ ।


কৃষকদের একটি দল নিত্য দিনের মতো কাজ করতে মাঠে যাচ্ছেন। হঠাৎ আকাশ থেকে তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হলো। অনেক দূর আকাশে থাকায় হামলাকারী ড্রোনটি দেখতে পাচ্ছিলেন না তারা যাতে কোথাও আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু নির্দয় ড্রোনটি দূর থেকেই অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে তাদের হত্যা করে। অথচ তাদের কেউই জঙ্গি ছিলেন না!

পাকিস্তানের দুর্গম উপজাতীয় এলাকা উত্তর ওয়ারিজিস্তানসহ এ অঞ্চলে সিআইএ’র এ ধরনের ড্রোন হামলা নিয়মিত ঘটনা বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক দল।

মার্কিন ড্রোন হামলায় নিরপরাধ পাকিস্তানিদের হত্যা করা হচ্ছে অভিযোগ করে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই সংগঠনটি জানায়, শুধু পাকিস্তানই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের চালকবিহীন বিমান হামলায় অন্যসব অঞ্চলের নিরপরাধ মানুষরাই নিহত হচ্ছেন।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলে, “যে সকল মানুষ নিত্য দিনের মতো কাজ করতে বের হন তারাই এ ধরনের নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক হামলা শিকার হচ্ছেন।”

বিবৃতিতে জানানো হয়, “যেহেতু পাকিস্তানের ঐ অঞ্চলের (ওয়ারিজিস্তান) পশতু-ভাষীরা তালেবানদের মতোই পোশাক পরেন সেহেতু হামলাকারীরা নির্বিচারে তাদের ওপর হামলা চালায়।”

জাতিসংঘ জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮ হাজার চালকবিহীন বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দূরযন্ত্রের (রিমোট কন্ট্রোল) মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তারা শুধু একটি ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে ঐ নির্বোধ যন্ত্রটিকে পরিচালনা করে, যেটা সাধারণ মানুষ আর জঙ্গির পার্থক্য করতে জানে না।”

সম্প্রতি ‘নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশন’ নামের আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন জানায়, “২০০৪ সালের পর থেকে পাকিস্তানে চালকবিহীন ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২৭৯ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ শতাংশ মানুষই জঙ্গি ছিলেন না।”

‘ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ নামে আরেকটি সংগঠন জানায়, “২০০৪ সালের পর থেকে পাকিস্তানে ৩৬৫টি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে যাতে ৩৫৭৭ জন মানুষ মারা যান। এদের মধ্যে ৮৪৪ জনই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।”

পাকিস্তান যদিও এ ধরনের হামলাকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে, তথাপি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে