তথাকথিত আশেকে রসূল শাহ আলমের আপত্তিকর ও প্রতারণামূলক বক্তব্য এবং তার খণ্ডনমূলক জবাব (১)


তথাকথিত আশেকে রসূল শাহ আলম কর্তৃক সম্পাদিত “পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর আলোকে ছবি, খেযাব (কলপ) ও স্বর্ণ ব্যবহার নাযায়েজ নয়।” নামক চটি বইয়ের ২য় পৃষ্ঠায় লিখেছে, “পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ছবি বা প্রতিকৃতি সম্পর্কে বেশ দলীল পাওয়া যায়। ছবি বা প্রতিকৃতি নিষিদ্ধ কুরআন শরীফ-এর কোথাও নেই। তারপরও হযরত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দোহাই দিয়ে হযরত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ বলে মিথ্যা হাদীছ বর্ণনা করে ছবিকে হারাম করা হয়েছে। ইহা একমাত্র উমাইয়া খলীফাদের চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র। নাঊযুবিল্লাহ।

খন্ডনমূলক জবাব

বাতিলপন্থী তথাকথিত এ আর শাহ আলম-এর উক্ত বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, তার উক্ত বক্তব্যগুলি চরম কুফরীমূলক, বিভ্রান্তিকর, জালিয়াতীপূর্ণ ও প্রতারণামূলক হয়েছে। কারণ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কোথাও প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি জায়িযের পক্ষে কোন দলীল নেই। বরং ছবি হারাম বা নাজায়িজের পক্ষে পরোক্ষভাবে তথা কুরআন শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হাজার হাজার দলীল রয়েছে।

মিথ্যাবাদী প্রতারক বাতিলপন্থী শাহ আলম প্রাণীর ছবি হারাম সম্পকির্ত হাদীছ শরীফসমূহকে মিথ্যা হাদীছ আখ্যায়িত করে ছবিকে জায়িয করার অপপ্রয়াস করেছে। তার উক্ত ভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে হয় যে, মুহাক্কিক মুদ্দাক্কিক হক্কানী রাব্বানী ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাই প্রাণীর ছবি হারাম সম্পর্কিত হাদীছ শরীফগুলো উনাদের ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে তথা ছিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য ছহীহ কিতাবসমূহে ছহীহ বা বিশুদ্ধ রিওয়ায়েতে বর্ণনা করেছেন। যা অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। আর ছবি হারাম বা নাজায়িয হওয়ার বিষয়ে উক্ত কিতাবসমূহে আলাদা পরিচ্ছেদও লিপিবদ্ধ হয়েছে।

অতএব, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোহাই দিয়ে মিথ্যা বা জাল হাদীছ বর্ণনা করেননি, বরং ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতেই প্রাণীর ছবিকে হারাম বা নাজায়িয বলেছেন। মূলত সত্যিকার অর্থে প্রবঞ্চক, প্রতারক, ভ্রষ্ট, বাতিলপন্থী এ আর শাহ আলম-ই মিথ্যা ও জালিয়াতীর আশ্রয় নিয়ে কুট-কৌশলে ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে দোষারূপ করে ছবিকে জায়িয করার অপচেষ্টা করেছে মাত্র।

উল্লেখ্য, উমাইয়া খলীফার অধিকাংশরাই ফাসিক ও ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী ছিল বলে তাদের প্রভাবে ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হাদীছ শরীফ সংকলনে মিথ্যার আশ্রয় নিবেন’একথা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, হক্কানী ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফাসিক ও ভ্রান্ত খলীফা বা শাসকের আনুগত্য করতে পারেন না এবং বাস্তবেও আনুগত্য করেননি। তবে একটি চিরসত্য ইতিহাস জানতে হবে যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ সঙ্কলনের ব্যাপারে ব্যাপক কাজ হয়েছিল বিশিষ্ট তাবিয়ী খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সময়। যিনি ন্যায় নিষ্ঠাবান, ন্যায় বিচারক, মুত্তাক্বী- পরহেযগার ও আল্লাহওয়ালা খলীফা ছিলেন। আর সে সময়ই ছহীহ ও জাল হাদীছগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে শুধু ছহীহ হাদীছ শরীফসমূহ কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে আর জাল বা মিথ্যা হাদীছগুলোকে চিহ্নিত করে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যে সমস্ত হাদীছ শরীফ গ্রহণীয় সর্বজনমান্য ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিতাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে, তা উনারা ছহীহ সনদে বিশুদ্ধভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন। যা আমরা এখন কিতাব আকারে প্রাপ্ত হয়েছি। তাই উমাইয়া খলীফাদের কিছু ফাসিক ও ভ্রান্ত খলীফার দোহাই দিয়ে ঢালাওভাবে হাদীছ শরীফকে জাল বা মিথ্যা বলাতে এ আর শাহ আলম ও তার একান্ত অনুসারীরা কাফির বা মুরতাদ হয়ে গেছে। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১৮৬:২০)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে