তাবলীগ জামায়াতের শিক্ষা কত ভাগ ?


মূলত বর্তমানে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতে যা শিক্ষা দেয়া হয় তার মূল হচ্ছে- ছয়টি বিষয়। যেমন- (১) কলেমা, (২) নামায, (৩) ইলম ও যিকির, (৪) ইকরামুল মুসলিমীন, (৫) তাছহীতে নিয়ত, (৬) তাবলীগ বা নফরুন ফী সাবীলিল্লাহ। কলেমা শরীফ বলতে- শুধু মৌখিকভাবে শুদ্ধ করে কলেমা শরীফ শিক্ষা দেয়া হয়।

নামায বলতে- নামাযের নিয়ম-কানুন ও তার আনুসাঙ্গিক নেহায়েত জরুরী সূরা-ক্বিরাত এবং মাসয়ালা-মাসায়েল শিক্ষা দেয়া হয়।
ইলম বলতে- শুধু তাবলীগে নেসাবের কিতাব পড়ে শুনা ও শুনানো, যার মধ্যে রয়েছে কিছু ফযীলত সম্পর্কীয় বর্ণনা। আর যিকির বলতে বুঝায়-সকাল সন্ধায় তিন তাছবীহ পাঠ করা। তিনি তাছবীহ হচ্ছে- একশতবার ইস্তেগফার, একশতবার দরূদ শরীফ ও একশতবার সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার পাঠ করা।
ইকরামুল মুসলিমীন বলতে- মুসলমানদেরকে ইকরাম (সম্মান) করা সম্পর্কে জরুরী কিছু নিয়ম শিক্ষা দেয়া হয়।
তাছহীহে নিয়ত বলতে- মৌখিকভাবে নিয়ত শুদ্ধ করার জন্য তাকীদ দেয়া হয়।
তাবলীগ বলতে- যে যা জানে, তা অপরের নিকট প্রচার করার জন্য বলা হয়।
অথচ উপরোক্ত বিষয়সমুহের শিক্ষা আরো অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত, যা ইতিপূর্বের সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মূতল উপরোক্ত শিক্ষাসমূহ অর্থাৎ মক্তবের ওস্তাদ বা শিক্ষকগণই তাদের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মক্তবে বিশুদ্ধ নিয়তে কলেমা, নামায, সূরা-ক্বিরাত ও তার আনুসাঙ্গিক মাসয়ালা-মাসায়েল, আদব-কায়দা, দোয়া-দরূদ, তাছবীহ-তাহলীল ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকে।
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত যে শিক্ষা দিচ্ছে, তা হচ্ছে- মক্তবী বা প্রাথমিক শিক্ষা। মূলত: প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতে ইসলামের যে পাঁচটি বুনিয়াদ (ভিত্তি) রয়েছে, তার সব কয়টাও শিক্ষা দেয়া হয় না। শুধু মৌখিকভাবে কলেমা শরীফ শিক্ষা দেয়া হয়। আর নামায সম্পর্কে তার জরুরী কিছু নিয়ম-কানুন, সূরা-ক্বিরাত ও মাসয়ালা-মাসয়েল শিক্ষা দেয়া হয়।
আর নামায সম্পর্কে তার জরুরী কিছু নিয়ম-কানুন, সূরা-ক্বিরাত ও মাসয়ালা-মাসায়েল শিক্ষা দেয়া হয়্। রোযা, হজ্জ ও যাকাত সম্পর্কে কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না। অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
بنى الاسلام على خمس شهادة ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله اقام الصلاة ايتاء الزكوة والحج والصوم رمضان.
অর্থ : “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি- (১) এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ বা মা’বুদ নেই এবং নিশ্চয়ই হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বান্দা ও রসূল, (২) নামায ক্বায়িম করা, (৩) যাকাত দেয়া, (৪) হজ্জ পালন করা, (৫) রমাদ্বান শরীফের রোযা রাখা।” (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত, ওমদাতুল ক্বারী, ফতহুল বারী, ইরশাদুস সারী, শরহে নববী, মেরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুমযাত, শরহুত ত্বীবী, মোযাহেরে হক্ব, তা’লীকুছ ছবীহ)
যেখানে ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে তিনটি (রোযা, হজ্জ ও যাকাত) সম্পর্কে কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না, আর বাকী দু’টি সম্পর্কেও নেহায়েত মক্তবী বা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যতীত কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না, আর বাকী দু’টি সম্পর্কেও নেহায়েত মক্তবী বা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যতীত কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না, সেখানে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত কিভাবে (হক্ব) আসল ও একমাত্র নাযাতের পথ হতে পারে?

এখন ইসলামী শিক্ষা ও প্রচলিত তাবলীগ জামাতের শিক্ষার পরিমাণ অপর পৃষ্ঠায় পেশকৃত একটি ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো-
ইসলামী শিক্ষার মান-১০০
ইলমে ফিক্বাহ = মান ৫০
ইলমে তাছাউফ = মান ৫০
যা প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতে অনুপস্থিত
আক্বাইদ = মান ১২.৫০
যার, প্রায় সম্পূর্ণটাই তাদের মধ্যে অনুপস্থিত।
ইবাদত = মান ১২.৫০
মুয়ামেলাত = মান ১২.৫০
এ সম্পর্কিত কোন শিক্ষাই দেয়া হয় না।
মুয়াশেরাত = মান ১২.৫০

কালেমা = মান ২.৫০
নামায = মান ২.৫০
রোযা = মান ২.৫০
রোযা সম্পর্কিত শিক্ষা সম্পূর্ণই অনুপস্থিত।
হজ্জ = মান ২.৫০
হজ্জ সম্পর্কিত শিক্ষা সম্পূর্ণই অনুপস্থিত।
যাকাত = মান ২.৫০
যাকাত সম্পর্কিত শিক্ষা সম্পূর্ণই অনুপস্থিত।
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের শিক্ষার মান
কালেমা = মান ২.৫০
কলেমা সম্পর্কে তেমন কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না। শুধুমাত্র শুদ্ধ করে মৌখিকভাবে শিক্ষা দেয়া হয়। আক্বীদা সম্পর্কে কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না। যা মান হিসাবে ১% ও নয়।

নামায = মান ২.৫০
নামায সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই শিক্ষা দেয়া হয় না। শুধুমাত্র জরুরী কয়েকটি সূরা-ক্বিরাআত মুখস্ত করানো ও কিছু মাসায়েল শিক্ষা দেয়া হয়। এও মান হিসাবে ১% থেকে বেশি হবে না।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে