তারাপুর চা বাগান হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি; নাকি মুসলমানদের লাখেরাজ সম্পত্তি? প্রকৃত ইতিহাস কি বলে?


 

লাখেরাজ সম্পত্তি বলা হয় নিষ্কর বা শুল্ক মুক্ত ভূমিকে। মুসলিম শাসন আমলে মুসলিম শাসকগণ কর্তৃক এ অঞ্চলের মুসলিম ছূফী-দরবেশ ও আলিম-উলামা উনাদেরকে প্রশাসনের তরফ থেকে নিষ্কর অর্থাৎ বিনা খাজনায় হাজার হাজার বিঘা সম্পত্তি দেয়া হতো; যাতে করে উনারা নির্বিঘ্নে ইসলামী শিক্ষা-দিক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকেন, উনাদের আয়-রোজগারের কোনো চিন্তা-ভাবনা করতে না হয়। এ সকল সম্পত্তিকেই লাখেরাজ সম্পত্তি বলা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক এম.আর আখতার মুকুল তার “কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী” গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা যখন ভারতবর্ষের শাসণভার হাতে তুলে নেয়; তখন তারা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামক এক আইনের মাধ্যমে মুসলিম ছূফী-দরবেশ ও আলিম-উলামা উনাদের এসকল নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করে তা বিভিন্ন হিন্দু কর্মচারীদের দিয়ে কথিত তাদের জমিদারে রূপান্তর করে। নাউযুবিল্লাহ! আজকে সিলেটের তারাপুর চা বাগান নিয়ে যে কথা হচ্ছে সেটাকে হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি বলে দাবি করছে কিছু স্বার্থন্বেষী মহল। অথচ এই সম্পত্তিটা মুসলমানদের লাখেরাজ সম্পত্তি ছিল। ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশদের অধীনে আসে তখন সি কে হাডসন ছিলো সিলেটে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির খাজনা আদায়কারী সাধারণ কর্মচারী মাত্র। আর যে বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্তের সূত্র ধরে দেবোত্তর সম্পত্তি বলা হচ্ছে সেই বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত (বিসি গুপ্ত) ছিলো ব্রিটিশ কর্মচারীদের কর্মচারী। তখন এই সম্পত্তিটি হাডসন এই বৈকুণ্ঠকে দান করেছিল। অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বারা মুসলমানদের থেকে জোরপূর্বক দখলকৃত জমি কোম্পানির খাজনা আদায়কারী কর্মচারী সি কে হাডসন তার আজ্ঞাবহ কর্মচারী বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্তকে জালিয়াতি করে দিয়ে যায়। অর্থাৎ প্রকৃত ইতিহাস অনুসারে সিলেটের তারাপুরের এই চা বাগান ছিল মুসলমানদের লাখেরাজ সম্পত্তি, হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি নয়। সুতরাং সিলেটের তারাপুর চা বাগানের প্রকৃত মালিক মুসলমানরাই। সুবহানাল্লাহ!
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে