তারাবীহর নামায নিয়ে আমি ও এক লা মাযহাবীর কথোপকথন


আমিঃ আসসালামু আলাইকুম
লা মাযহাবীঃ ওয়ালাইকুম (রাগত স্বরে)
আমিঃ সামনে তো পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসতেছে
লা মাযহাবীঃ হুম
আমিঃ আচ্ছা ভালো কথা! আপনারা তারাবীহর নামায ৮ রাকায়াত পড়েন কেন? তারাবীহর নামায তো ২০ রাকায়াত।
লা মাযহাবীঃ কে বলছে ২০ রাকায়াত? বুখারী শরীফ এ স্পষ্ট ৮ রাকায়াত লিখা আছে।
আমিঃ আপনি যে হাদীছ শরীফ উনার কথা বলছেন সেটা তো তারাবীহর নামাযের দলীল না, তাহাজ্জুদ নামাযের দলীল।
লা মাযহাবীঃ আপনারে কে বলছে?
আমিঃ সেটা যদি তারাবীহর নামাযের দলীলই হতো তাহলে তাহাজ্জুদ নামায অধ্যায়ে উল্লেখ করা কেন?
লা মাযহাবীঃ (চুপ)
আমিঃ সেই হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তো পবিত্র রমাদ্বান শরীফ ও রমাদ্বান শরীফ মাসের বাইরে ৮ রাকায়াত নামাযের কথা লিখা। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের বাইরে কি তারাবীহর নামায আছে?
লা মাযহাবীঃ (চুপ)
আমিঃ আপনার সেই হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মোট এগার রাকায়াত নামাযের কথা লিখা আছে। ধরে নিলাম, তারাবীহর নামায ৮ রাকায়াত, আপনারা তো বিতির নামায ১ রাকায়াত পড়েন । তাহলে ৮+১=৯ হলো,বাকী ২ রাকায়াত কিসের নামায?
লা মাযহাবীঃ (রাগত স্বরে) এত কথা বলেন কেন?
আমিঃ আমি তো ভুল কিছু বলেননি।
লা মাযহাবীঃ আমার ইচ্ছে আমি ৮ রাকায়াত পড়বো, আপনার সমস্যা আছে?
আমিঃ না! আপনি ৮ রাকায়াত পড়েন আর ৪০ রাকায়াত পড়েন সেটা আপনার ইচ্ছা। কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্ত করেন কেন?
লা মাযহাবীঃ কই বিভ্রান্ত করলাম?
আমিঃ কেনো! আপনারা সারাদিন তারাবীহর নামায ৮ রাকায়াত বলে চিল্লায়া বেড়ান না?
লা মাযহাবীঃ (চুপ)
আমিঃ আচ্ছা! আপনি তারাবীহ নামায কি মসজিদে গিয়ে পড়েন?
লা মাযহাবীঃ অবশ্যই
আমিঃ তাহলে আপনার খতমে তারাবীহ হয়?
লা মাযহাবীঃ কেন হবে না?
আমিঃ কি ভাবে হয়! আপনি তো ৮ রাকায়াত পড়েন চলে যান, বাকী ১২ রাকায়াত তো পড়েন না , তাহলে খতমে তারাবীহ কি ভাবে হয়?
লা মাযহাবীঃ (চুপ)
আমিঃ আচ্ছা আরেকটা কথা, কুরআন শরীফ এ রুকু কয়ট জানা আছে?
লা মাযহাবীঃ কেন! ৫৪০ টা
আমিঃ এই ৫৪০ টা রুকু কেন করা হয়েছে জানা আছে?
লা মাযহাবীঃ না !
আমিঃ ৫৪০ টা রুকু করা হয়েছে কারণ ২৭ দিনে খতমে তারাবীহ শেষ করা হয়, সে হিসেবে প্রতিদিন ২০ রাকায়াতে ২০ রুকু পড়া হয়। তাই ২৭ x ২০ = ৫৪০
লা মাযহাবীঃ ধুর! আপনার সাথে কথা বলে আমার সময় নষ্ট
(অতপর লা মাযহাবীর লেজ তুলে প্রস্থান …………)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+